প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২৩:৪২ পিএম
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ ২৩:৪৬ পিএম
ছবি: আ. ই. আলীম
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গত ১০ নভেম্বর বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পর্দা উঠেছিল জিয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টের। নানা ধাপ পেরিয়ে আজ রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পর্দা নামল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই টুর্নামেন্টের। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সিলেট বিভাগকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর বিভাগ।
এদিন টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ের নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে সিলেট৷ দলের পক্ষে ৪১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন ওয়াসিফ আকবর। জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার অলক কাপালি ব্যাট হাতে গোল্ডেন ডাক মারেন। বল হাতে অবশ্য সফল ছিলেন তিনি, ২৫ রান খরচায় নিয়েছেন দুটি উইকেট। তবে দলকে কাঙ্খিত জয় এনে দিতে পারেননি সিলেট অধিনায়ক।
১৪৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় রংপুর। তবে যুব দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলা আব্দুল্লাহ আল মামুনের ব্যাটে চড়ে জয় পেতে সমস্যা হয়নি রংপুরের। এক প্রান্তে উইকেট হারাতে থাকলেও মামুনের দায়িত্বশীল ইনংসের উপর ভর করে ৪ বল আগে ৫ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেলে রংপুর। জয় থেকে ৭ রান দূরে থাকতে ৫৯ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৬৬ রানের ইনিংস খেলে আউট হন তিনি। এ ছাড়াও নবীনের ব্যাট থেকে আসে ৩০ রানের ইনিংস।
ম্যাচশেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ ও ব্যক্তিগত বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর৷ ফাইনাল সেরা হন রংপুরের অধিনায়ক মামুন ও টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন একই দলের অঙ্কন। এছাড়া সেরা বোলার হন সিলেটের সফর আলী ও সেরা ব্যাটার নির্বাচিত হন ঢাকার ব্যাটার রহমত।
মূলত বিভাগীয় পর্যায়ের খেলাগুলো বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় মূল পর্ব শুরু হয়। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১০টি বিভাগ মূলত বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগ। রাজশাহী, ফরিদপুর, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, ঢাকা, রংপুর ও সিলেট প্রতিটি সাংগঠনিক বিভাগেই লাল ও সবুজ নামে দুটি করে দল হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের দুটি দল নিজেদের মধ্যে একটি করে ম্যাচ খেলছে। ১০ ম্যাচের ১০ জয়ী দলের সঙ্গে মূল পর্বে যোগ হয়েছে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ দল। সেখান থেকেই ফাইনালে উঠেছে রংপুর বিভাগ ও সিলেট বিভাগ। যেখানে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসে রংপুর।
এর আগে ফাইনাল খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ, বিসিবি সাবেক কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইউসা মিশু, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাব সভাপতি ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, বিশিষ্ট ক্রীড়ানুরাগী মীর শাহে আলম, জিয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম বাবু, সদস্য সচিব দেবব্রত পাল, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল, রাজিন সালেহ, জিয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দপ্তর সম্পাদক ইবরাহিম খলিল, জুলাই বিপ্লব এ শহীদ মোহাম্মদ সানী'র পিতা মোঃ সাঈদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, জিয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে এদিন মিরপুর স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন বিএনপির শত শত নেতাকর্মী। মিরপুরে সাধারণত টিকিট ছাড়া দর্শকদের জন্য ম্যাচ উপভোগের সুযোগ দেওয়া হয় না। কিন্তু জিয়া টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল হোম অব ক্রিকেট। তবে বিএনপির পরিচিত নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের বসার জন্য ভিআইপি স্ট্যান্ডকে নির্ধারণ করা হয়।