চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৯:১৩ এএম
আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত আট জাতির এই টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছিল তারা। ফাইনালে ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিরোপা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর ম্যান ইন গ্রিনরা। এদিকে সম্প্রতি স্বাগতিক পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে ত্রিদেশীয় শিরোপা জিতেছে নিউজল্যান্ড। এই সাফল্য বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে কিউই শিবিরে।
কদিন আগেই ঘরের মাঠেই ত্রিদেশীয় সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে দুবার হারের মুখে পড়ায় উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে বেশ সতর্ক পাকিস্তান। কিউইদের সমীহ করে পাক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড শক্তিশালী দল। ভালো ছন্দে আছে। সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজে আমরা দু’বার নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছি। এজন্য নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক । তারপরও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চাই আমরা।’
এদিকে দীর্ঘ ২৯ বছর পর ঘরের মাঠে আইসিসির কোন ইভেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে ভারত ও শ্রীলংকার সাথে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল তারা। এরপর ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পুরুষদের ২৭টি প্রতিযোগিতা আয়োজন করলেও পাকিস্তান আয়োজক হওয়ার সুযোগ পায়নি।
দীর্ঘ সময় পর আইসিসি ইভেন্ট ফেরায় উচ্ছ্বসিত রিজওয়ান শিরোপা ধরে রাখতে চান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দিন পর পাকিস্তানের মাটিতে কোন আইসিসির ইভেন্ট হতে যাচ্ছে। এটি নিয়ে আমরা সবাই দারুন উচ্ছ্বসিত। পাশপাশি মাঠের লড়াইয়ে নামতে আমরা মুখিয়ে আছি। নিজেদের সেরা পারফরমেন্স প্রদর্শনে আমরা প্রস্তুত। শিরোপা ধরে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিরোপা ধরে রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট হওয়ায় আমরা এক ধাপ এগিয়ে আছি। পরিচিত কন্ডিশনে সব দলই বাড়তি সুবিধা পায়। আমরাও ব্যতিক্রম নই। কিন্তু আসল বিষয় হলো, ব্যাট-বল হাতে সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। দলের জয়ের জন্য অবদান রাখতে হবে, তাহলেই সাফল্য ধরা দিবে।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে দুবার হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে আবারও পাকিস্তানকে হারিয়ে হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাদ নিতে চায় কিউইরা। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন, ‘শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করবো। প্রথম ম্যাচের স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে হবে আমাদের। ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হবে না। পাকিস্তান খুবই শক্তিশালী দল। তাদের দলে বিশ্ব সেরা ব্যাটার-বোলার আছে। তবে সদ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবার জিতেছি আমরা। ঐ দুটিই জয়ই আমাদের আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। আশা করি টানা তৃতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে সক্ষম হবো আমরা।’
ওয়ানডে এখন পর্যন্ত ১১৮ বার মুখোমুখি হয়েছে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। যেখানে জয়ের পাল্লা ভারী পাকিস্তানের দিকে। তাদের ৬১টি ম্যাচে জয়ের বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের জয় ৫৩ ম্যাচে। আর ১টি ম্যাচ টাই ও ৫টি পরিত্যক্ত হয়েছে। তাই পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ফর্ম নিজেদের পক্ষে কথা না বললেও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।
ব্যাট হাতে দারুণ ফর্মে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং স্তম্ভ কেন উইলিয়ামসন। বল হাতে ছন্দে আছেন দুই পেসার পিটার ও’রোর্ক ও ম্যাট হেনরি। টপ অর্ডারে টম ল্যাথাম, রাচিন রবিন্দ্র, আর মিডল অর্ডারে ডারিল মিচেল রান পেলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে শিরোপা জেতা অসম্ভব কিছু নয়। ব্লাক ক্যাপদের তুরুপের তাস হতে পারেন অলাউন্ডার গ্লেন ফিলিপসও। তবে কিউইদের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে পেস ইউনিট।
চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে আগেই ছিটকে গিয়েছিলেন পেসার বেন সিয়ার্স। তার বদলে অনভিজ্ঞ জেকব ডাফিকে দলে নেওয়া হয়। এদিকে টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার ২৪ ঘণ্টা আগে আরেক তারকা পেসার লকি ফার্গুসনও চোট থেকে সেরে উঠেননি। তাই তার বদলে আরেক ডানহাতি পেসার কাইল জেমিসনকে দলে নেওয়া হয়েছে। যিনি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচের পর থেকে আর ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলেননি।
নিউজিল্যান্ডের কাছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা হারলেও ফর্মে রয়েছে পাকিস্তানও। সবশেষ ১০ ওয়ানডেতে ৭টি জয় পেয়েছ তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে রেকর্ড ৩৫২ রান তাড়া করে জয়ের কীর্তিও গড়েছে রিজওয়ান-বাবররা। তবে দুর্বলতাও আছে পাকিস্তানের। ব্যাটিংয়ে বিচ্ছিন্নভাবে ক্রিটেটাররা রান পেলেও ধারাবাহিকতার বড্ড অভাব। শুধু সালমান আলী আগা ছিলেন ব্যতিক্রম। তবে শাহীন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ, নাসিম শাহদের নিয়ে গড়া পেস ডিপার্টমেন্ট জ্বলে উঠলে যে কোনো দলকে হারাতে পারে পাকিস্তান।
আট দলের টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সাথে আছে ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। ‘বি’ গ্রুপের দলগুলো হলো- অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান। দুই গ্রুপের সেরা চার দল সেমিফাইনাল খেলবে। ৯ মার্চ ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এই প্রতিযোগিতার। পাকিস্তানের তিন ভেন্যু করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোর এবং নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আসরে মোট ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে । সবগুলো ম্যাচই হবে দিবা-রাত্রির।