প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৫৫ পিএম
সাকিব আল হাসানে
পরীক্ষার রিপোর্ট বলছে, তার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ। এ কারণে সাকিব আল হাসানের বোলিং নিষিদ্ধ করেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। বাংলাদেশ দলের তারকা এ বাঁহাতি স্পিনার ইসিবি আয়োজিত কোনো টুর্নামেন্টে বোলিং করতে পারবেন না। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নটি উঠেছে- ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সাকিব কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করতে পারবেন? বোলার হিসেবে কি খেলতে পারবেন বিপিএলসহ বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলোতে? আইসিসির নিয়মই বা কি বলছে?
সন্দেহজনক ও ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির একটি স্বতন্ত্র নীতিমালা রয়েছে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সেই নীতিমালার ১১.৩ অনুচ্ছেদ বলছে, ‘একটি জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন যদি একজন বোলারকে তাদের নিজস্ব নীতিমালার অধীনে ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং নিষিদ্ধ করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা যদি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে মানসম্মত বিশ্লেষণী বিধি অনুযায়ী করা হয়, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞাকে আইসিসি আমলে নেবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরোপ করবে।’ এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের বোলিং নিষিদ্ধ করতে পারবে আইসিসি। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পর্যন্ত জানায়নি বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি।
অন্য সব দেশের ক্রিকেট বোর্ডের অধীন ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও কার্যকর হবে সাকিবের এ নিষেধাজ্ঞা। বিধির একই অনুচ্ছেদ এমনটাও বলা রয়েছে, ‘অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া সব জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন এবং তাদের অধীনস্থ ঘরোয়া ক্রিকেটেও একই নোটিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। আইসিসি এবং জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশনগুলো সিদ্ধান্ত আরোপ ও কার্যকরের জন্য সব পদক্ষেপ বিধিসম্মতভাবে নেবে।’
তবে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সাকিবকে বোলিং করার সুযোগ দেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে বিসিবির। নীতিমালার ১১.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সাকিবের বোলিং নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বোর্ডের। এই অনুচ্ছেদ বলছে, ‘১১.১ ও ১১.৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাসপেন্ড হওয়া সত্ত্বেও খেলোয়াড়কে তার জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় বোলিং চালিয়ে যেতে অনুমতি দিতে পারবে (তবে এটা বাধ্যমূলক নয়)।’ ধরনের টুর্নামেন্টে ব্যাটিং করতে পারবেন সাকিব। তার ব্যাটিংয়ের সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞার কোনো সম্পর্ক নেই। নিষিদ্ধ হয়েছেন শুধু বোলিংয়ে।
গত সেপ্টেম্বরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সারের হয়ে খেলার পর তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করেন আম্পায়াররা। পরে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সাকিব বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দেন ইংল্যান্ডের লাফবরো ইউনিভার্সিটির পরীক্ষাকেন্দ্রে। সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরীক্ষায় তার বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়ে। পরীক্ষায় বোলিংয়ের সময় সাকিবের কনুইয়ের বাঁক অনুমোদিত সীমা ১৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি ছিল।