চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৯:১১ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:০৪ পিএম
শুরুতে চাপে পড়লেও একপ্রান্ত আগলে ছিলেন
ওপেনার উইল ইয়াং। মিডল অর্ডারে তাকে অনুসরণ করেন উইকেটকিপার ব্যাটার টম ল্যাথাম। দলের
প্রয়োজনে দুজনেই পান দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। আর শেষদিকে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে দারুণ ফিফটি হাঁকান
গ্লেন ফিলিপস। তাতেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩২০ রানের বড় সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড।
বুধবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী
ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে
স্কোরবোর্ডে ৩২০ রান করে নিউজিল্যান্ড। ওপেনার ইয়াং ১০৭ রানে ফিরে যান। তবেও শেষ পর্যন্ত
ক্রিজে থেকে ১১৮ রান করেন ল্যাথাম। এছাড়া ফিলিপসের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ বলে ৬১ রানের
ক্যামিও ইনিংস।
করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে এদিন টস
জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। ব্যাটিংয়ে
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে শুরুতে দেখেশুনে খেলতে থাকেন দুই ওপেনার উইল ইয়ং ও ডেভন কনওয়ে।
এরপর সময়ের সাথে খোলস ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তবে হঠাৎই খেই হারিয়ে বসে কিউইরা।
অষ্টম ওভারে আবরার আহমেদের বলে বোল্ড
হয়ে বিদায় নেন কনওয়ে। সাজঘরে ফেরার আগে বাঁহাতি এই ব্যাটার ১৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ১০
রান করেন। পরের ওভারে নাসিম শাহর বলে রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে দেন কেন উইলিয়ামসন।
২ বলে মাত্র ১ রানেই বিদায় নেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ব্যাটার।
চারে নামা ড্যারি মিচেলের ব্যাটও হাসেনি
এদিন। ব্যক্তিগত ১০ রানে হারিস রউফের বলে শাহিন শাহ আফ্রিদির তালুবন্দি হয়ে প্যাভিলিয়লের
পথ ধরেন তিনি। ৭৩ রানে ৩ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে এরপর হাল ধরেন ইয়ং ও ল্যাথাম।
চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১২৬ বলে ১১৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
৩৫তম ওভারে ১০৭ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের
চতুর্থ সেঞ্চুরি তুলে নেন ইয়াং। তবে ডানহাতি এই ব্যাটার এরপর বেশিদূর এগোতে পারেননি।
৩৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে বদলি ফিল্ডার ফাহিম আশরাফের ক্যাচে নাসিম শাহর দ্বিতীয় শিকারে
পরিণত হন ইয়ং। ১২টি চার ও ১টি ছয়ের সুবাদে তার ব্যাট থেকে আসে ১০৭ রানের দুর্দান্ত
এক ইনিংস।
ইয়ং বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে লড়াই
চালিয়ে যেতে থাকেন ল্যাথাম। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন গ্লেন ফিলিপস। এই দুজনে পঞ্চম উইকেটে
গড়েন ১২৫ রানের জুটি। ইনিংসের শেষ ওভারে ৩৯ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ব্যক্তিগত ৬১ রানে
রউফের বলে ফখর জামানের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন ফিলিপস।
তবে দীর্ঘ ৭৮৪ দিন ও ৭৯ ইনিংস পর সেঞ্চুরির
স্বাদ পাওয়া ল্যাথাম ১১৮ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ১০৪ বলের ইনিংসটি সাজানো ৩ ছক্কা
ও ১০ চারে। ওয়ানডেতে এটি ল্যাথামের অষ্টম সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে সবশেষ শতকের স্বাদ
পেয়েছিলেন ২০২২ সালের নভেম্বরে, ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ১৪৫।
সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিরল এক কীর্তিতেও
নাম লিখিয়েছেন ল্যাথাম। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তৃতীয় কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি
করলেন ৩২ বর্ষী বাঁহাতি এই ব্যাটার। ২০০২ আসরে ভারতের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি
ফ্লাওয়ার ১৪৫ ও ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা অপরাজিত
১৩৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।
ইয়াং-ল্যাথামের সেঞ্চুরিতে শেষ পর্যন্ত
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ইতিহাসে সপ্তম সর্বোচ্চ ৩২০ রানে শেষ হয় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
পাকিস্তানের পক্ষে ২টি করে উইকেট তুলে নেন নাসিম শাহ ও হারিস রউফ। ১টি উইকেট পান লেগস্পিনার
আবরার আহমেদ। তবে কোনো উইকেটের দেখা পাননি বাঁহাতি পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।
সংক্ষিপ্ত স্কোরনিউজিল্যান্ড : ৫০ ওভারে ৩২০/৫ (টম ল্যাথাম ১১৮*, উইল ইয়াং ১০৭, গ্লেন ফিলিপস ৬১; নাসিম শাহ ২/৬৩, হারিস রউফ ২/৮৩, আবরার আহমেদ ১/৪৬)টস : পাকিস্তান