প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:১০ পিএম
সাইম আইয়ুব ও আগা সালমান
মাঠের লড়াইয়ে পেসাররা পাত্তা পাচ্ছিলেন না। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রিজওয়ান তাই নিয়ে ফেলেন সাহসী এক সিদ্ধান্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট ফেলতে বল তুলে দিয়েছিলেন খণ্ডকালীন দুই বোলারের হাতে। আগা সালমান ও সাইম আইয়ুব-দুজনেই বল হাতে রিজওয়ানের চাওয়াকে ছাড়িয়ে গিয়ে দেখিয়েছেন রীতিমতো ভেলকি।
প্রথম ওয়ানডেতে পরে লক্ষ্য তাড়ায় দলের বিপদে আইয়ুব ও সালমান নিজেদের হাতের ব্যাটও হাসিয়ে ছেড়েছেন। দুজনে মিলে লিখেছেন ১৪১ রানের দারুণ এক জুটির গল্প। যা একদিনের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ।
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে (১০৯) আইয়ুব ফিরে গেলেও ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস (৮২*) উপহার দিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে তবেই মাঠ ছাড়েন সালমান। দুজনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যেই তিন বল হাতে রেখেই ৩ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
পার্লের বোল্যান্ড পার্কে পাকিস্তান ২১ বছর পর খেলতে নেমেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল্পতেই বেঁধে ফেলেছিল। হাইনরিখ ক্লাসেনের ৮৬ আর রিকেলটন, মার্করাম ও টনি ডি জর্জির ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংসের ওপর পর ভর করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান তুলেছিল প্রোটিয়ারা। ৩২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন সালমান।
লক্ষ্য তাড়ায় দলীয় ৬০ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে আইয়ুব ও সালমানের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে সফরকারীরা। এরপর শেষ স্পেল করতে এসে ক্যাগিসো রাবাদা ও তাবরাইজ শামসি দ্রুত ৩ উইকেট ফেলে দিয়ে লড়াই খানিকটা জমিয়ে তোলেন। কিন্তু নাসিম শাহকে নিয়ে (৯*) বাকি কাজটা ঠিকভাবেই সম্পন্ন করে দলকে জয় এনে দিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন সালমান। সুবাদে পাকিস্তান জয়ের বন্দরে নোঙর করে ৩ বল হাতে রেখেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৩৯/৯, ৫০ ওভার (ক্লাসেন ৮৬, রিকেলটন ৩৬, মার্করাম ৩৫, ডি জর্জি ৩৩; সালমান ৪/৩২, আবরার ২/৩২, আইয়ুব ১/৩৪ ও আফ্রিদি ১/৪৬)।
পাকিস্তান: ২৪২/৭, ৪৯.৩ ওভার (আইয়ুব ১০৯, সালমান ৮২*, বাবর ২৩, নাসিম ৯*; বার্টম্যান ২/৩৭, রাবাদা ২/৪৮, ইয়ানসেন ১/৪৫ ও শামসি ১/৫৪)।
ফল: পাকিস্তান ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: আগা সালমান।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তান ১-০ তে এগিয়ে।