প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৩৯ পিএম
সাকিব আল হাসান
অবৈধ বোলিং অ্যাকশন নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করতে পারবেন না সাকিব আল হাসান। ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশন নিয়ে এমনকি বিদেশের মাটিতে কোনো ধরনের টুর্নামেন্টেই বল ঘুরাতে পারবেন না। ইসিবির নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পেতে হলে সাকিবকে বোলিং অ্যাকশন সংশোধন করে স্বতন্ত্র মূল্যায়ন কেন্দ্রে অ্যাকশন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। ফের পরীক্ষা দিয়ে তাতে উত্তীর্ণ হলেই কেবল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও বিদেশি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে বোলিং করতে পারবেন। আইসিসির নির্দেশনা পেয়ে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ খবর নিশ্চিত করেছে।
আইসিসির নিয়ম বলে, কোনো একটি ক্রিকেট বোর্ড যদি একজন বোলারকে তাদের নিজস্ব নীতিমালার অধীনে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং নিষিদ্ধ করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা যদি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে মানসম্মত বিশ্লেষণী বিধি অনুযায়ী করা হয়, তাহলে অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, সব জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন এবং তাদের অধীনস্থ ঘরোয়া ক্রিকেটেও একই নোটিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।
সাকিবের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেতে আইসিসি ও ইসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিসিবি। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে একই নির্দেশনা পেয়েছে বোর্ড। বিসিবি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ’সাকিব আপাতত বোলিং করতে না পারলেও তিনি সব ধরনের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন। বিসিবি জানে যে, সাকিব শীঘ্রই তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ করার চেষ্টায় একটি আইসিসি স্বীকৃত পরীক্ষা কেন্দ্রে পুনর্মূল্যায়নের জন্য যাবেন।’ সব ধরনের টুর্নামেন্টে ব্যাটিং করতে পারবেন সাকিব। তার ব্যাটিংয়ের সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার কোনো সম্পর্ক নেই। নিষিদ্ধ হয়েছেন শুধু বোলিংয়ে।
বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়ায় সাকিব আল হাসানের বোলিং নিষিদ্ধ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। এ নিষেধাজ্ঞার কারণে ইসিবি আয়োজিত কোনো ধরনের টুর্নামেন্টে বোলিং করতে পারবেন না বাংলাদেশের তারকা এ বাঁহাতি স্পিনার। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত যে কোনো ধরনের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে বোলিং করার অনুমতি পাবেন তারকা এ অলরাউন্ডার।
সাকিব এখন খেলছেন লঙ্কা টি-টেন টুর্নামেন্টে, গল মার্ভেলসের জার্সি গায়ে। এ আসরে ১০ ডিসেম্বরের পরেও সাকিব একটি ম্যাচ খেলেছেন এবং বোলিংও করেছেন। তবে সাকিব জানিয়েছেন, বোলিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারার খবর তার কাছে এসেছে ওই ম্যাচের পর। এখন শুধু ব্যাটার হিসেবেই লঙ্কা টি-টেন টুর্নামেন্টে বাকি ম্যাচগুলোতে খেলবেন।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর জানায়, ইংল্যান্ডের লাফবরো ইউনিভার্সিটির মেডিকেল বিভাগে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন সাকিব। ১০ ডিসেম্বর পরীক্ষার ফল পেয়েছে ইসিবি। বোলিংয়ে সাকিবের নিষেধাজ্ঞাও সেদিন থেকেই কার্যকর করেছে সংস্থাটি। গত সেপ্টেম্বরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সারের হয়ে খেলার পর তার অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেন আম্পায়াররা।
২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর সাকিব এখন পর্যন্ত ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে খেলেছেন ৪৪৭টি ম্যাচ। শিকার করেছেন ৭১২ উইকেট। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টিও খেলে যাচ্ছেন তিনি অনেক দিন ধরে। তবে এর আগে কখনোই কোথাও সাকিবের বোলিং অ্যাকশন প্রশ্ন মুখে পড়েনি। সেপ্টেম্বরের সাকিব কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সারের জার্সি গায়ে একটি ম্যাচই খেলেছিলেন। ওই ম্যাচে দুই ইনিংসে ৬৩ ওভার বোলিং করে শিকার করেন ৯ উইকেট।
সাকিবের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলে অভিযোগ উঠার খবর আসে প্রায় এক মাস বাদে। গত ২ ডিসেম্বর বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা দেন সাকিব। পরীক্ষায় তাকে বোলিং করতে হয় ৪ ওভার। নিয়ম হচ্ছে, বল ডেলিভারি দেওয়ার সময় বোলারের কনুইয়ের বাঁক ১৫ ডিগ্রির বেশি হতে পারবে না কোনোভাবেই। পরীক্ষায় বোলিংয়ের সময় সাকিবের কনুইয়ের বাঁক অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি ছিল। স্বাভাবিক কারণে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হলো সাকিবকে। তবে সাকিবের কনুই কত ডিগ্রি বেঁকে ছিল, তা অবশ্য জানা সম্ভব হয়নি।