প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৮:৪৩ এএম
ট্রফি নিয়ে এই টানাটানিতে কে জিতবে, সিলেটে নাইম না আকবর কে হাসবেন শিরোপার হাসি— ছবি: আ. ই. আলীম
ঢাকা মেট্রোর আক্ষেপ থাকতে পারে, ‘ইশ, অপরাজিত থাকা হলো না।’ নাইম শেখদের সেই আক্ষেপ আসার পেছনে যারা দায়ী, তাদের বিপক্ষেই আজ শিরোপার লড়াই। আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টির শেষের মঞ্চে রংপুর বিভাগের সামনে আবার মেট্রো। কোয়ালিফায়ারে আকবর আলীদের কাছে পরাস্ত হওয়া রংপুরের বিশ্বাস তারা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে। অন্যদিকে মেট্রোকে সমীহ করলেও কুড়ি কুড়ির শিরোপার মঞ্চে ছাড় না দেওয়ার প্রচ্ছ্বন্ন হুমকি ছুঁড়েছে রংপুর।
এনসিএলের শেষের মঞ্চ মঞ্চায়িত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুপুর সাড়ে ১২টায় জমবে মাঠের লড়াই। ফাইনালের রোমাঞ্চ সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। প্রথমবারের মতো বসা এনসিএলে আগে দুটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকা মেট্রো ও রংপুর। দুদলের জয়-পরাজয়ের হারও ফিফটি ফিফটি। আসরের লিগ রাউন্ডে রংপুরকে হারিয়েছিল মেট্রো। পরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে সেই হারের শোধ তোলে রংপুর। তৃতীয়বার দেখায় যারা এগিয়ে যাবেন তারা শুধু এগিয়েই নয়, বরং আকাশে উঁচিয়ে তুলবে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার।
আসরে এখন পর্যন্ত নয়টি ম্যাচ খেলে আটটিতে জিতেছে মেট্রো। এর মধ্যে গ্রুপ পর্বের সাতটি ম্যাচেই জিতেছে দলটি। হয়েছিল গ্রুপের সেরা। খুব বেশি পিছিয়ে নেই রংপুরও। আসরে আট ম্যাচে ছয়টিতে জিতেছে আকবর আলীর দল। রংপুরের আত্মবিশ্বাস রাখার অন্যতম কারণ, আসরের প্রথম কোয়ালিফায়ারে মেট্রোকে চার উইকেটে হারিয়েছে দলটি। নাইমরা সেখানে শিরোপার স্বপ্ন বুনছেন জয়ের ধারাবাহিকতার কারণে। মেট্রোর বিশ্বাস তাদের খেলোয়াড়েরা ফাইনালে শান্ত থেকে শিরোপার জন্যই লড়বেন।
মেট্রোর হয়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন ইমরান উজ্জামান (২২৪ রান), শামসুর রহমান শুভ (১৮২ রান)। বল হাতে নাইমের আস্তার প্রতিদান দিচ্ছেন রাকিবুল হাসান (১৪ উইকেট), আলিস আল ইসলাম (১২ উইকেট) ও আবু হায়দার রনিরা (১২ উইকেট)। অধিনায়ক নাইম তাই আত্মবিশ্বাসী, ‘দলকে আমি বলেছি, আমরা একটা একটা ম্যাচ যাব। লম্বা ওরকম কিছু চিন্তা করব না। একটা একটা ম্যাচ শেষ করে কোয়ালিফাই হওয়ার চেষ্টা করব। আর ড্রেসিংরুমে শান্ত থাকার চেষ্টা করব। আমার দলে ৬-৭ জন ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া ক্রিকেটার আছে। একেকজন একেক দিন ভালো করেছে। ছোট দল বা বড় দল বলে কোন কথা নেই টি-টোয়েন্টিতে মাঠে যারা ভালো করবে তারাই ফল পাবে। চেষ্টা আছে মাঠে সেরাটা দিয়ে দেওয়ার।’
রংপুরের অধিনায়কের মতে, নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারলেই কেবল মেট্রোকে হারাতে পারবেন তারা। সমীহ করলেও তবে ছাড় না দেওয়ার বার্তাই শুনিয়েছেন আকবর আলী, ‘মেট্রো খুব ভালো খেলে আসছে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি ম্যাচে হেরেছে। আমার মনে হয় যে রকম ফর্মে তারা আছে তাদের হারাতে হলে আমাদের সেরাটা খেলতে হবে। বিশেষ করে আমি ওদের বোলিং ইউনিটের কথা বলব। আলিস, রনি ভাই...ওদের হারাতে হলে আমাদের সেরাটাই খেলতে হবে।’
দারুণ কিছু ক্রিকেটারকে খুঁজে পেতে যে পরিকল্পনা নিয়ে এনসিএল মাঠে গড়িয়েছিল তাতে সফল বলা চলে। সিলেটে ব্যাট-বলে তরুণদের ঝলকও দেখেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শুরুর সপ্তাহখানেক আগে এনসিএলের এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে নিশ্চয়। জিসান আলম, আজিজুল হাকিমের মতো ব্যাটাররা নিজেদের মেলে ধরার সুযোগটাও দারুণ পেয়েছেন। বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছে আলোচনায় এসেছেন আহমেদ শরিফ, ফাহাদ হোসেনের মতো তরুণরা। তাছাড়া দলের বাইরে থাকা নাইম শেখ, কাজী নুরুল হাসান সোহান, আবু হায়দার রনি, আলাউদ্দিন বাবুদের মতো অভিজ্ঞরাও উতরেছেন নিজেদের পরীক্ষা।
ব্যাট-বলের লড়াইয়ে জমে যাওয়া এনসিএল এবার শেষের ক্ষণে। বিসিবি জানিয়েছে, চ্যাম্পিয়নস দল পাবে ২০ লাখ টাকা। রানার্সআপ দল পাবে ১০ লাখ টাকা। আয়োজকরা ব্যক্তিগত পুরস্কারও দিচ্ছে। প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট ১ লাখ টাকা এবং সেরা ব্যাটসম্যান ও বোলার পাবেন ৫০ হাজার টাকা করে। কারা কত পাচ্ছেন, কাদের ঘরে উঠছে টি-টোয়েন্টির এই শিরোপা— তা জানতে অপেক্ষা কয়েক ঘণ্টার। দুর্বার নাইম শেখ না ঠাণ্ডা মাথার আকবর আলীর দল কারা হাসতে পারেন শিরোপার হাসি?