প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:২৪ পিএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৪১ পিএম
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ১৫তম ওভার তখন। রোস্টন চেজের বল ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে আলতো ঠেলে একাধিক রান চুরির চেষ্টা চালান জাকের আলী। বিপত্তি বাধে সেখানেই। কারণ, ১ রান নেওয়ার পর জাকের দৌড় শুরু করলেও শামীম তখনও ননস্ট্রাইক প্রান্তে ঠায় দাঁড়িয়ে। তাতে দুজনেই এক প্রান্তে! আউট হয়েছেন ভেবে সাতপাঁচ বলতে বলতে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ডান হাতি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জাকের।
জাকের যখন ফিরছিলেন সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভ্যালে গ্রাউন্ডের দৈত্য পর্দায় দেখানো হচ্ছিল ভিন্ন দৃশ্য। রান চুরির প্রতিযোগিতায় শামীমের আগেই ক্রিজে ব্যাট প্লেস করেছেন ২৬ বর্ষী এ ব্যাটার। তাতে ভাগ্যের লিখন যা না খণ্ডনের দৃশ্য মঞ্চায়ন হয়। আম্পায়ারের ডাকে ফিরতে হলো জাকেরকে।
ওই যে ব্যক্তিগত ১৮ রানে জীবন পাওয়া, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে কাজে লাগিয়েছেন জাকের। নিজের স্কোর টেনে নিয়েছেন অপরাজিত ৭৭ রানে। আর দলকে এনে দিয়েছেন ১৮৯ রানের শক্ত ভিত। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জয় পায় ৮০ রানে। তাতে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবাল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের পর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিপক্ষকে তাদের মাঠে ধবলধোলাইয়ের স্বাদ পেল টিম টাইগার্স।
রানআউটের এ ঘটনা নিয়ে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন জাকের। জানিয়েছেন, ট্যানেল হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে এবং সেখানে পৌঁছে কীভাবে ক্ষোভ ঝেড়েছেন, ‘এটা ভয়াবহ ভুল বোঝাবুঝি ছিল। ড্রেসিংরুমে গিয়ে আমি নিজেকে, ব্যাটে এবং আশপাশে যা কিছু ছিল, সবকিছুতে লাথি মারছিলাম। আর তখনই তাৎক্ষণিকভাবে থার্ড আম্পায়ার (ফোর্থ আম্পায়ার) আমাকে ডেকে নিলেন।’
দুঃখজনক ব্যাপার হলো, মাঠে ফিরে একই ওভারে মেহেদীর রানআউটের কারণ জড়িয়ে যান জাকের। সেই রানআউটটি নিয়েও বেজায় দুঃখ জাকেরের। তাৎক্ষণিক নিজেকে নিজে লাথি মারার ইচ্ছা জেগেছিল তার। তিনি বলছেন, ‘আমার কারণে আরও একটি রানআউট হয়েছে। নিজেকে লাথি মারার ইচ্ছা হচ্ছিল আমার এবং সে সময় আমি ভেঙেও পড়েছিলাম। তবে আলহামদুলিল্লাহ। এরপর আমি দলের জন্য রান করার সুযোগ পেয়েছি এবং তাদের (শামীম ও মেহেদী) রানও করতে পেরেছি।’
একই ওভারে দুজনের ক্রিজছাড়া হওয়ার কারণ জাকের। নিশ্চয়ই তাকে বিষয়টি পুড়িয়েছে বেশ। তবে ব্যাট হাতে দারুণভাবে পুষিয়ে দিয়েছেন কড়ায় গণ্ডায়। ইনিংসের শেষ ওভারে ৩ ছক্কায় ২৫ রান নেওয়া ছাড়া সফরজুড়ে সফল তিনি। টেস্ট (চার ইনিংসে ৪৪.০০ গড়ে ১৭৬ রান) এবং ওয়ানডের (তিন ম্যাচে ৫৬.৫০ গড়ে ১১৩) পর ভূমিকা রেখেছেন টি-টোয়েন্টি সিরিজেও (তিন ম্যাচে ৬০.০০ গড়ে ১২০)। সঞ্চালকের প্রতি উত্তরে নিজের পারফরম্যান্স জাকের মূল্যায়ন করলেন এভাবে, ‘এ সিরিজটা আমার জন্য দারুণ ছিল। টেস্ট সিরিজ, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিজুড়ে ভালো করেছি। আমার মনে হচ্ছিল আজকের উইকেট আগের দুই ম্যাচের তুলনায় ভালো ছিল। আমি সময় নিয়ে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। আমি নিজেকে চিনি। জানতাম যদি লম্বা সময় খেলতে পারি, তবে আমি রান করতে পারব।’