× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মিরাজদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতি কাঠগড়ায়

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:২৫ পিএম

মিরাজদের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রস্তুতি কাঠগড়ায়

তিনশ ছাড়ানো পুঁজি। ওয়ানডেতে বছরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ-৩২১ রান। তবু সেন্ট কিটসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ধবলধোলাই বাংলাদেশ। সফরকারীদের বিপক্ষে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেতে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে রেকর্ড গড়তে হতো ক্যারিবিয়ানদের। অভিষিক্ত আমির জাঙ্গুর অপরাজিত সেঞ্চুরি ও কিসি কার্টির কীর্তিতে প্রায় ১০ বছর পর ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল সফরকারীরা। সবশেষ ২০১৪ সালে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বাধীন দল ক্যারিবীয়দের কাছে ৩-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল। সেই সিরিজও হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে।

নানা কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের কাছে। বিশেষ করে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। আট জাতির টুর্নামেন্ট ওয়ানডে ফরম্যাট হওয়াতে বছরের শেষ সিরিজটি বেশ গুরুত্বসহকারে দেখেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কিন্তু শাই হোপদের বিপক্ষে আশার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ মেহেদী হাসান মিরাজরা। এক কথায় আইসিসির অন্যতম শীর্ষ ইভেন্টের আগে সফরকারীদের প্রস্তুতি একেবারে জঘন্য। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজে পা রাখার আগে ওয়ানডেতে তাদের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। তাদের হয়েছে রাহুর দশা।

ওয়ানডে বাংলাদেশের পছন্দের ফরম্যাট। ক্রিকেটারদের মুখ থেকে প্রায়ই শোনা যায় এমন কথা। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকে ১২ ওয়ানডের ৮টিই হেরেছে বাংলাদেশ। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে সফরের আগে বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণ করে। সেখানে আফগানিস্তানের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের লজ্জায় পড়ে। মোহাম্মদ নবি-রশিদ খানদের বিপক্ষে পূর্ণশক্তির দল নিয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি নাজমুল হোসেন শান্ত। আর ব্যর্থতার মাত্রা দ্বিগুণ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ পৌঁছে। এমন অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান সঙ্গী করে পাকিস্তানে খেলতে যাবে বাংলাদেশ। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ব্যর্থতা নিয়ে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট কিংবা অধিনায়ক মিরাজ একটা যৌক্তিক কারণ দাঁড় করাতে পারেন। ব্যর্থতার প্রশ্নে উত্তর আসতে পারে, অভিজ্ঞ ও বেশ কয়েকজন সিনিয়রকে ছাড়াই খেলছে দল। অবশ্য বর্তমান স্কোয়াডে নিয়মিত ক্রিকেটারদের অনেকেই নেই। চোটের কারণে দলের বাইরে অধিনায়ক নাজমুল, মুশফিকুর রহিম ও তাওহীদ হৃদয়। ব্যক্তিগত কারণে ছুটিতে বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাওয়া নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে মূল ক্রিকেটারদের ছাড়াই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শেষ প্রস্তুতি সিরিজে নামতে হয়েছিল বাংলাদেশ দলকে। গতকাল ম্যাচ শেষে এ নিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘এই সিরিজে আমরা বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে পাইনি। যা আমাদের সমস্যার কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছিল।’

এর আগে আফগানিস্তান সিরিজে অংশ নেওয়ার আগেই নিয়মিত অধিনায়ক শান্ত বলেছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কীভাবে খেলতে হবে তার একটা ধারণা পেতে চান সদ্য শেষ হওয়া দুই সিরিজ থেকে।’ অথচ আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বাংলাদেশের হতশ্রী পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও ভয় বাড়াচ্ছে। তার মধ্যে শাই হোপদের বিপক্ষে হারের কারণ হিসেবে মিরাজ যে ব্যাখ্যা-যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন, তা নিয়েও হাস্যরস তৈরি হয়েছে। সফরজুড়েই ‘আমাদের শেখার আছে’, ‘মাঝের ওভারে সমস্যা’, ‘ব্যাটাররা খুব একটা ভালো করতে পারেনি’, ‘উইকেট নিতে ব্যর্থ হয়েছি’Ñ প্রতিউত্তরে এসব বলেছেন। 

বাংলাদেশের অধিনায়ক কিন্তু একেবারেই মন্দ বলেননি। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ২৯৪ রানের জবাবে ৫ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওই ম্যাচে মোটেও ভালো বোলিং উপহার দিতে পারেননি দেশের বোলাররা। যাচ্ছেতাই বোলিং করেছেন মিরাজ নিজেও। প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর অধিনায়ক বলেছিলেন, ‘আমরা বোলিংয়ে আরও ভালো করতে পারতাম এবং মাঝের ওভারগুলোয় উইকেট নিতে পারিনি। আমাদের শেখার আছে।’

দ্বিতীয় ওয়ানডে এবং তৃতীয়টিতেও একই সুরে কথা বলেছেন মিরাজ। বোলারদের ব্যর্থতা, কখনও দায়টা গিয়ে ঠেকেছে ব্যাটারদের ওপর। সঙ্গে আরেকটি শব্দ প্রায়ই যুক্ত করেছেন, বারবারই বলেছেন শেখা ও জানার কথা। শেষ ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘এই সিরিজের পর আমাদের সামনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং আমরা জানি, আমাদের উন্নতি করতে হবে। আশার কথা হলো, কীভাবে উন্নতি করতে হবে, সেটা আমরা বুঝি।’

বাংলাদেশ যেখানে বারবারই শেখা আর জানার কথা বলেছে, সেখানে কেসি কার্টিকে সঙ্গে নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের দারুণ জয় উপহার দিয়েছেন আমির জাঙ্গু। ম্যাচ শেষে এই ব্যাটার বলেছেন, ‘সত্যি বলতে আমি আজকে ব্যাটিংয়ের সময় খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। উইকেট খুব ভালো ছিল, গ্রাউন্ডসম্যানদের কৃতিত্ব দিতে হবে। আমি ফিফটি করার পর খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেসি (কার্টি) সেঞ্চুরি পায়নি, কিন্তু সে দারুণ খেলোয়াড় এবং আমাদের জিততে সাহায্য করেছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা