ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৮ পিএম
দুই, কুড়ি কিংবা চল্লিশÑ বিরহের অনলে যারা পোড়েন কিংবা বুকে চাপা হিমালয়সম ক্ষোভ, প্রতিশোধ তাদের মুক্তির একমাত্র পথ। ঠিক বছর দুয়েক আগে প্রভিডেন্সে ‘অপমৃত্যু’ ঘটেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের। সেবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ধবলধোলাই হয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। এবার শোধের সুযোগ স্বাগতিকদের সামনে। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা উইন্ডিজরা সিরিজের শেষ ম্যাচে জিতলেই পাবেন মানসিক ক্ষতে মলম দেওয়ার সুযোগ। স্বাগতিক দলের অধিনায়ক শাই হোপও চান বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করে প্রতিশোধ নিতে। অবশ্য শেষ ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজদের অভিন্ন লক্ষ্য। সফরকারীও মান বাঁচানোর জন্য লড়বেন।
সেন্ট কিটসের বাসেটেরের ওয়ার্নার
পার্কে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে সাতটার ম্যাচে মানসিক ও পরিসংখ্যানে ঢের
এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সবশেষ দুটি ওয়ানডে সিরিজেই বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাই হতে
হয়েছে ক্যারিবিয়ানদের। তেতো সেই স্বাদটা এবার তারা ফিরিয়ে দিতে প্রস্তুত। তৃতীয় ও শেষ
ওয়ানডে ম্যাচের আগে আশার কথা শুনিয়েছেন হোপ। দ্বিতীয় ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন
‘খুব ভালো লাগছে। পাওয়ার প্লেতে খেলোয়াড়দের কাছে উইকেট চেয়েছিলাম, যেটা তারা পেরেছে।
জেইডেনকে ভালো করতে দেখে দারুণ লাগছে। আমরা সব সময় নিজেদের খেলা বিশ্লেষণ করি ও বোলাররা
যেভাবে ফিরেছে সেটাও দারুণ ব্যাপার। তবে উন্নতির জায়গা তো আছেই। আমরা সিরিজ জিততে পারছিলাম
না, আশা করি ৩-০ করতে পারব।’
স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও
জিম্বাবুয়ে ছাড়াও আইসিসি র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলবে।
উইন্ডিজরা এখন র্যাংকিংয়ে দশম, বাংলাদেশ নবম। হোপ সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপে সুযোগ পেতেই
সামনের ম্যাচগুলো জিতে পয়েন্ট বাড়াতে চান। এজন্য প্রতিটি ম্যাচকে সম গুরুত্ব দিচ্ছেন
তিনি। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক বলেছেন, ‘প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পয়েন্ট তুলে
নিয়ে আরও ওপরে উঠতে চাই, আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করতে চাই।’
ওয়ানডেতে যে দলটির বিপক্ষে
হারতে ভুলে গিয়েছিল, সেই দলটির কাছেই টানা দুই ম্যাচে হারল বাংলাদেশ। তাতে ১০ বছর পর
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত হয়েছে এই সংস্করণের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
দুই বছর আগেও ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে স্বাগতিকদের ধবলধোলাই করে আসা বাংলাদেশ দলের কী হলো!
কেন তারা কোনোভাবেই পেরে উঠতে পারছে না। এর জন্য অনেকেই অনেক যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন।
তবে বেশ কিছু সমস্যা বেশ ভালোভাবেই ফুটে উঠেছে। সেগুলো সামনে আনা যায়। তবে নির্দিষ্ট
করে ব্যাটারদেরই দুষেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। মিরাজ বলেছেন, ‘মাঝের ওভারগুলোয় আমরা
ভালো ব্যাটিং করিনি। কোনো জুটি হয়নি, একের পর এক উইকেট পড়েছে। মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব
(তানজিম) ভালো খেলেছে তবে ভুলটা আমাদেরই।’
শুরুর দিকে দ্রুত উইকেট পড়ে
গেলেও খেলায় ফেরা সম্ভব ছিল। কিন্তু ১১৫ রানে বাংলাদেশের সাত উইকেট পড়ে যায়। শেষের
দিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও পেসার তানজিম সাকিবের দৃঢ়তায় মোটামুটি মানের দলীয় স্কোর
দাঁড় হয়। এর জন্য প্রতিপক্ষ দলের বোলারদের প্রশংসা করেছেন মিরাজ। তিনি বলেছেন, ‘সিলসরা
ভালোই বল করছিল। আমরা শুরুতে রান ওঠাতে পারছিলাম না। ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও ভেবেছিলাম
ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। আমাদের স্কোর যথেষ্ট ছিল না, ৩০০ রানের বেশি করা দরকার ছিল।’