প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:২১ পিএম
ওয়ানডে ক্রিকেটে ঘরের মাঠে সিরিজ হারলেও কখনো হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়েনি দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রোটিয়াদের মাটিতে এবার সেই নতুন ইতিহাস লিখল পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবাল মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল।
রবিবার জোহানেসবার্গে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের ৩৬ রানে হারিয়েছে পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে ৪৭ ওভারে নেমে আসা এই ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে ওপেনার সাইম আইয়ুবের সেঞ্চুরিতে তুলে ৯ উইকেটে ৩০৮ রান। জবাবে হেইনরিখ ক্লাসেনের দুর্দান্ত ব্যাটিং সত্ত্বেও ৪২ ওভারে ২৭২ রানেই থেমে যায় স্বাগতিকরা।
এর আগে দুইবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তান। তবে ২০১৩ ও ২০২১ সালের তিন ম্যাচের দুই সিরিজেই তারা একটি করে ম্যাচ হেরেছিল। এবার সেই ইতিহাস বদলে দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় তুলে নিল রিজওয়ানের দল।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে এটি পাকিস্তানের জন্য দারুণ প্রস্তুতি। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে প্রোটিয়াদের হোয়াইটওয়াশ করল তারা। দলীয় চোটজর্জর পরিস্থিতির মধ্যেও এমন জয় দলকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে।
এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই আবদুল্লাহ শফিকের উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে এরপর ইনিংস সামাল দেন সাইম আইয়ুব ও বাবর আজম। দুজন মিলে গড়েন ১১৪ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৫২ রান করে বাবর আউট হলেও সাইম চালিয়ে যান দুর্দান্ত ব্যাটিং।
অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসটাকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান সাইম। ৩৪তম ওভারে তুলে নেন সিরিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৯৪ বলে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০১ রান করে করবিন বচের শিকার হন তিনি।
শেষ দিকে ৩৩ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন আগা সালমান। রিজওয়ান করেন ৫৩ রান। সব মিলিয়ে ৯ উইকেটে ৩০৮ রান তোলে পাকিস্তান।
৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে হাইনরিখ ক্লাসেন একপাশ থেকে ঝড় তোলেন। মাত্র ৪৩ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮১ রান করেন তিনি। কিন্তু দলের অন্য ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ায় জয়ের আশা টিকে থাকেনি। করবিন বচ ৪০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটা যথেষ্ট ছিল না।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে আলো ছড়ান সুফিয়ান মুকিম। ৫২ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। তার দুর্দান্ত স্পেলের কারণেই ২৭২ রানেই গুটিয়ে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস।
ম্যাচসেরার পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছেন সাইম আইয়ুব। তিন ম্যাচে ৭৮.৩৩ গড়ে ২৩৫ রান করেছেন এই তরুণ ওপেনার। ম্যাচ শেষে সাইম বলেন, 'এই জয় দলের সবার। সিনিয়ররা আমাকে প্রতিটি ম্যাচে সাহায্য করেছেন। প্রতিটি ম্যাচ থেকে আমি শিখতে চাই, সেটাই আমার লক্ষ্য।'
এমন ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিয়ে পাকিস্তান এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে এই জয় তাদের আরও প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।