প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৮ পিএম
স্পোর্টসম্যানশিপ দেখিয়ে প্রশংসিত জাকের-শামিম দুজনেই দুর্দান্ত কাটিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ— সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের সময়কার ঘটনা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার গুদাকেশ মোতির বল সজোরে হাঁকান জাকের আলী। মিড উইকেটে বল যেতেই ছুটছিলেন রান নিতে। অন্যদিকে বাউন্ডারি লাইনে ওবেদ ম্যাকয় ক্যাচ ধরতে ডাইভ মারেন। ক্যাচ তো নিতেই পারেননি, উল্টো আঘাত পেয়ে উঠতে পারছিলেন না তিনি। ততক্ষণে দুইবার জায়গা বদলে তৃতীয় রানের জন্য দৌড় শুরু করবেন জাকের ও শামিম পাটোয়ারি।
কিন্তু প্রতিপক্ষের ফিল্ডারের আহত হওয়ার বিষয়টি টের পেয়েই দৌড় থামিয়ে দেন তারা। কমেন্ট্রিবক্সে বসে এই দৃশ্য দেখে বাংলাদেশের দুই ব্যাটারের প্রশংসা করেন ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। শুধু তাই নয়, ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ ঘটনায় আইসিসির কাছে পুরস্কারের সুপারিশ করেছেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি।
শুক্রবার বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টির ১৪তম ওভারের এই ঘটনায় প্রশংসিত হচ্ছে জাকের-শামিম। ধারাভাষ্যকার বিশপ জাকের-শামিমের উদারতাকে ‘গ্রেট স্পোর্টসম্যানশিপ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
পরে ক্যারিবিয় কিংবদন্তি এক্সে লেখেন, ‘যদি আইসিসি ২০২৪ সালে স্পিরিট অব ক্রিকেট দেয়, আমার পরামর্শ সেই মুহূর্তটিকে দেয়া হোক। যখন সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জাকের ও শামিম রানের জন্য দৌড় থামিয়ে দিয়েছেন, এটা বুঝতে পেরে যে, আউটফিল্ড ক্যাচ নিতে গিয়ে ওবেদ ম্যাকয় আঘাত পেয়েছেন।’
ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি প্রতি বছর বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দিয়ে থাকে। ‘স্পিরিট অব দ্য গেম’ সমুন্নত রাখতে বছরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দল বা ঘটনাকে ‘আইসিসি স্পিরিট অব ক্রিকেট’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০১১ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা এই পুরস্কারটি খেলোয়াড়রা জিতেছেন। এই পুরস্কারের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ, প্রতিপক্ষের অধিনায়ক ও দল, আম্পায়ারের ভূমিকা, ক্রিকেটের ঐতিহ্যগত মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মতো বিষয়গুলো আমলে নেয়া হয়।
২০২৩ সালে জিম্বাবুয়ে দল হিসেবে স্পিরিট অব ক্রিকেট জেতে। বাংলাদেশ দল বা বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় এখন পর্যন্ত এই পুরস্কার জেতেননি। এবার শামিম-জাকেরের স্পোর্টসম্যানশিপে এসেও যেতে পারে আইসিসির পুরস্কার।