প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৪২ পিএম
সতীর্থদের সঙ্গে তনুশ কোটিয়ানের উচ্ছ্বাস
বোর্ডার-গাভাস্কার সিরিজ চলাকালে আচমকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ডানহাতি এই অফ-স্পিনারের বদলি হিসেবে শেষ দুই টেস্টে ডাক পড়ে তনুশ কোটিয়ানের। মেলবোর্ন কিংবা সিডনিতে অভিষেক হতে পারে মুম্বাইয়ের ২৬ বছর বয়সি এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের! এমন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ভারতের অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
অভিজ্ঞ কুলদীপ যাদব ও অক্ষর প্যাটেলের পরিবর্তে ভারত
ক্রিকেট বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তের পর কোটিয়ানকে নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে। আলোচনা হওয়ার
কারণও আছে বৈকি! চলতি বছরই বিরল এক কীর্তির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কোটিয়ানের নাম। সর্বশেষ
রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে দশম উইকেটে ২৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন যে দুজন, তাদের
একজনই এই কোটিয়ান।
২০২৩-২৪ রঞ্জি ট্রফিতে ৫০২ রান করেছেন কোটিয়ান। যাতে
তার ব্যাটিং গড় ছিল ৪১.৮৩। উইকেট নিয়েছেন ২৯টি, সেটা মাত্র ১৬.৯৬ গড়ে। টুর্নামেন্টে
আর কোনো ক্রিকেটার ৫০০ রান আর ২৫ উইকেট পাননি। তাতে টুর্নামেন্টসেরা পুরস্কার ওঠে তার
হাতে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম সেঞ্চুরির পর সেমিফাইনালে ব্যাট হাতে খেলেন অপরাজিত
৮৯ রানের ইনিংস। আর শিরোপার মঞ্চে সিরিজসেরা জয়ের দিনে নেন ৭ উইকেট। আর সব মিলিয়ে কোটিয়ান
প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন ৩৩টি। ১০১ উইকেট নিয়েছেন, সঙ্গে ৪১.২১ গড়ে ১,৫২৫ রানও
আছে।
অভিজ্ঞ কুলদীপ যাদব বা অক্ষর প্যাটেলের বদলে টেস্ট দলে
তনুশ। কিন্তু কেন এই মুম্বইকরকেই বেছে নেওয়া হলো? কেন ডাক পেলেন না কুলদীপ-অক্ষররা?
অবশ্য এর ব্যাখ্যা দিলেন রোহিত শর্মা। প্রথমে অবশ্য কিছুটা মজাই করেন রোহিত। বলেন,
কুলদীপের সম্ভবত ভিসা নেই। কিন্তু দল চেয়েছিল, কাউকে দ্রুত নিয়ে আসতে। তনুশ যেহেতু
পুরোপুরি তৈরি ছিল, তাই ওকেই ডাকা হয়েছে। পরে অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তনুশকে এক
মাসের জন্য বিকল্প হিসেবে আনা হয়েছে। গত দুয়েক বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ও খুব ভালো খেলেছে।
আমাদের সত্যিই একজন বিকল্প দরকার। মেলবোর্ন বা সিডনিতে আমরা দুজন স্পিনারেও খেলতে পারি।’
কিছু দিন আগে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল কুলদীপকে।
ফলে এখনও পুরোপুরি ফিট নন বাঁহাতি এই স্পিনার। এদিকে পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় এখন
অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন না অক্ষর। যার ফলে রোহিত জানান, ভারতের কাছে কোটিয়ানই
সেরা অপশন ছিল। রোহিত বলেন, ‘কুলদীপ শতভাগ ফিট নয়, সে হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার করিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অক্ষর বাচ্চার বাবা হয়েছে, তাই সে ভ্রমণ করতে পারত না। তনুশই আমাদের
কাছে সেরা বিকল্প ছিল এবং গত মৌসুমে মুম্বাইয়ের রঞ্জি ট্রফি জেতার পেছনে সে অন্যতম
কারণ ছিল।’
ব্যাট কিংবা বল হাতে সমকৃতিত্বের অধিকারী তনুশ। ক্যারিয়ারজুড়ে
সেটিরই স্বাক্ষরতা রেখে চলেছেন তিনি। ভারতীয় দলে স্পিনার হিসেবে ডাক পেলেও টেলারএন্ডে
ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। এ নিয়ে অবশ্য ইএসপিএনক্রিকইনফোকে চলতি বছরের মার্চে তনুশ
বলেছিলেন এভাবে, ‘আমি আসলে ব্যাটার নাকি বোলার, সেটা নিয়ে ভাবি না। যখন ব্যাটিং করি,
বোলিং করি ও ফিল্ডিং করি, যেটাই করি, সেখানে প্রভাব রাখতে চাই।’
অলরাউন্ডার সত্তা কিন্তু কোটিয়ানের পরিবারেই আছে। কোটিয়ানের
বাবা কারুনাকারকে মুম্বাই শহরের টেপ টেনিস ক্রিকেটের রাজা বলা হতো। তনুশ তা নিয়ে বলেছেন,
‘বেড়ে ওঠার সময় আমি আমার বাবাকেই দেখেছি। তিনি ফাস্ট বোলার ও মিডল অর্ডার ব্যাটার ছিলেন।
তিনি যে খ্যাতি পেয়েছিলেন, সেটা আমাকে এই খেলা বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করেছে।’
টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও রাজকীয় ফরম্যাটের টেস্ট মিলিয়ে
অশ্বিন উইকেট তুলেছেন ৭৬৫টি। ম্যান ইন ব্লুজদের বহু জয়ের সাক্ষী তিনি। তার অভাব পূরণে
কতটা ভূমিকা রাখবেন তনুশÑ সেটাই দেখার অপেক্ষা।