প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৫ ১৯:২১ পিএম
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উন্মোচন করা হয় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি; ছবি: আ. ই. আলীম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ব্যবস্থাপনা ও প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় সারা দেশে শুরু হয়েছে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে এবার দেশীয় স্কুল ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরটি বিবেচিত হচ্ছে। এবারকার আয়োজনে অংশ নিচ্ছে সারা দেশের মোট ৩৫১ স্কুলের সাত হাজারের বেশি খুদে ক্রিকেটার।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে দেশের ১০টি জেলায় পর্দা উঠেছে জেলা পর্যায়ের খেলা। এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে মোট ৬৫৭ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। জেলা পর্যায়ে ৫৮৫, বিভাগীয় পর্যায়ে ৫৭ ও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে হবে ১৫ ম্যাচ। জেলা পর্যায়ের খেলা শেষে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বিভাগীয় পর্যায়ের খেলা। এরপর আগামী ১০ এপ্রিল শুরু হবে জাতীয় পর্যায়ের খেলা।
এদিন মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এই অনুষ্ঠানেই উন্মোচন করা হয় জার্সি। এসময় বিসিবি পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা, প্রাইম ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজিম এ. চৌধুরী এবং সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স সৈয়দ রায়হান তারিক উপস্থিত ছিলেন।
বিসিবি পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা বলেন, ‘এবারের প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেটে আগের তুলনায় ট্যালেন্ট স্কাউটিং বাড়াবো। আমরা নিশ্চিত করব, প্রতিটা ভেন্যুতে জেলা কোচ বা তাদের প্রতিনিধিরা যেন প্রতিটা খেলায় মাঠে থাকে এবং প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের খুঁজে বের করে। এর পাশাপাশি স্কুলে যে ক্রিকেট কোচ বা গেম টিচার আছেন, তাদের জন্য আমরা ওরিয়েন্টন কোর্সেরও ব্যবস্থা করছি। দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
বিসিবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়; ছবি: আ. ই. আলীম প্রাইম ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাজিম এ. চৌধুরী বলেন, ‘স্কুল ক্রিকেট আমাদের জন্য অনেক বড় আবেগের জায়গা। দশ বছর ধরে এই টুর্নামেন্টের সাথে আছে প্রাইম ব্যাংক। এর বড় একটা প্রভাব আমরা দেখেছি যে স্কুল ক্রিকেট খেলা প্রায় দশ বারোজন ক্রিকেটার আছেন যারা সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছেন। দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক যে এগিয়ে চলা এবং তাতে তৃণমূল পর্যায়ের যে অবদান, সেটার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে প্রাইম ব্যাংক আনন্দিত ও গর্বিত। একইসাথে বিসিবিকে সাধুবাদ এমন একটা টুর্নামেন্ট সফলভাবে পরিচালনার জন্য।’
এবারের আসরে সারাদেশের ৩৫১ স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯২ স্কুল অংশ নিচ্ছে ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের ৬১, রাজশাহী বিভাগের ৪৬, রংপুর বিভাগের ৩৮, খুলনা বিভাগের ৪৮, বরিশাল বিভাগের ২৮, সিলেট বিভাগের ২০ আর ঢাকা মেট্রো থেকে অংশ নিচ্ছে ১৮ স্কুল। ৬৪ জেলার সেরা স্কুলের অংশগ্রহণে হবে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর ৭ বিভাগের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং ঢাকা মেট্রোর চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ১৬ দল অংশ নেবে জাতীয় পর্যায়ের খেলায়।
২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেটে এখনো পর্যন্ত অংশ নিয়েছে ৩১৫৭ স্কুল। দেশের সব প্রান্তে মাঠে গড়ানো ৫৫৪৪ ম্যাচে অংশ নিয়েছে ৬৭, ৫৩৫ স্কুল ক্রিকেটার। যা বাংলাদেশের যে কোন পর্যায়ের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ। এছাড়া প্রতিবছর প্রাইম ব্যাংক ন্যাশনাল স্কুল ক্রিকেট শেষে বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের নির্বাচকদের নির্বাচনের ভিত্তিতে সেরা ১৫ ক্রিকেটারকে বৃত্তি দিয়ে আসছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাজধানীর কদমতলা পূর্ব বাসাবো স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আর রানার্সআপ পিরোজপুরের সরকারি কেজি ইউনিয়ন হাইস্কুল।