প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:৪০ পিএম
আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫ ১৮:৪১ পিএম
টেস্ট ক্রিকেট রক্ষায় আইসিসিকে বিশেষ প্রস্তাব দিচ্ছে ক্রিকেটের তিন মোড়লÑ ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। সদ্যসমাপ্ত বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজের পর ‘দুই স্তর কাঠামো’ সাজানো নিয়ে আলোচনা জোর পেয়েছে বেশ। এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন ও ভারতীয় কিংবদন্তি রবি শাস্ত্রী।
সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের খবর, জানুয়ারিতে
রাজকীয় ফরম্যাটের দুই স্তরের কাঠামোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসবেন আইসিসি চেয়ারম্যান
জয় শাহ। এই কাঠামো প্রবর্তন করা হলে বাংলাদেশের মতো দলের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষ
দলগুলোর বিপক্ষে টেস্ট খেলা হবে না আর। যা আর্থিকভাবেও ক্ষতি করতে পারে দলগুলোকে। মূলত
এ ফরম্যাটে আলাদা হয়ে যাবে র্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ৭টি দল, বাকি ৫টি দল থাকবে দ্বিতীয় স্তরে।
দুই স্তরের কাঠামো নিয়ে এ মাসেই আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা।
টেস্টের দুই স্তর কাঠামো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি নাÑ
এ নিয়ে ধোঁয়াশা আছে ঢের। তবে এই খবর শুনে হতাশা প্রকাশ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক
অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুবারের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক বলেছেনÑ এই ‘বাজে
প্রস্তাব’ নিয়ে সব আলোচনা এখনই বন্ধ করা উচিত। ক্যারিবীয় কিংবদন্তি দুই স্তরের টেস্ট
বাস্তবায়িত হবে না বলেও বিশ্বাস করেন।
৮০ বছর বয়সি সাবেক এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আমার মনে হয়
না দুই স্তরের কাঠামো বাস্তবায়িত হবে। আমি এই খবর শুনে খুব বিরক্ত। এখনই এটাকে থামিয়ে
দেওয়া উচিত। এখানে তো ৩০-৪০টি দল নেই, দল মাত্র ১০টি (আসলে ১২টি)। আমাদের এমন একটা
কাঠামো থাকা উচিত, যেখানে সবাই নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবে।’
তিন মোড়লের প্রস্তাবনা নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন
বাংলাদেশ জাতীয় দলের টেস্ট স্পেশালিস্ট মুমিনুল হক। তিনিও ক্লাইভ লয়েডের মতো হতাশা
প্রকাশ করেছেন। গতকাল বুধবার ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটা হতাশাজনক
বিষয়। আমি কোনো দলকে ছোট করে দেখছি না। তবে লোয়ার টায়ারে কোন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা
হবে জানি না। দ্বিতীয় স্তরে ভালো করলে আমরা প্রথম স্তরে যেতে পারব কি নাÑ এটাও জানি
না। টেস্ট ম্যাচের সংখ্যাও কমে যাবে যা টেস্ট খেলোয়াড়দের জন্য অত্যন্ত হতাশার।’
দুই স্তরের কাঠামো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের মতো দলগুলো
বিপাকে পড়বে। আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা। এ নিয়ে মুমিনুল বলেন, ‘আমার মনে হয়
না এটা আমাদের জন্য ভালো কিছু হবে। ভালো ও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে না খেললে উন্নতি
হবে না, আপনি একই লেভেলে রয়ে যাবেন যদি নিজেরা নিজেদের মধ্যেই খেলেন। ভালো দলের বিপক্ষে
খেলা হলে তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার জন্য নিজেকে আরও ভালো অবস্থানে দেখতে চাইবেন,
দলকে আরও ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে চাইবেন।’
মুমিনুল মনে করেন, এই কাঠামো বাস্তবায়ন হলে সবাই ঝুঁকবে
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে, ‘এটা যদি হয়ে থাকে তাহলে টেস্ট ক্রিকেটের মূল্যই কমে যাবে।
টেস্টের সংখ্যাও কমে যাবে। খেলোয়াড়রা সাদা বলের ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকবে।’
দুই স্তর কাঠামো প্রস্তাবনা এখনও আলোচনার টেবিলে। মূলত
জয় শাহ আইসিসি চেয়ারম্যান হওয়ার পরই শুরু হয়েছে এমন পরিকল্পনা। দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত
কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়।