চ্যাম্পিয়নস লিগ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১১:৫১ এএম
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৫ ১২:২১ পিএম
এককথার উত্তরে যে কেউ বলবেন, এই পিএসজি অনবদ্য। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর এমন খেলা আগে খুব কমই দেখেছেন ফুটবল অনুরাগীরা। গতকাল বুধবার রাতে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও ম্যানচেস্টার সিটিকে তারা যেভাবে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে, তা প্রত্যাবর্তনের চেয়ে কম কি।
পেপ গার্দিওয়ালার বিপক্ষে পিএসজির ম্যাচটি ছিল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার। ৪-২ ব্যবধানে এই জয়ে অবশ্য শেষ ষোলোর আশা দারুণভাবে বাঁচিয়ে রাখল লুইস এনরিকের দল। পয়েন্ট তালিকায় ২৬ নম্বর থেকে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ২২ নম্বরে এল তারা। আর ৭ ম্যাচ শেষে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২৫ নম্বরে থাকা সিটি এই বাদ পড়াদের কাতারেই। আগামী বুধবার ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে বাঁচা-মরা মিশনে নামবে দ্য ব্লুজরা। ওই ম্যাচে পা হড়কালেই একদম গিরিখাতে।
রেসে টিকে থাকা, দুই বন্ধু গার্দিওয়ালা-এনরিকের শীতল যুদ্ধ ও পূর্ণ তিন পয়েন্ট দাবি- প্যারিসে বৃষ্টিভেজা রাতে এমন অনেক সমীকরণ মাথায় নিয়েই সিটিজেনদের মুখোমুখি হয়েছিল পিএসজি। পার্ক দে প্রিন্সেসে দর্শকরা সিটে নড়েচড়ে বসার আগেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমন শুরু করে দুই পক্ষ। প্রথম মিনিট থেকেই পূর্ণশক্তি প্রয়োগ করে তারা। ম্যাচের প্রথম সুযোগটা অবশ্য পিএসজিই পেয়েছিল। তবে সিটি গোলরক্ষক এদেরসন সে যাত্রায় বাঁচিয়ে দেন দলকে। ১০ মিনিটে আবার অল্পের জন্য সুযোগ হাতছাড়া করে পিএসজি। ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য কোনো গোলই হয়নি। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে জোরাল শটে সিটির জালে বল পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন আশরাফ হাকিমি। কিন্তু বিল্ডআপের সময় নুনো মেন্দেস অফসাইডে থাকায় গোলমুখ খুলেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পনেরো মিনিটে চার গোল হয়।যেখানে দুইটি করে গোল দেয় সিটি ও পিএসজি। শুরুটা করে ম্যানসিটি। ৫০তম মিনিটে পিএসজির জালে বল পাঠান বদলি হিসেবে নামা জ্যাক গ্রিলিশ। তার তিন মিনিট পরই আবারও গোল করে সিটি। এবারের গোল স্কোরার হালান্ড। গ্রিলিশের কাটব্যাকে প্রতিপক্ষের পা হয়ে ছয় গজ বক্সে বল পান তিনি, প্রথম স্পর্শে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। শোধ নিতে দেরি করেনি পিএসজি। ৫৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলে প্রথমে গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। এরপর ৬০ মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্রাডলি বারকোলা অবিশ্বাস্যভাবে সমতায় ফেরান পিএসজিকে।
সমতা ফিরিয়েও আর গতি কমায়নি পিএসজি। নান্দনিক ও পাসিং ফুটবল খেলে একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা। যার সুফল সিটি পায় ৭৮ মিনিটে, গোল করেন জোয়াও নাভাস। পিছিয়ে পড়া সিটি অবশ্য চেষ্টা করেছে ঘুরে দাঁড়ানোর। কিন্তু ভাগ্য আর ফেরেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে গনসালো রামোসের গোলে ৪-২ ব্যবধানে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
প্লে–অফ পর্বে উঠতে আগামী বুধবার ক্লাব ব্রুগার বিপক্ষে জিততেই হবে গার্দিওলার দলকে। জয় ছাড়া অন্য যে কোনো ফলেই বিদায় নিতে হবে ইংলিশ ক্লাবটিকে।
গার্দিওলাও জানেন তা, তাই ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ব্রুগার বিপক্ষে আমরা শেষ সুযোগ পাব। আমরা (প্লে–অফে) উঠতে না পারার অর্থ হচ্ছে আমরা সেটার যোগ্য নই।’
হারের কারণ হিসেবে গার্দিওলা বলেছেন, ‘বল দখলে রাখা অবস্থায় তারা নিচে নেমেছে। কিন্তু সমস্যা তো আমরাই তৈরি করেছি। ২-০ এর পরে বিশেষ করে ২-১ হওয়ার পর আমরা খেলতে পারিনি। আপনাকে তো বল নিয়ে খেলতে হবে এবং ওরা আমাদের চেয়ে ভালো ছিল।’