ইংলিশ লিগ কাপ
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৩:০০ এএম
টটেনহ্যামের ফুটবলারদের গোলের উল্লাস
খেলা চলছিল টটেনহ্যাম হটস্পারের মাঠে। স্বাগতিকরা এগিয়ে গিয়েছিল ৩-০ গোলে। তাই তো ৬২ মিনিট পর্যন্ত ধরেই নেওয়া হয়েছিল স্পারদের জয়টা নিশ্চিত। স্বাগতিকদের হয়ে ডাবল গোল করেন ডমিনিক সোলাঙ্কি। অন্য গোলটি এনে দেন দেজান কুলুসোভস্কি। নাটকীয়তার সূত্রপাত এরপরই। ৬৩ থেকে ৭০ এই সাত মিনিটের মধ্যে ম্যাচের চিত্রনাট্য পাল্টে যায়। ২ গোল শোধ করে ম্যাচের মোড় গড়িয়ে দেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রেড ডেভিলরা গোল দুটি পায় জশুয়া জিরেকজে ও আমাদ দিয়ালোর কল্যাণে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে আগের ম্যাচের স্মৃতিই যেন পুনর্মঞ্চায়নের আভাস দিয়ে যাচ্ছিল ইউনাইটেড। পিছিয়ে পড়েও ঘ্রাণ পাচ্ছিল জয়ের। তবে ৮৮ মিনিটে সন হিউং-মিন গোল ব্যবধান বাড়িয়ে ৪-২ এ নিয়ে যান। এ কারণে অতিথি ওল্ড ট্রাফোর্ড শিবিরের জয়ের সম্ভাবনা একটু কমে যায়।
তারপরও হতাশ হয়ে পড়েনি ইউনাইটেড। ইনজুরি টাইমের ৪ মিনিট জালে বল জড়িয়ে দেন জনি ইভান্স। অবিশ্বাস্য কিছুর সম্ভাবনায় তার এই গোল যেন জিয়নকাঠি স্পর্শ করানোর মতোই। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তেমন কিছু হয়নি। কারাবাও কাপের সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে ইউনাইটেডকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে টটেনহাম। ইংলিশ লিগ কাপ (কারাবাও কাপ) শেষ আট থেকেই বিদায় নিয়েছে রেড ডেভিলরা।
ফুটবল হলো গোলের খেলা। জালে বল না জড়ালে আনন্দটাই মিলিয়ে যায়। এই ম্যাচ তো ফুটবলের সেই আনন্দের রোমাঞ্চের রেণু ছড়িয়ে দিয়েছে দারুণভাবে। ম্যাচ শেষে দলের কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলু তাই তো বললেন, ‘আমি ফুটবল ভালোবাসি এবং যারা আনন্দ দেওয়ার জন্য মাঠে খেলতে নামে, তাদের খেলা দেখতে পছন্দ করি। আমরাও সাফল্য চাই, তবে সেটা সম্ভব হবে না যদি আমরা সবকিছু এমন জটিল করে ফেলি। কিন্তু এমনও না যে আমরা মাঠে নেমে ১-০ গোলের জয়ের জন্য খেলব।’
‘আপনারা কি আনন্দ পাননি?’ ম্যাচ শেষে প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়েছেন টটেনহাম কোচ পোস্তেকোগলুর। ম্যাচটা যারা দেখেছেন, পোস্তেকোগলুর প্রশ্নের উত্তরে তারা সবাই সন্দেহ নেই মাথা নুয়াবেন।
এমন ম্যাচ তো সব সময় মিলে না। যেখানে জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আনন্দটাই মূখ্য হয়ে ওঠে। ইউনাইটেড ও তাদের সমর্থকরা সেই আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। তবে অন্য সবার এই ম্যাচ দেখে মন ভরে যাওয়ার কথা। স্পার্স সমর্থক হলে তো কোনো কথাই নেই!
ইউনাইটেড কোচ রুবেন আমোরিম এ হারের জন্য দায়ী করেছেন ৮ মিনিটের ব্যর্থতাকে, ‘ম্যাচজুড়ে আমরা সেরা দল ছিলাম না। কিন্তু কিছু কিছু অংশে আমরাই সেরা ছিলাম। আমার ধারণা ম্যাচের ৮ মিনিট (৪৬ থেকে ৫৪ মিনিট) আমরা ম্যাচে ছিলাম না, যা পুষিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন ছিল। তবে ছেলেরা অনেক চেষ্টা করেছে।’