প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:৪৫ এএম
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:০৪ পিএম
এবার কিছু একটা হবে। টি-টোয়েন্টি সিরিজজুড়ে আশা-প্রত্যাশা আর সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে সিরিজ নিশ্চিতের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাই করে বছর ইতি টানার উচ্চাশা ছিল তার। আশার সঙ্গে পরিশ্রমের মিশেলে সেই স্বপ্ন অবশ্য পূরণ হয়েছে। বরং তা করতে গিয়ে সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভ্যালে গ্রাউন্ডে রীতিমতো ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ৮০ রানে জয়ে বছরের শেষ ম্যাচ রাঙাল লিটন ব্রিগেড। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো কুড়ি কুড়ির ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনায় শুক্রবার টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তাতে সফরকারী দল পেয়ে যায় ১৮৯ রানের রেকর্ড পুঁজি। জবাব দিতে নেমে ১০৯ রানে গুটিয়ে যান স্বাগতিকরা। এতে ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডের পর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রতিপক্ষকে তাদের মাঠে ধবলধোলাইয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
এদিন এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। ইনজুরিতে থাকা সৌম্য সরকারের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ মেলে পারভেজ ইমনের। লিটনের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন তরুণ ওপেনার। প্রথম ওভারেই ৬ রান আদায় করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার। দ্বিতীয় ওভারে সেটা ছাড়িয়ে যান। রোমারিও শেফার্ডের করা ওভারে ১০ রান আদায় করেন তারা। তবে গত দুই ম্যাচের মতো আজও ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ব্যক্তিগত ১৪ রানের মাথায় শেফার্ডের বলে ক্যাচ শিখিয়ে ফিরেছেন তিনি। বছরের শেষ টি-টোয়েন্টিতে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ লিটন।
দলীয় ৪৪ রানে লিটন ফেরার পরই উইকেটে ধস নামে বাংলাদেশের। তার ঠিক ১০ রানের মাথায় ফেরেন সেট ব্যাটসম্যান ইমন। আর তানজিদ তামিম যেন উইকেট পরখের আগেই ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন।
ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে আলজারি জোসেফের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান পারভেজ। মুহূর্তেই নিজের ৩৩ রান পরিণত করেন ৩৯-এ। অথচ পরের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে গড়বড় করে ফেলেন। তালুবন্দি হয়ে ছাড়েন ক্রিজ। ২১ বলে ২টি ছক্কা ও ৪টি চার মেরেছেন ইমন।
টাইমিং গড়বড়ে কাটা পড়েন তানজিদও। তিনি উইকেটরক্ষক নিকোলাস পুরাণের হাতে ধরা পড়েন। আর চারে নেমেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দলের স্কোরবোর্ডে তার অবদান ২৩ বলে ২৯ রান। তবে আসল খেলাটা খেলেন জাকের। শেষ ওভারে ৩ ছয়ে ২৫ রান তুলে দলীয় স্কোর পাহাড়ে তোলেন। তা ছাড়া শেষ ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে জাকেরের অবদান ৩৫ বলে ৬৮! ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৩০ রানে ২ উইকেট তুলেছেন শেফার্ড। ১৫ রানে ১ উইকেট নেন চেজ।
জিততে হলে এ মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জিততে হতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। আর্নস ভ্যালে গ্রাউন্ডে স্বল্প ফরম্যাটে সর্বোচ্চ রান তুলেছে বাংলাদেশ এ ম্যাচে। এর আগে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ১৫৯ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। আজকের আগে এটাই ছিল সর্বোচ্চ।
রেকর্ড সংগ্রহের মিশনে নেমে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি দশা হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ১৯০ রানের টার্গেট টপকানো তো দূরে বরং শুরুতে পথ হারিয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা। দলীয় ৫০-এর আগে ৫ উইকেট খুইয়ে ফেলেন তারা। ক্যারিবিয়ানদের প্রথম ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে ব্রান্ডন কিংকে ফেরান তিনি। আর দ্বিতীয় ওভারে মেহেদীর তৃতীয় বলে লং অন দিয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার আফিফ হোসেনের ক্যাচের শিকার গ্রিভস। তবে তৃতীয় উইকেটে ২৪ বলে ৩৮ রানের বিপজ্জনক জুটি গড়েছিলেন পুরাণ ও চার্লস। ৫.৩ ওভারে মেহেদীকে টেনে মারতে গিয়ে বোল্ড হন পুরাণ।
পুরাণ আউটের পর দলীয় ১০ রানের মধ্যে রোস্টন চেজ ও জনসন চার্লস ফেরেন। এর মধ্যে শেষ ২টি উইকেট পড়েছে ৩ বলের মধ্যে! পেসার হাসানের করা সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে মিড উইকেট থেকে রিশাদের সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট জনসন চার্লস। আর চেজ ফেরেন তালুবন্দি হয়ে।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি স্বাগতিকরা। লোয়ার মিডল অর্ডারে রভম্যান পাওয়েল-গুড়াকেশ মোতিরাও ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। খানিকটা ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল রোমারিও শেফার্ড। তবে তার ২৭ বলে ৩৩ রানের ইনিংস কেবলই জয়ের ব্যবধান কমিয়েছে।
বাংলাদেশের হয়ে ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করে ইনিংসের সেরা বোলার রিশাদ হোসেন। তা ছাড়া তাসকিন ও মেহেদী ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৮৯/৭ (জাকের ৭২*, রিশাদ ০*; লিটন ১৪, পারভেজ ৩৯, তানজিদ ৯, মিরাজ ২৯, শামীম ২, মেহেদী ০, তানজিম ১৭)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৬.৪ ওভারে ১০৯/১০ (সিলস ৪*, ম্যাককয় ০*; কিং ০, গ্রিভস ৬, পুরাণ ১৫, চেজ ০, চার্লস ২৩, পাওয়েল ২, মোটি ১২, জোসেফ ২, শেফার্ড ৩৩)
ফল : বাংলাদেশ ৮০ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : জাকের আলী
সিরিজসেরা : মেহেদী হাসান