ওয়ার্ল্ড র্যাপিড চ্যাম্পিয়নশিপ দাবা
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ২৩:১২ পিএম
ম্যাগনাস কার্লসেন
ড্রেসকোড মানেননি। এ কারণে দাবায় ডিসকোয়ালিফাইড হতে হলো ম্যাগনাস কার্লসেনকে। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্য। বাস্তবে এমন ঘটনাই ঘটেছে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড র্যাপিড চ্যাম্পিয়নশিপে। আসরে খেলার সুযোগ হারিয়েছেন র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা এ দাবাড়ু।
গত শুক্রবার পোশাক নিয়ে একবার সতর্ক করেছিল দাবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিদে। কিন্তু কে শুনে কার কথা! পরনের জিনস প্যান্ট পাল্টাতে রাজি হননি। এ কারণে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় কার্লসেনকে।
ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়, ক্ষোভে আরেক কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছেন তিনি। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ব্লিটৎজ চ্যাম্পিয়নশিপ থেকেও নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দাবায় পাঁচবারের এ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।
অষ্টম রাউন্ডে জিনস পরে খেলায় কার্লসেন ২০০ ডলার জরিমানা গোনেন। তবে জেতেন আরিয়ান তারির বিপক্ষে। নবম রাউন্ডে তাকে পোশাক পাল্টাতে বললেও তিনি সেটা করেননি। ফলে নবম রাউন্ড না খেলেই প্রতিযোগিতা ছাড়েন কার্লসেন।
আসর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কার্লসেনের স্কোর ছিল ৫/৮। শীর্ষস্থানীয় অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে দেড় পয়েন্ট কম পেয়েছিলেন। শিরোপা অক্ষুণ্ন রাখার সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে তার। ১৩ রাউন্ডের মধ্যে অষ্টম রাউন্ড শেষে পোল্যান্ডের ইয়ান ক্রিস্তফ দুদা, ভারতের অর্জুন ইরিগাসি ও রাশিয়ার আলেক্সান্দার গ্রিশিক ৬.৫/৮ স্কোর নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। ৬/৮ স্কোর সব মিলিয়ে ৯ জন খেলোয়াড়ের।
ফিদে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আজ (গতকাল) ম্যাগনাস কার্লসেন জিনস পরে পোশাকের নীতিমালা (ড্রেসকোড) ভেঙেছেন, যেটা এই ইভেন্টে দীর্ঘকালীনভাবেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ। প্রধান বিচারক কার্লসেনকে এই নিয়ম ভাঙার বিষয়ে জানিয়েছেন, ২০০ ডলার জরিমানাও করেছেন এবং পোশাক পাল্টানোর অনুরোধ করেছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কার্লসেন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন, যার ফলে নবম রাউন্ডে (খেলায়) তাকে নেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত পক্ষপাতহীন এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।’
এ ঘটনা নিয়ে কার্লসেন ‘টেক টেক টেক’ পডকাস্টে বলেন, ‘বলেছিলাম আগামীকাল পাল্টাব...কিন্তু তারা বলেছে তোমাকে এখনই পাল্টাতে হবে। আমার জন্য এটা নীতিগত ব্যাপার, তাই বিষয়টি এ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে! সত্যি বলতে, এত পাত্তা দেওয়ার মতো বয়সও আমার নেই। যদি তারা এটাই করতে চায়, তাহলে আমি হয়তো অন্য কোথাও যাব, যেখানে পরিবেশটা আরেকটু ভালো।’