প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৫:৩১ এএম
আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৫:৩৮ এএম
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা
২০২১ সালের ২ এপ্রিল বাংলাদেশ নারী দল টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে। আইসিসি অনুমোদন দিলেও কিন্তু বাংলাদেশের নারীরা এখনো টেস্ট ক্রিকেটে নাম লিখতে পারেনি। এই অপূর্ণতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। চালু করতে যাচ্ছে নারীদের তিনদিনের ম্যাচ। তার মানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাম লিখতে যাচ্ছেন নিগার সুলতানা জ্যোতিরা।
এর আগে লাল বলে দেশের নারী ক্রিকেটাররা খেলেছেন দুই দিনের ম্যাচ। এবার নিগার সুলতানা জ্যোতি, শারমীন সুপ্তারা খেলতে যাচ্ছেন তিন দিনের ম্যাচ। নারীদের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) মাঠে গড়াবে ২১ ডিসেম্বর। সাউথ, ইস্ট, সেন্ট্রাল ও নর্থ জোন- চারটি দলে ভাগ হয়ে খেলবেন নারী ক্রিকেটাররা।
নারীদের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন বিসিবি নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান হাবিবুল বাশার সুমন, ‘আমরা যদি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাই, তাহলে আমাদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে হবে। নারীদের তিনদিনের এই প্রতিযোগিতা সেই পথে এগিয়ে নেবে। এটি প্রথম পদক্ষেপ। তাদেরকে তিন দিনের ম্যাচ খেলে অভ্যস্ত হতে হবে। তারা যদি বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো করতে চায় তাহলে এই ম্যাচগুলোতে ভালো করতে হবে। আমরা চাই মেয়েদেরকে সর্বোচ্চ সুযোগ দিতে। তারা যত বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট খেলবে ততো ভালো করার সম্ভাবনা থাকবে। আশা করছি, বিসিএলে মেয়েদের এই প্রতিযোগিতা নতুন করে তাদের ক্রিকেটে আরও এগিয়ে নেবে।’
লাল বলের ক্রিকেটে পা রাখতে স্বপ্নে বিভোর দেশের নারী ক্রিকেটাররা। তবে বোর্ড তাদের টেস্ট খেলানো নিয়ে বেশ সতর্ক। এখন তিন দিনের ম্যাচ আয়োজন করবে। পরে বিসিবি তাদের নিয়ে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। মেয়েদের ‘এ’ দলের সিরিজও আয়োজন করবে বিসিবি। হুট করেই মেয়েদের লাল বলের ক্রিকেট খেলাতে মাঠে নামানোর ঝুঁকি কোনোভাবেই নিতে চান না হাবিবুল বাশার, ‘টেস্ট ক্রিকেট এতোটা সহজ না। আমরা চাই, ওদের পুরোপুরি প্রস্তুত করতে। এরপর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের মাঠে নামাতে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে আমাদের নারী ক্রিকেট যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়েছে আমরা চাই টেস্ট ক্রিকেটেও একই ধারাবাহিকতায় থাকুক। এর জন্য আমাদের আলাদা ক্রিকেটার খুঁজে বের করতে হবে। তাদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা বড়, স্বপ্নটাও বড়। আশা করছি, তারা যখন টেস্ট ক্রিকেটে মাঠে নামবে তখন ভালো প্রস্তুতি, দাপট দেখিয়েই মাঠে নামবে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের নারী দলও। তবে তারা এখনো টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখতে পারেনি। আফগান নারী ক্রিকেটও নিষিদ্ধ করেছে দেশটির তালেবান সরকার। এখন পর্যন্ত টেস্ট খেলেছে বিশ্বের দশটি নারী ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে খেলেছে। আইসিসির সহযোগী সদস্য হয়েও টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ড।
নারী ক্রিকেটে সর্বাধিক বেশি টেস্ট খেলেছে ইংল্যান্ড (১০০)। ৭৯ টেস্ট খেলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ড (৪৫), ভারত (৪১), দক্ষিণ আফ্রিকা (১৫) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১২) দশটির অধিক টেস্ট খেলেছে। পাকিস্তান খেলেছে ৩টি, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস মাত্র একটি করে টেস্ট খেলেছে।