ধবলধোলাইয়ের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ ২৩:০৪ পিএম
বছরের শেষটায় জয় দিয়েই সারতে বদ্ধপরিকর মিরাজ ব্রিগেড— সংগৃহীত ছবি
শঙ্কার ভবিষ্যদ্বাণী শুনিয়েছিল ওয়ানডে সিরিজ। টেস্ট সিরিজে পাওয়া আশার পারদও পছন্দের ফরম্যাটে টেকেনি। টি-টোয়েন্টিতে সম্ভাবনার কথা অবশ্য শুরু থেকেই বলে আসছেন লিটন দাস, ‘এই ফরম্যাটে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ ব্যাটিংয়ে সেরাটা ধারেকাছে যেতে না পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বোলাররা সেটা পেরেছেন। তিন ম্যাচের সিরিজ তাই এক ম্যাচ হাতে রেখেই জিতেছে বাংলাদেশ। এবার ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাইয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার সামনে মিরাজ-লিটনরা। টাইগার কোচ ফিল সিমন্স আশাবাদী শেষটা জয়েই সারবেন।
মারকাটারি সংস্করণের সিরিজে আগামীকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয়বার মুখোমুখি লড়াই। শুক্রবার সকাল ৬টায় কিংস্টনের আর্নেস ভেলে গ্রাউন্ডে শুরু হওয়া ম্যাচটি দেখাবে টি-স্পোর্টস। কুড়ি কুড়ির সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। নিয়মরক্ষার ম্যাচটিতে সফরকারীদের পাওয়ার আছে অনেক কিছু। শেষ টি-টোয়েন্টি জিততে পারলে হোয়াইটওয়াশ হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যা আগে কখনও টি-টোয়েন্টিতে হয়নি। লিটনরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তাদের কাজ এখনও বাকি। বছরের শেষটায় জয় দিয়েই সারতে বদ্ধপরিকর প্রতিপক্ষ ক্যারিবিয়ানরাও।
কুড়ি ওভারের সংস্করণে ধারে-ভারে অনেকটা এগিয়ে থাকলেও এই সিরিজে বোলারদের কাছে পাত্তা পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিজয় দিবসে দারুণ জয় আনে লিটন দাসের দল। এগিয়ে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয়টিতে বোলারদের নৈপুণ্যে নিশ্চিত হয় সিরিজ।
টি-টোয়েন্টিতে এখন অবধি আটটি সিরিজ খেলে তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। চারটি সিরিজের ট্রফি নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একটি হয়েছে ভাগাভাগি। মুখোমুখি দেখায় ১৮ ম্যাচের নয়টিতে জিতেছে ক্যারিবিয়ানরা। সাতটিতে জয় বাংলাদেশের। ফল হয়নি দুটি টি-টোয়েন্টিতে। চলতি সিরিজে কালকের ম্যাচ বাকি থাকলেও সিরিজ খুইয়ে বসেছে ক্যারিবিয়ানরা। এবার হোয়াইটওয়াশ তথা ধবলধোলাইও চায় বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার টাইগার কোচ সিমন্স ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে সেই কথাটিই বলেছেন, ‘হোয়াইটওয়াশ করতে পারবে কি না জানি না। সিরিজ জিতেছি, এটাই বড় বিষয়। শেষ ম্যাচ তো জিততে চাইব অবশ্যই। জয় দিয়ে সিরিজ শেষ করতে চাই, হাসিখুশি হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।’
পরে আর গোমর রাখেননি ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি, খোলাসা করেছেন বাকিটাও। সিমন্সের বিশ্বাস টানা দুই জয়ে সিরিজ বগলদাবা করা লিটন ব্রিগেড শেষ ম্যাচটিতেও ফল পক্ষে আনবে, ‘প্রতিটি ম্যাচের আগেই বিশ্বাস করি জেতা সম্ভব। ওয়ানডে সিরিজে কোনা ম্যাচ না জিতলেও এখানে এসে এই আলোচনাই করেছি, কীভাবে জেতা সম্ভব। প্রথম ম্যাচেও। দ্বিতীয় ম্যাচেও। এবার তৃতীয় ম্যাচ নিয়ে বসব, কীভাবে জেতা যায়। আমাদের জয়ের সামর্থ্য আছে।’
টাইগার কোচের মতে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশ, এত দুর্দান্তভাবে ফিরেছে জেদের কারণে। ফিল সিমন্স বলেছেন, ‘ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির দুটো দল ভিন্ন। দুই দলে কিছু পরিবর্তন আছে। অনেকে আছে যারা ওয়ানডে দলে ছিল না, কিন্তু টি-টোয়েন্টি দলে এসে যোগ দিয়েছে। সব সময় আগের চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স চাইবেন। ওয়ানডে সিরিজ হারের পরও ছেলেরা টি-টোয়েন্টি সিরিজে আগের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। যদিও ওয়ানডেতেও আমরা ভালো খেলেছি। আমার মনে হয় ওয়ানডে সিরিজের পারফরম্যান্স ওদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে যে এই দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব। যতটা সহজে আমরা জিতেছি, তা আগেভাগে অনুমান করার সুযোগ নেই। খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
সিরিজ নিশ্চিতের পর লিটন দাস ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লড়াই শেষ না হওয়ার। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের চাওয়া শেষ ম্যাচে আরও ভালো ক্রিকেট খেলা, ‘এমন জয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। সব বোলারকেই কৃতিত্ব দিতে হবে। যখন আমরা উইকেট নিতে শুরু করি, যে-ই বোলিংয়ে এসেছে, উইকেট এনে দিয়েছে। এটা পুরোপুরি দলীয় প্রচেষ্টার ফসল। এই মুহূর্তে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। আমাদের আবারও ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’
প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েল অবশ্য কথা দিয়েছেন সেন্ট ভিনসেন্টের আর্নস ভেলে গ্রাউন্ডে আসা দর্শকদের জয় উপহার দেবেন। সিরিজ খোয়ানোর পর ক্যারিবিয়ান ব্যাটার হতাশার মাঝে লক্ষ্যও জানিয়েছিলেন, ‘হার অবশ্যই দুশ্চিন্তার। দুটি ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একই ধরনের ভুল করেছি। এই জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে। সেন্ট ভিনসেন্টের দর্শকদের ধন্যবাদ দিতেই হবে। তাদের একটি জয় প্রয়োজন। শেষ ম্যাচে তাদের জন্য আমরা লড়াই করব।’