হেলাল নিরব
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:৩৫ পিএম
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২৩:০০ পিএম
তামিমদের আরেকটি শিরোপা জয়ের নায়ক রিশাদকে কাঁধে তুলে নাচছেন ফরচুন বরিশালের খেলোয়াড়েরা— ছবি: আ. ই. আলীম
৪৬ ম্যাচের বিপিএলে বিতর্কের সংখ্যা ৪২। দুয়েকটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে বিতর্কের ডালপালা ছড়িয়েছে বহুদূর। দেশের মানচিত্র ফুঁড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বহির্বিশ্বে। শৌখিন দর্শকরা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি নতুন নামও দিয়েছেন। কেউ ডাকেন ‘বিতর্ক প্রিমিয়ার লিগ’, কারও মতে ‘বাজে প্রিমিয়ার লিগ’ কেউবা ‘বিশৃঙ্খলা প্রিমিয়ার লিগ’। সদ্য শেষ হওয়া আসরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চোখ রাখলে হয়তো ‘বিতর্ক প্রিমিয়ার লিগ’ নামটাকেই সামনে রাখবেন অনেকে।
‘নতুন বিপিএল’ তকমা নিয়ে শুরু হয়েছিল সাত দলের আসর। একসময় অবশ্য শঙ্কা জেগেছিল, ‘বাংলাদেশের অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজি আসর মাঠের মুখ দেখবে তো?’ সেই শঙ্কা সম্ভাবনা হয়ে দারুণভাবে ফুটে ওঠে। নতুন উদ্যোম, নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসে আসর। ঢাকা থেকে সিলেট হয়ে চট্টগ্রামে রানের ফোয়ারা ছোটে। বোলাররা সাফল্য পান, ব্যাটাররা চালান ধুন্ধুমার ব্যাটিং। জমে ওঠে বিপিএল। পাশাপাশি ঢাকা পর্ব শেষে বিপিএল সিলেটে পৌঁছালেই বিতর্কেরও শুরু। যার কয়েকটি আবার বেশ গুরুতর।
১১তম আসরে বিতর্কের তালিকায় সবার ওপরে থাকবে দুর্বার রাজশাহীর নাম। পাপনযুগের পর ফারুক আহমেদের সাজানো বিপিএলকে মাটি করতে যতটুকু দরকার, তার প্রায় সবটুকু করেছেন রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক শফিকুর রহমান। বিপিএলের উদ্বোধনী দিন থেকেই শুরু, যা এখনও চলছে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, বিসিবির হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তারা পারেননি। তাই দ্বারস্থ হতে হয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের। সেখান থেকে নিতে হয় পুলিশের সহায়তা। এখনও সমস্যার সমাধান হয়নি।
বিপিএলে সবচেয়ে চর্চিত বিষয়টি ছিল পারিশ্রমিক ইস্যু। আসর শুরুর দিনে রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল হককে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘টাকা না দিয়ে যাবে কোথায়।’ আশ্বাস রেখে শুনিয়েছিলেন বিসিবির কথা। সেই বিসিবিকেও থোড়াই কেয়ার করেছেন ভ্যালেন্টাইন গ্রুপের মালিক শফিকুর। প্রথমে টাকা না পেয়ে খেলোয়াড়েরা বয়কট করেন অনুশীলন। এরপর বিপিএলে নজিরবিহীন কাজটি করেন বিদেশি খেলোয়াড়রা। ম্যাচ খেলতে না এসে তারা অবস্থান নেন হোটেলে। বিসিবিকে বিশেষ ব্যবস্থায় ভাঙতে হয় আইন। দেশি খেলোয়াড় নিয়ে সেই দফা ম্যাচ খেললেও কাটেনি টাকা-পয়সার সংকট। বিদেশি খেলোয়াড়রা হোটেলে অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন। সেই ঘটনা পরে ক্রীড়া উপদেষ্টা হয়ে মৌখিকভাবে সমাধান হয়। পুলিশ হেফাজতে শফিকুর রহমান কথা দেন, তিন কিস্তিতে ক্রিকেটারসহ রাজশাহীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে টাকা দিয়ে দেবেন। যার পরের কিস্তি ১০ ফেব্রুয়ারি।
বিপিএলে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের জন্ম দেওয়া রাজশাহী লিগ পর্বেই ছিটকে যায়, তবে তাদের নিয়ে আলোচনা থামেনি। এ তো গেল টাকা না পাওয়ার বিতর্ক। বিপিএলে সবচেয়ে বড় বিতর্ক সামনে এসেছে ফিক্সিং ইস্যুতে। এনামুল হক, মোহাম্মদ মিথুন, থিসারা পেরেরাসহ ১০ ক্রিকেটারকে নিয়ে সন্দেহ হয়। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। খবর আসে, এবারের আসরে ২০ শতাংশের বেশি ম্যাচে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড হয়েছে। সেসবের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে চল্লিশের বেশি ক্রিকেটারকে অ্যান্টি করাপশন ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। সেই ঘটনাও বহুদূর গড়িয়েছে। বিসিবি তিন সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
বিপিএল শেষে কয়েকটি প্রশ্ন উঠতেই পারে— বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে যে কাণ্ড হয়েছে, তাতে এর রেশ যে সহসাই কাটবে না তা বলাই বাহুল্য। যাদেরকে আকসু সন্দেহ করল তাদের সবাই যে নিরপরাধ প্রমাণিত হবেন, এটা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আর পারিশ্রমিক ইস্যুতে বিপিএল, বিসিবি এবং বাংলাদেশের যে মান ক্ষুণ্ন হলো, তা পূরণ হবে কীভাবে? আজ শিরোপা ফয়সালার মধ্য দিয়ে বিপিএল তো শেষ হলো, কিন্তু বিতর্কগুলো কত দিনে থামবে— প্রশ্ন উঠতেই পারে!