লা লিগা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫০ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২০:৫১ পিএম
লা লিগার ডার্বিতে ১-১ ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ-আতলেটিকো মাদ্রিদকে। তাতেই পর্দার আড়ালে মুচকি হাসি বার্সা সমর্থকদের। এই ড্রয়ে লা লিগার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেসে ভালোভাবেই টিকে থাকল হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। গতকাল শনিবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নামার সময় রিয়ালের পয়েন্ট ছিল ২২ ম্যাচে ৪৯। সমান ম্যাচে আতলেটিকোর ৪৮। সমীকরণ বলছিল, যে দল জয়ী হবে তারা একাধিক পয়েন্টে এগিয়ে যাবে। এমন সুবর্ণ সুযোগ দুই পক্ষের কেউ কাজে লাগাতে পারেনি। তাতে ২২ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট পাওয়া বার্সা শিবিরে স্বস্তি।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের রেফারিং নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। ম্যাচের
প্রথমার্ধে আতলেটিকো মাদ্রিদ যে গোলে এগিয়ে যায়, সেটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। পেনাল্টিটা
এসেছে অঁরেলিয়ে চুয়ামেনির ফাউল থেকে। রিয়ালের ফরাসি ডিফেন্ডার বক্সে আতলেটিকোর স্যামুয়েল
লিনোকে ফাউল করেন। রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। ব্যাপারটি
এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন রিয়াল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ছাইচাপা আগুন একটা পর্যায়ে বেরিয়েই
এলো। বলেছেন, ‘আতলেটিক-জিরোনা ম্যাচেও আরেকটি পেনাল্টি দেখেছি আমি… ফুটবলের লোকেরাই
এসব বুঝতে পারছে না।’ তবে আতলেটিকোর কোচ দিয়েগো সিমেওনের মতে, রেফারি সম্ভাব্য সেরা
পথেই পরিস্থিতি সামলেছেন।
ম্যাচের ৩১ মিনিটে রিয়ালের বক্সে চুয়ামেনির বাড়ানো পা গিয়ে লাগে স্যামুয়েল লিনোর পায়ের অগ্রভাগে। তবে বল সরে গিয়েছিল আগেই। রেফারি বেশ কিছুক্ষণ সময় নিয়ে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান। আনচেলত্তির চোখেমুখে তখনই ছিল অবিশ্বাসের ছাপ। বাঁকা হাসিও খেলে যায় তার ঠোঁটে। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, এটা পেনাল্টি হতে পারে না। হুলিয়ান আলভারেজের পেনাল্টিতে আতলেটিকো এগিয়ে যাওয়ার পর ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, ‘বলতেই হবে ম্যাচের প্রথম গোলটি বিতর্কিত।’
‘রেফারি নিয়ে কথা বলতে চাই না। পেনাল্টি দিয়েছিল ভিএআর। এ রকম আরেকটা পেনাল্টি দেখলাম আতলেটিক-জিরোনা ম্যাচে। (আসলে) ফুটবলের মানুষজন এসব বোঝেনা। আমি এখন বিতর্কের মধ্যে যেতে চাই না, যেটা এর মধ্যেই অনেক বড় হয়ে গেছে।’
কার্লো আনচেলত্তি
কোচ, রিয়াল মাদ্রিদ
ম্যাচ শেষে এ নিয়ে বিরক্তিও প্রকাশ করেন আনচেলত্তি, ‘আমি রেফারি নিয়ে কথা বলতে চাই না। পেনাল্টি দিয়েছিল ভিএআর। রেফারি খুব কাছ থেকেই ঘটনা দেখেছিল। আমি এ রকম আরেকটা পেনাল্টি দেখলাম আতলেটিক-জিরোনা ম্যাচে। (আসলে) ফুটবলের মানুষজন এসব বোঝে না। আমি এখন বিতর্কের মধ্যে যেতে চাই না, যেটা এর মধ্যেই অনেক বড় হয়ে গেছে।’
ম্যাচের আগে আনচেলত্তি বলেছিলেন, রিয়ালে এখন জরুরি অবস্থা
চলছে। দানি কার্ভাহাল, ডাভিড আলাবা ও এদের মিলিতাও তো আগে থেকেই ছিলেন না। সম্প্রতি
চোটে পড়েছেন আন্টোনিও রুডিগারও। রক্ষণভাগের মূল চার ফুটবলারকে ছাড়া রক্ষণভাগ চলছে কোনো
রকমে জোড়াতালি দিয়ে। এই সুযোগে গত কিছু দিনে নজরকাড়া তরুণ রাউল আসেন্সিও অবশ্য দুর্দান্ত
পারফর্ম করেছেন এই ম্যাচেও। রিয়ালের এক পয়েন্ট পাওয়ায় বড় ভূমিকা আছে তার। সব মিলিয়ে
ম্যাচের ফলে খুব অখুশি নন রিয়াল কোচ। তবে পেনাল্টির কথা বললেন আবারও, ‘আমার মনে হয়,
আরও বেশি প্রাপ্য ছিল আমাদের। ম্যাচ আমাদের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণে ছিল, বক্সে ঢুকতে পেরেছি
আমরা, দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খুবই ভালো খেলেছি।’
সার্বিকভাবে রেফারির ওপর সন্তুষ্টই আতলেটিকো কোচ, ‘আমার
মনে হয়, রেফারি সম্ভাব্য সেরা উপায়েই পরিস্থিতি সামলেছেন। কারও কারও মতে তো সেবায়োসের
সরাসরি লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল… অন্তত ভিএআর দেখতে পারতেন রেফারি… তবে অনেকে এখানেও
দ্বিমত করবেন…। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এটি তার সিদ্ধান্তেরই ব্যাপার। দিনশেষে,
আমার মতে সব মিলিয়ে তিনি ভালোভাবেই সবকিছু সামলেছেন।’
রিয়ালের পরবর্তী মনোযোগ চ্যাম্পিয়নস লিগ ঘিরে। আগামীকাল
মঙ্গলবার নকআউট প্লে-অফের প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে রিয়াল।