প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৩:০৮ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫ ১৪:৪৮ পিএম
ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছেন দুর্বার রাজশাহীর এনামুল হক বিজয় ও তাসকিন আহমেদ; ছবি: আ. ই. আলীম
মাঠের বাইরের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনায় বিদ্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টিকিট ঘিরে মিরপুরে হয়েছে তুলকালাম কাণ্ড। দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি এই টুর্নামেন্টের টিকিট না পেয়ে দর্শকদের কাউন্টার ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে মাঠের খেলায় সব বিতর্ককে ছাপিয়ে গেছে এবারের বিপিএল। টি-টোয়েন্টিতে ঠিক যেমন পারফরম্যান্স দর্শকরা চান, বিপিএলের প্রথম পর্বে তা-ই করে দেখিয়েছেন ক্রিকেটাররা। তাতে মিরপুরের ধীরগতির পিচের অপবাদটাও খানিকের জন্য হলেও ভুলে যেতে চাইবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
বিপিএলের একাদশ আসর মাঠে গড়ানোর আগের দিন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক ও দেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তামিম ইকবাল বলেছিলেন, ‘কেবল কনসার্ট ছাড়া ভিন্ন কিছু চোখে পড়ছে না।’ তবে টুর্নামেন্ট শুরু হতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এবারের আসরের ঢাকায় প্রথম পর্বের প্রতি ম্যাচেই দেখা গেছে চার-ছক্কার ফুলঝুরি। প্রথম আট ম্যাচে হয়ে গেছে দুটি সেঞ্চুরি। এ ছাড়া বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন আরও কয়েকজন। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যে চার দিন খেলা হয়েছে, এই দৃশ্যগুলো ছিল নিয়মিতই।
প্রতিবার বিপিএল শুরুর দিকে আলোচনা বেশি হতো রানখরা, দর্শকের শূন্যতা নিয়ে। এবার এখানে দেখা গেছে নতুন কিছু। আট ম্যাচে স্রেফ একবারই প্রথম ইনিংসে দেড়শ ছুঁতে পারেনি কোনো দল। সব মিলিয়ে ১৬ ইনিংসে ১৬০ ছাড়ানো স্কোর দেখা গেছে ৯টি। শুক্রবারের দুই ম্যাচেই মেলে সেঞ্চুরির দেখা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ছক্কা হয়েছে মোট ১৩২টি। ম্যাচপ্রতি দাঁড়ায় ১৬.৫টি। শেষ দুই দিন ঘন কুয়াশার মধ্যেও ৪ ম্যাচে ৫৮টি ছক্কা মারেন ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ৮ ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় সংগ্রহ ১৭৯.৫! মিরপুরের মাঠে যা অবিশ্বাস্যই বটে।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত সেঞ্চুরি হয়েছে দুটি। শুক্রবার দুই ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি এসেছে। চিটাগাং কিংসের উসমান খানের পর ঢাকার থিসারা পেরেরা সেঞ্চুরি পেয়েছেন। উসমান দলকে জেতাতে পারলেও থিসারা দলকে জেতাতে পারেননি। এদিকে, হ্যাটট্রিক না হলেও ফাইফারের দেখা পেয়েছেন বোলাররা। ঢাকা পর্বে শেষ হওয়া ৮ ম্যাচে ব্যাটে-বলে শীর্ষ পাঁচে বাংলাদেশিদের-ই জয়জয়কার। বোলিংয়ের শীর্ষ পাঁচের চারজনই বাংলাদেশি। শীর্ষ দশ হিসাব করলে বাংলাদেশের রয়েছেন ৯ জন। অন্যদিকে ব্যাটিংয়ের শীর্ষ পাঁচের তিনজন বাংলাদেশি।
ব্যাট হাতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান করেছেন দুর্দান্ত রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়। তিন ম্যাচ খেলে দুটি হাফ সেঞ্চুরিতে তার রান ১৪৬ রান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চিটাগাং কিংসের পাকিস্তানি ক্রিকেটার উসমান খান। শুক্রবারের এক সেঞ্চুরিতে তার রান ১৪১। একই রান করে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ঢাকার অধিনায়ক থিসারা পেরেরা। হাফ সেঞ্চুরি না থাকলেও থিসারার আছে একটি সেঞ্চুরি। বরিশালের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ৯৪ রানের ইনিংস খেলা ইয়াসির আলী রাব্বি ১৩২ রান নিয়ে আছেন চার নম্বরে। ১০৬ রান নিয়ে পাঁচে রংপুর রাইডার্সের ব্যাটার সাইফ হাসান।
ব্যাটিংয়ের মতো বল হাতেও দুর্বার রাজশাহীর দাপট। তিন ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা পেসার তাসকিন আহমেদের শিকার ১২ উইকেট। গত বৃহস্পতিবার ইনিংসে সাত উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন ২৯ বর্ষী এই পেসার। সেরা ১৯ রানে ৭ উইকেট। রংপুর রাইডার্সের খুশদিল শাহ ৭ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন। রংপুরের নাহিদ রানা ৬ উইকেট নিয়ে আছেন তৃতীয় অবস্থানে। খুলনা টাইগার্সের পেসার আবু হায়দার রনি ৬ উইকেট নিয়ে আছেন চারে। আর চিটাগাং কিংসের স্পিনার আলিস আল ইসলাম পেয়েছেন ৫ উইকেট।
প্রসঙ্গত, আগামীকাল সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব। সেখানে ৬ দিনে মাঠে গড়াবে ১২ ম্যাচ। ১৩ জানুয়ারি শেষ হবে দ্বিতীয় পর্বের খেলা। এরপর বিপিএল চলে যাবে চট্টগ্রামে। সেখানেও ৬ দিনে মাঠে গড়াবে ১২ ম্যাচ। ২৩ জানুয়ারি শেষ হবে চট্টগ্রাম পর্বের খেলা। এরপর ঢাকায় ফিরে আসবে বিপিএল। ২৭ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হবে গ্রুপ পর্ব, এলিমিনেটর, কোয়ালিফায়ার ও ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে একাদশতম আসর।
সেরা ৫ রান সংগ্রাহক
১. এনামুল হক বিজয় (দুর্বার রাজশাহী), ৩ ম্যাচ ১৪৬ রান, সর্বোচ্চ ৭৩* রান।
২. উসমান খান (চিটাগাং কিংস), ২ ম্যাচ ১৪১ রান, সর্বোচ্চ ১২৩ রান।
৩. থিসারা পেরেরা (ঢাকা ক্যাপিটালস), ৩ ম্যাচ ১৪১ রান, সর্বোচ্চ ১০৩* রান।
৪. ইয়াসির আলী রাব্বি (দুর্বার রাজশাহী), ৩ ম্যাচ ১৩২ রান, সর্বোচ্চ ৯৪* রান।
৫. সাইফ হাসান (রংপুর রাইডার্স), ৩ ম্যাচ ১০৬ রান, সর্বোচ্চ ৬২* রান।
সেরা ৫ উইকেট শিকারি
১. তাসকিন আহমেদ (দুর্বার রাজশাহী), ৩ ম্যাচ ১২ উইকেট, সেরা বোলিং ৭/১৯।
২. খুশদিল শাহ (রংপুর রাইডার্স), ৩ ম্যাচ ৭ উইকেট, সেরা বোলিং ৩/১৮।
৩. নাহিদ রানা (রংপুর রাইডার্স), ৩ ম্যাচ ৬ উইকেট, সেরা বোলিং ৪/২৭।
৪. আবু হায়দার রনি (খুলনা টাইগার্স), ২ ম্যাচ ৬ উইকেট, সেরা বোলিং ৪/৪৪।
৫. আলিস আল ইসলাম (চিটাগাং কিংস), ২ ম্যাচ ৫ উইকেট, সেরা বোলিং ৩/১৭।