রুবেল রেহান
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:২২ পিএম
আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৪৩ পিএম
ঐতিহ্যবাহী তো বটে। সঙ্গে তকমা সাঁটানো— চ্যাম্পিয়ন। অথচ বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাব এখন ঘুণে ধরা, মৃতপ্রায়। তবে ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করা ক্লাবটিকে পুনর্জাগরণ ও পুনর্গঠনে উদ্যোগী বিআরটিসি। ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর তথা বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে দলভুক্তকরণে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে যোগাযোগ, চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে অংশগ্রহণের তোড়জোড়, প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু এবং ক্লাবকে নব উদ্যমে সাজানোর যত উদ্যোগ, সবই করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাটি।
বিআরটিসির চেয়ারম্যান ও কারিগরি বিভাগের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ক্লাবের আদ্যোপান্ত। বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাবকে সময়োপযোগী এবং সামনে এগিয়ে নিতে নতুন করে ভাবছে বিআরটিসি। প্রতিষ্ঠানের কারিগরি বিভাগের পরিচালক ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের মুখপাত্র কর্নেল মোহাম্মদ মোবারক হোসেন মজুমদার এ নিয়ে বলেন, ‘হারিয়ে যাওয়া বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাবের পুনর্জাগরণের জন্য বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাবকে লিগে দলভুক্ত করার জন্য গত মে মাসে ফেডারেশনে পত্র পাঠানো হয়। এ ছাড়া আসন্ন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস লিগ ২০২৪-২৫ মৌসুমে বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাবকে অংশগ্রহণের জন্য পরের মাসে লিখিতভাবে বাফুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।’ মোবারক হোসেনের কথা মতো ফেডারেশনে যোগাযোগ করলে পত্র প্রেরণের সত্যতা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সব ঠিক থাকলে এবং বাফুফের অনুমতি পাওয়া গেলে আসন্ন বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়শিপ লিগেই দেখা যাবে বিআরটিসিকে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ক্রীড়া এবং দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য। এজন্যই বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাবকে আবার নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ফুটবলের প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে- বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
পেশাদারত্বের যুগে কোনো ক্লাবকে মাঠের লড়াইয়ে আসতে হলে আগে ঠিক করতে হয় ক্লাবের মাঠ, আবাসন ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়। সেদিক থেকেও অনেকটা অগ্রসর বিআরটিসি। জানা গেছে, গাজীপুর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রাথমিকভাবে নিজস্ব খেলোয়াড়দের ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প চালু করেছে ক্লাবটি। সেখানে নিজেদের মাঠ ও ক্যাম্পও রয়েছে বলে জানান বিআরটিসির মুখপাত্র মোবারক হোসেন। এ ছাড়া ক্লাবের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে সংস্থাটি।

ক্রীড়াঙ্গনে বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাব একটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব; যাত্রা শুরু ১৯৬৬ সালে। রেকর্ড ঘেঁটে জানা যায় দেশের দ্বিতীয় স্তরের লিগে ক্লাবটি ১৯৭৩ ও ১৯৮২ সালে দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। গৌরব ফিরেছে বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ দিক থেকেও। একসময় প্রতিষ্ঠানটিতে ছিল স্বচ্ছতার ঘাটতি, জনবলের অভাব। এ ছাড়া আর্থিক সক্ষমতায় দুর্বলতা ছিল। সেসব অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে বিআরটিসি। এবার তারা নজর দিয়েছে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি চর্চায়। বিআরটিসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ক্রীড়া এবং দেশীয় সংস্কৃতি চর্চা অপরিহার্য। এজন্যই বিআরটিসি স্পোর্টস ক্লাবকে আবার নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ফুটবলের প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে। ৩০ জন খেলোয়াড় আমরা বিআরটিসি থেকেই পেয়ে যাচ্ছি। যারা জেলাসহ বিভিন্ন লিগে খেলবে। সুতরাং কর্মচারীদের উজ্জীবিত ও মনের দিক দিয়ে চাঙ্গা রাখতেই আমাদের এই প্রয়াস ফুটবলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক দল গঠন করা হয়েছে।’
দল গঠনের পর রুট লেভেল থেকে খেলোয়াড় তুলে আনার কাজেও নজর দেবে বিআরটিসি। যদিও প্রাথমিকভাবে বিআরটিসি থেকেই খেলোয়াড় সংগ্রহ করছে তারা। তাজুল ইসলামের ভাষ্য, ‘অল্প সংখ্যক খেলোয়ার পেলে আমরা এটাকে আবাহনী, মোহামেডান মানের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারব, আশা করি। আমাদের তেমনই চিন্তাভাবনা আছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান বিআরটিসিকে স্পন্সর করার কথা বলছে। বিআরটিসির গাড়িতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহারের জন্য আবেদন আসতেছে। যদিও আমরা সেটা দিচ্ছি না।’
অনেকটা বর্তমান চেয়ারম্যানের সদিচ্ছায় হচ্ছে ক্লাব পুনর্গঠন। তবে একটা সময় তাকে অবসরে যেতে হবে। তারপর এই ক্লাবের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটিও যাবার আগে ঠিক করে যাবেন তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া কোচ নিয়োগসহ নানা বিষয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে তার। সেটি জানিয়েছেন এভাবে, ‘ইতোমধ্যে আমরা ফুটবল টিম গঠনের কাজ শুরু করেছি। আমরা ক্যাম্প করেছি, লোকাল কোচও নিয়োগ দিয়েছি। আমরা যদি বছরে ২০ লাখ টাকাও খরচ করি। তাহলে বিআরটিসি প্রথম লিগ থেকে শুরু করে সকল লীগেই খেলতে পারবে। সুতরাং ২০ লাখ টাকা খরচ করলে বিআরটিসির জন্য অদূর ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা নেই। এখন নতুন গাড়ি আসতেছে, আমরা নিজেরা গাড়ি বানাচ্ছি। তবে বিআরটিসির এই ম্যানেজমেন্ট ধরে রাখতে হবে। এজন্য আমরা চেষ্টা করতেছি যে বিশেষ করে কর্মকর্তা লেভেলে উদ্বুদ্ধ করতে। তারা যেন বিআরটিসিকে লালন করে। বিআরটিসিকে তারা যেন ধারণ করে। সে ব্যাপারে তাদের ট্রেনিং, মোটিভেশনসহ উজ্জীবিত করতে যা যা করা দরকার আমরা করছি।’