প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:২৫ পিএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৩০ পিএম
দিনের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে স্লিপে ধরা পড়লেন ন্যাথান লায়ন। অনেক সুযোগ হাতছাড়ার দিনে প্রতিপক্ষকে গুটিয়ে দেওয়ার স্বস্তি মিলল অবশেষে। কিন্তু তা টিকল না বেশিক্ষণ, জাসপ্রিত বুমরাহ বলটি যে করলেন ‘ফ্রন্ট ফুট নো’। ওভারের শেষ বলটি লায়নের ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারিতে যাওয়ার পর হতাশায় মাথায় নুইয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে রইলেন বুমরাহ। তার প্রতিক্রিয়াতেই ফুটে উঠল যেন পুরো ভারতের আক্ষেপের প্রতিচ্ছবি।
মেলবোর্নে রবিবার দিনের চতুর্থ ওভারে সেঞ্চুরিয়ান নিতিশ কুমার রেড্ডিকে ফিরিয়ে ভারতের ইনিংস গুটিয়ে দেন লায়ন। তাতে প্রথম ইনিংসে ৩৬৯ রানে থামে সফরকারীরা। ১ ছক্কা ও ১১ চারে ১১৪ রান করেন নিতিশ। এরপর মোহাম্মদ সিরাজ ও বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে অল্পতে থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কিন্তু দিন জুড়ে বেশ কয়েকটি ক্যাচ ছেড়ে তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
৯১ রানে ৬ উইকেটে হারানো অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত চতুর্থ দিন পার করে ৯ উইকেটে ২২৮ রান নিয়ে। প্রথম ইনিংসের ১০৫ রানের লিডের সুবাদে প্যাট কামিন্সের দল এখন এগিয়ে ৩৩৩ রানে। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে একমাত্র ফিফটি করা মার্নাস লাবুশেন খেলেন ৩ চারে ৭০ রানের ইনিংস। অধিনায়ক কামিন্স ৪টি চারে করেন মূল্যবান ৪১ রান। দুইজনই একবার করে পান জীবন।
আর দুইবার বেঁচে যাওয়া লায়ন অপরাজিত ৫ চারে ৪১ রান করে। শেষ উইকেট জুটিতে ভারতকে হতাশ করেন লায়ন ও স্কট বোল্যান্ড। প্রায় ১৮ ওভার কাটিয়ে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৫৫ রানের। বোল্যান্ড ১০ রান করতে খেলেন ৬৫ বল। বোলিংয়ে ৫৬ রানে ৪ উইকেট নেন বুমরাহ। ৬৬ রানে ৩ শিকার ধরেন সিরাজ।
প্রথম ইনিংসে বুমরাহর ওপর ঝড় বইয়ে দেওয়া স্যাম কনস্টাস এবার পারেননি তেমন কিছু করতে। বুমরাহর দারুণ এক ডেলিভারিতেই ভাঙে তার স্টাম্প। লেগ গালিতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া উসমান খাওয়াজাকে বোল্ড করে দেন সিরাজ। দ্রুত দুই উইকেট পতনের ধাক্কা কিছুটা সামলে নেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ। যদিও এবার আর দলকে টানতে পারেননি স্মিথ।
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান স্মিথকে ফিরিয়ে দেন সিরাজ। পরের ওভারে জোড়া শিকার ধরেন বুমরাহ। ট্রাভিস হেডের পর মিচেল মার্শও তার শিকার। বক্সিং ডে টেস্টের দুই ইনিংসেই এই দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরালেন তারকা পেসার। নিজের পরের ওভারে বুমরাহ বোল্ড করে দেন অ্যালেক্স কেয়ারিকে।
২ উইকেটে ৮০ থেকে ১১ রানে আরও ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার। তাদেরকে আরও চেপে ধরার সুযোগ পেয়েছিল ভারত। কিন্তু আকাশ দিপের বলে স্লিপে লাবুশেনের ক্যাচ মুঠোয় জমাতে পারেননি ইয়াশাসভি জয়সওয়াল। তখন ৪৬ রানে খেলছিলেন লাবুশেন।
কয়েক ওভার পর লাবুশেন পূর্ণ করেন ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি। কামিন্সকে নিয়ে ৫৬ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন প্রথম ইনিংসে ৭২ রান করা এই টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান। কামিন্সের সিলি পয়েন্টে তোলা ক্যাচ জয়সওয়াল ছাড়লে ফের টিকে যায় এই জুটি।
শেষ পর্যন্ত লাবুশেনের প্রতিরোধ ভাঙেন সিরাজ। এলবিডব্লিউর বিপক্ষে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি অভিজঞ ব্যাটসম্যান। কিছুক্ষণ পর নন-স্ট্রাইকে সরাসরি থ্রোয়ে মিচেল স্টার্ককে রান আউট করে দেন রিশাভ পান্ত।
দারুণ খেলতে থাকা কামিন্সকে বিদায় করেন রাভিন্দ্রা জাদেজা। তখনও দিনের খেলা বাকি অনেকটা সময়। প্রতিপক্ষকে অলআউট করে রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ ছিল ভারতের। কিন্তু লায়ন ও বোল্যান্ডের প্রতিরোধ যে ভাঙতে পারল না তারা।
সুযোগ যে আসেনি তা কিন্তু নয়। কামিন্সের বিদায়ের পরের ওভারেই লায়নকে ফেরাতে পারত ভারত। কিন্তু ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি সিরাজ। জীবন পেয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন লায়ন। তাকে সঙ্গ দিয়ে যান বোল্যান্ড। এরপর দিনের শেষ ওভারের ওই সুযোগও হাতছাড়া, সব মিলিয়ে তাই আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া : ৪৭৪ ও ৮২ ওভারে ২২৮/৯ (কনস্টাস ৮, খাওয়াজা ২১, লাবুশেন ৭০, স্মিথ ১৩, হেড ১, মার্শ ০, কেয়ারি ২, কামিন্স ৪১, স্টার্ক ৫, লায়ন ৪১*, বোল্যান্ড ১০*; বুমরাহ ৪/৫৬-৪, সিরাজ ৩/৬৬, জাদেজা ১/৩৩)
ভারত : ৩৬৯/১০ (আগের দিন ৩৫৮/৯) (নিতিশ ১১৪, সিরাজ ৪*; কামিন্স ৩/৮৯, বোল্যান্ড ৩/৫৭, লায়ন ৩/৯৩)।