আল-আরাফাহ ব্যাংক এনসিএল টি-টোয়েন্টি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৩৪ পিএম
জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়। ডানহাতি এই ব্যাটারের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ঢাকা বিভাগকে ২১ রানে হারিয়েছে খুলনা বিভাগ। বরিশাল বিভাগকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টানা পাঁচ জয়ে সবার আগে প্লে-অফে উঠে গেছে রংপুর বিভাগ। এদিকে সিলেট বিভাগকে ১ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ পর্ব নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেট্রো। এই হারে প্রথম পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে গেছে সিলেট। আর রাজশাহী বিভাগকে ৪ রানে হারিয়ে আসরে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ।
১১ বছর পর বিজয়ের সেঞ্চুরি
গতকাল মঙ্গলবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১১ বছর পর সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন এনামুল হক বিজয়। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ৬৭ বলে ১০১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৫টি ছক্কার মার। তার ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ভর করে ঢাকা বিভাগকে ২১ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠেছে খুলনা বিভাগ। এদিন টস হেরে ব্যাট করে শুরুতে ৩ উইকেটে ১৮০ রান করে খুলনা। জবাবে ৪ উইকেটে ১৫৯ রানে থেমেছে ঢাকা বিভাগ।
বিজয়ের সেঞ্চুরির সঙ্গে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন নুরুল হাসান সোহান। সদ্যই অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপজয়ী অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম ১৮ ও ওপেনার ইমরুল কায়েস ১৪ রান করেন। জবাবে ঢাকা ৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিশা হারিয়ে ফেলে। তাইবুর রহমান ও মাহিদুল ইসলাম ৮৭ রানের জুটি গড়েও হার এড়াতে পারেননি। তারা দুজন যথাক্রমে ৬৩ ও ৪৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
সবার আগে প্লে-অফে রংপুর
পাশের একাডেমি মাঠে বরিশাল বিভাগকে ৭ উইকেটে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে রংপুর বিভাগ। এই জয়ে সবার আগে প্লে-অফের টিকিটও কেটেছে আকবর আলীর দল। টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ১৯.২ ওভারে মাত্র ১০৮ রানে অলআউট হয় বরিশাল। জবাব দিতে নেমে ৩ উইকেট হারালেও ১৩ বল আগেই জয় পায় রংপুর।
বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন ওপেনার ইফতেখার হোসেন। এ ছাড়া ১৫ রান আসে কামরুল ইসলাম রাব্বির ব্যাটে। রংপুরের হয়ে ৯ রান দিয়ে চার উইকেট নেন আলাউদ্দিন বাবু। রান তাড়ায় চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪৪ বলে ৫৩ রান করেন। এরপর ২৬ বলে ২১ রান করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ১৪ বলে ১৬ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করে আসেন আকবর আলী।
মুশফিক-হৃদয়েও ব্যর্থ রাজশাহী
সিলেট আউটার স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিভাগকে ৪ রানে হারিয়ে প্লে-অফ পর্বে খেলার আশা বাঁচিয়ে রেখেছে চট্টগ্রাম বিভাগ। তামিম ইকবালহীন চট্টগ্রাম আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছিল। ওপেনিংয়ে নেমে ফিফটি করেন মুমিনুল হক, ফিফটির দেখা পেয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার ইরফান শুক্কুরও।
জবাবে তাওহিদ হৃদয়ের ৫০ বলে ৬৯ ও মুশফিকুর রহিমের ৩১ বলে ৪৬ রানের পরও রাজশাহী থামে ১৯৪ রানে। চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যেতে না পারা মুশফিক ও হৃদয় এ ম্যাচ দিয়েই খেলায় ফিরেছেন। দুজনেই সর্বশেষ খেলেছিলেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে নভেম্বরে। কিন্তু জাতীয় দলের দুই ব্যাটার প্রত্যাবর্তনের দিনে আসরের প্রথম পর্ব থেকে বিদায়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে রাজশাহী। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর টানা চার হারে পয়েন্ট তালিকার সাতে নেমে গেছে উত্তরবঙ্গের দলটি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে উঠে আসা চট্টগ্রাম প্লে-অফে খেলার সম্ভাবনা ভালোভাবেই টিকে রেখেছে।
রাব্বীর আক্ষেপে প্লে-অফে মেট্রো
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের শেষ ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ঢাকা মেট্রোর কাছে ১ রানে হেরেছে সিলেট বিভাগ। টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৫৬ রান করেছিল মেট্রো। মেট্রোর ইনিংস দেড়শ পেরোয় মূলত আবু হায়দারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। ২৩ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সিলেটের সেরা বোলার নাইম হোসেন।
রান তাড়ায় অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় অনেক আগেই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছিল সিলেট। তবে শেষদিকে স্বাগতিকদের লড়াইয়ে ফেরান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া মাহফুজুর রহমান রাব্বী। ৩৯ বলে ৩ চার ও ৭ ছক্কায় অপরাজিত ৮২ রানের পরও ৭ উইকেট হারিয়ে থামে ১৫৫ রানে। এই জয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে প্লে-অফ পর্ব নিশ্চিত করে নাঈম শেখের দল।
শেষ ২ ওভারে দলটির দরকার ছিল ৩৯ রান। মেট্রোর পেসার আবু হায়দার রনির ১৯তম ওভারে ১৯ রান নেন মাহফুজুর। শহীদুলের করা শেষ ওভারের সবকটি বল তিনিই খেলেন। স্ট্রাইকে থাকতে দ্বিতীয় বলে রান না নিলেও অন্য চার বলে ৩ ছক্কা ও এক ডাবলসে নেন ২০ রান। শেষ বলে দরকার ছিল ৪ রান; কিন্তু শহীদুলের লো ফুল টস বলটা লং অনের দিকে পাঠিয়ে নিতে পারেন ২।