বিপিএল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ ২২:৫৭ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে খারাপ করার নেপথ্যে রয়েছে দুর্বার রাজশাহী। বিপিএলের একাদশ আসরে নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি শুধুমাত্র ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত কারণেই একাধিকবার শিরোনামে এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী এখনও পারিশ্রমিক না পাওয়ায় সরব হয়েছেন দলটির ক্রিকেটাররাও। এরই মধ্যে ফের তাসকিন আহমেদ, এনামুল হক বিজয়দের চেক বাউন্সের অভিযোগ উঠেছে।
রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার ব্যাংকে দলের পক্ষ থেকে পাওয়া চেক জমা দিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। সেই চেকের টাকা আজ মঙ্গলবার পাওয়ার কথা থাকলেও কোনো টাকা পাননি ক্রিকেটাররা। এমনকি ব্যাংক থেকে কোনো তথ্যও আসেনি তাদের কাছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে এবারও চেক বাউন্স হতে পারে।
যদিও দুর্বার রাজশাহীর ম্যানেজার মেহেরাব হোসেন অপি ক্রিকেটারদের দেওয়া চেক বাউন্সের অভিযোগ মানতে চাননি। অবশ্য তিনি নিজেও টাকা পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন। অপি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ক্রিকেটাররা আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানাননি। কিংবা কেউ বলেনি যে চেক বাউন্স করেছে। যে জিনিসটা জানি না সেটি নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
এর আগে টাকা না পেয়ে চট্টগ্রাম পর্বে অনুশীলন বয়কট করেছিল রাজশাহীর ক্রিকেটাররা। পরে ২৫ শতাংশ টাকা বুঝে পেয়ে বন্দরনগরী পর্বের খেলা শেষ করে তাসকিন ব্রিগেড। তবে টুর্নামেন্ট ঢাকায় ফিরতেই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের জন্ম দেয় দলটির মালিক ভ্যালেন্টাইন গ্রুপ। বিল বাকি থাকায় গত রবিবার ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে হঠাৎই হোটেল পরিবর্তন করতে হয়।
এরপর ঘটে সবচেয়ে লজ্জার ঘটনা। প্রতিশ্রুত পারিশ্রমিক না পাওয়ায় ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন বিদেশি ক্রিকেটাররা। ফলে তাদের ছাড়াই সেদিন বিসিবির বিশেষ বিবেচনায় রাজশাহী ম্যাচ খেলেছে রংপুর রাইডার্সের বিরুদ্ধে। লোকাল একাদশ নিয়েই অবশ্য ২ রানে জেতে তারা। সবশেষ ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে জয়ের এই ম্যাচে অবশ্য দুই বিদেশিদলটির একাধিক ক্রিকেটার জানিয়েছেন নামেন।
তবে দুর্বার রাজশাহীর এই সাফল্যে খুশি তাদের কর্ণধার শফিকুর রহমান। দলের সাফল্যে আনন্দিত হয়ে তিনি প্লেয়ারদের বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। যে ফ্র্যাঞ্চাইজি প্লেয়ারদের বেতন দিতে পারছেন না, হোটেলের বিল মেটাতে পারছেন না, তারা বোনাস দেওয়ার ঘোষণা কীভাবে দেনÑ সেই প্রশ্ন তোলা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিসিবি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ফারুক আহমেদের বোর্ড এখন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার।