প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:১৭ পিএম
আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৯ পিএম
বোলাররাই এগিয়ে রেখেছিল রংপুরকে। আট দলের শিরোপাও জিতেছে তারা— ছবি: আ. ই. আলীম, সিলেট থেকে
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট যেন মরণ ফাঁদ হয়ে উঠেছিল। ব্যাটাররা এসেছেন দ্রুত, ফিরেছেন যেন তারচেয়েও বেশি গতিতে। আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক জাতীয় ক্রিকেট টি-টোয়েন্টির আসরে দাপট দেখানো ঢাকা মেট্রো ফাইনালে পুঁজি পঞ্চাশ ছাড়াতেই ধুকছিল। শিরোপা ছোঁয়ার সেই মামুলি পুঁজিতেও ছন্নছাড়া রংপুরের ব্যাটাররা। আকবর আলীদের দল ধুঁকেছিল বটে। তবে ফাইনালে পথ হারায়নি। নাইম শেখদের ঢাকা মেট্রোকে লো স্কোরিং ম্যাচে ৫ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ ৬২ রান পর্যন্ত তুলতে পারে ঢাকা মেট্রো। শিরোপা উৎসবে মাতার দিনে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও মিডলের ভরসায় উতরে যায় রংপুর। ছোট লক্ষ্যে ৬৫ রান জমা করতে তারা হারায় ৫ উইকেট। ফাইনালে রানের বন্যা, চার-ছক্কার ফুলঝুরির বদলে সমর্থকরা মঙ্গলবার ব্যস্ত ছিলেন উইকেট উদযাপনেই। সিলেটের তুলনামূলক ব্যাটিংবান্ধব উইকেট দুই ইনিংসে খেলা হয়েছে ২৭.৫ ওভার। এরমাঝে পড়েছে ১৫টি উইকেট! কুড়ি কুড়ির লড়াইয়ে ফাইনাল জমে না উঠলেও আসরটিতে তরুণ-অভিজ্ঞরা বেশ আলো ছড়িয়েছেন।
সিলেটে বসা আসরজুড়ে ব্যাটারদের দাপটের পাশাপাশি বোলাররাও আলো ছড়িয়েছেন। আট দলের অংশগ্রহণের টুর্নামেন্টে ফাইনালসহ ৩২ ম্যাচ হয়েছে। ৬৪ ইনিংসে দলগুলো রান তুলেছে ৯ হাজারের বেশি। বোলাররা শিকার করেছেন সাড়ে চারশো উইকেট। বাউন্ডারি এসেছে হাজারের বেশি। ৭২৩টি চারের পাশাপাশি ৪১৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ব্যাটাররা। দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি আসর দেখেছে ৪১ ফিফটি। বোলাররা পাঁচ উইকেট নিতে না পারলেও মোট ১০ বার ৪ উইকেট নিয়েছেন। তিন উইকেট আছে ৩১ বার। তবে ফাইনাল বেশ ম্যাড়মেড়েই হয়েছে।
পুরোদস্তর বোলাদের দিনে রংপুরের হয়ে আগুণ ঝড়ান মুকিদুল মুগ্ধ ও আলাউদ্দিন বাবু। শুরু থেকেই জারি থাকে তোপ। দুজনেই নেন তিনটি করে উইকেট। বাকি তিন বোলার সফল হন একবার করে। তাতেই ধুঁকে ধুঁকে পঞ্চাশ পেরোনো মেট্রো সব উইকেট হারিয়ে ৬২ রান পর্যন্ত যেতে পারে। মঙ্গলবার মেট্রোর হয়ে ব্যাটিংয়ে সর্বোচ্চ রান করেন শামসুর রহমান শুভ (১৪)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ রানের ইনিংস খেলেন টেলএন্ডার ব্যাটার আবু হায়দার রনি। টুর্নামেন্ট জুড়ে ধারাবাহিক মেট্রোর ওপেনাররা এদিন ব্যর্থ হন। লড়াই চালাতে পারেননি মিডল অর্ডারের কেউও। অধিনায়ক নাইম শেখ ফিরেছেন শূন্য রানেই।
ছোটো লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর। প্রথম তিন ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। ২ রান করা ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফেরান আলিস আল ইসলাম। মামুন মিড অনে ক্যাচ দেন রাকিবুল হাসানের হাতে। দুই বল পর অভিজ্ঞ ব্যাটার নাইম ইসলামও আউট হয়েছেন আলিসের বলে। উইকেটের পেছনে ইমরাউজ্জামানকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি শূন্য রানে। আরেক ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ৯ রান এলবির ফাদে ফেলেন মেট্রোর পেসার আবু হায়দার রনি। পরের বলেই অধিনায়ক আকবর আলী আউট হয়েছেন শূন্য রানে। তিনি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে তাহজিবুল ইসলামের দারুণ ডিরেক্ট থ্রোতে ফেরেন রান আউট হন। তাতেই চাপে পড়ে রংপুর।
পরে একটি ছক্কা ও চারে ম্যাচের পরিথি কমালেও আরিফুল হক খেলা শেষ করে আসতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৪ রানে তিনি বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুলের কাছে থামেন। এরপর রংপুরকে আর কোনো উইকেট হারাতে দেননি অভিজ্ঞ তানবির হায়দার ও এনামুল হক। দুজনের ২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রংপুর। তানবির ৮ ও এনামুল ১৪ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন।
আট দলের আসরে সেরা রংপুর পেয়েছে ২০ লাখ টাকার প্রাইজমানি। রানার্স-আপ মেট্রোর পকেটে ঢুকেছে ১০ লাখ টাকা। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে এনসিএল টি-টোয়েন্টির টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ঢাকা মেট্রোর আবু হায়দার রনি। সেরা রানসংগ্রাহকের পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন নাঈম শেখ। বল হাতে (৯ ম্যাচে) সর্বোচ্চ ১৯ উইকেট শিকার করে সেরা বোলারের পুরস্কার জিতেছেন রংপুরের আলাউদ্দিন বাবু।