আবদুল্লাহ আল মাসুম
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:২৫ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ১৬:২৭ পিএম
প্রবা ছবি
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ আসর শুরুর আগে থেকেই টিকিট নিয়ে তুলকালাম চলছে। কুড়ি কুড়ির আসরের টিকিট নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ফের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায়। স্টেডিয়াম সংলগ্ন সুইমিংপুল কমপ্লেক্সের টিকেট কাউন্টারে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করেছে বিক্ষুদ্ধ দর্শকরা। এরপর ঘটেছে গেট ভেঙে স্টেডিয়ামে অনুপ্রবেশের মতো ঘটনা।
গত সোমবার বিপিএলের চলতি আসরের উদ্বেধনী দিনেও মিরপুর স্টেডিয়ামের প্রধান গেট ভেঙে দর্শকদের মাঠে প্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল। আজ সকাল থেকেই টিকিটের জন্য আগে থেকে নির্ধারিত মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সের পাশের বুথে অপেক্ষা করছিল দর্শকরা। অনলাইনের পাশাপাশি সেই বুথেও টিকিট কাটার ব্যবস্থা করেছিল বিসিবি। তবে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
এসময় কিছু দর্শক কাউন্টার ঘিরে রাখা বাঁশের বেড়া ধাক্কাতে থাকেন। পরে বুথে চালানো হয় ভাঙচুর। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ দর্শকরা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরও গেট ভেঙে টিকিট প্রত্যাশীদের ভেতরে প্রবেশের মতো ঘটনা দেখা গেছে। অবশ্য দ্রুতই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খবর পেয়ে কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেনফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শরা বলছেন, সবাই টিকিটের জন্যই লাইনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু পরে যখন শুনতে পারেন কাউন্টারে টিকিট নেই, তখন দর্শকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা কাউন্টারে আগুন ধরিয়ে দেন৷ এছাড়া ভিতরে থাকা ফুলের টবসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাংচুর করেন বিক্ষুব্ধ দর্শকরা। তবে কে বা কারা কাউন্টারে আগুন দিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাজধানীর বনশ্রী থেকে খেলা দেখতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ রিফাত প্রতিদিনের বাংলাদেশের এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিপিএলের খেলা দেখার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু অনলাইন কিংবা ব্যাংক কোথাও টিকিট পাইনি। এখানে যে অবস্থা দেখলাম, এত ঝামেলা করে টিকিট কেটে খেলা দেখতে চাই না। বাসায় টিভির সামনে বসেই খেলা দেখব।’
মিরপুর পল্লবীর বাসিন্দা শহীদুজ্জামান সবুর স্ত্রী ও বাচ্চাকে নিয়ে এসেছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলার দেখার উদ্দেশে। কিন্তু কাউন্টারের সামনে লাইনে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো টিকিট পাননি। অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় কোনো উপায় না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে আমরা সব সহজেই টিকিট পাব ভেবেছিলাম৷ অনলাইনে টিকিট না পাওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু আগের মতোই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা এই ভোগান্তির নিস্তার চাই।’
এদিকে টিকিট না পেয়ে বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচের দিনে খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যক্তিগত গাড়িও আটকে দিয়েছিল দর্শকরা। ফলে এমন পরিস্থিতিতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। দর্শকদের অভিযোগ, ব্যাংক ও বুথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও টিকিট পাচ্ছেন না। এদিকে ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষম মিরপুরের গ্যালারি থাকছে ফাঁকা! প্রথম দিনের ঘটনায় নিজেদের দায় স্বীকার করেছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। দ্রতই সব সমস্যার সমাধান করে দর্শকদের মাঝে সহজেই টিকিট তুলে দিবে বিসিবি, এমনটাই চাওয়া সাধারণ দর্শকদের।