সাক্ষাৎকার
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৫৫ পিএম
বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন সাঁতারু যুথী আক্তার। সংগৃহীত ছবি
হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে আগামী ১০-১৫ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশ থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি ও যুথী আক্তার। সর্বশেষ জাতীয় সাঁতারে নিজেদের বিভাগে দুজনেই হয়েছিলেন সেরা সাঁতারু। প্রতিযোগিতায় চারটি স্বর্ণসহ মোট ৭টি পদক পাওয়া মাদারীপুরের এই সাঁতারু এবার যাচ্ছেন বিশ্ব সাঁতার প্রতিযোগিতায়। যেখানে ১০ ও ১২ ডিসেম্বর খেলবেন যুথী। ২৫ মিটার পুলে তিনি খেলবেন ৫০ মিটার ও ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে। আগামীকাল সকালে হাঙ্গেরির উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন তিনি। যাওয়ার আগে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে।
প্রবা : বয়সভিত্তিক পর্যায়ে একবার ভারতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, তবে এবারই প্রথম বড় কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, কেমন লাগছে?
যুথী : প্রথমবারের মতো এ-রকম একটা প্রতিযোগিতায় দেশের বাইরে যাচ্ছি, সত্যি রোমাঞ্চিত। ভালো লাগছে, আবার একটু ভয়ও করছে।

প্রবা : জাতীয় সাঁতারে নারীদের বিভাগে সেরা হয়েছেন। বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে যাওয়ার আগে এক মাসের মতো সময় পেলেন, প্রস্তুতি কেমন হলো?
যুথী : পুরো এক মাস না। এর মধ্যে ছুটিতেই তো ছিলাম পাঁচ দিন (হাসি)। তবে এর বাইরে বাকি সময়টা কঠোর অনুশীলন করেছি, পরিশ্রম করেছি। ২৫ মিটার পুলে এবার প্রথম খেলব। আর প্রত্যাশা বলতে, প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তাড়না কাজ করে আমার মধ্যে। আশা করি, একটা সেরা টাইমিং করে আসতে পারব।
প্রবা : সাঁতারু না হলে কী করতেন?
যুথী : সাঁতারু না হলে হয়তো ভালো করে পড়াশোনা করতাম। ভালো একটা চাকরি করতাম; বাবা-মা পরিবারকে সাহায্য করতাম।

প্রবা : নৌবাহিনীতে চাকরি তো করেন, তবে কি খেলা থেকে লক্ষ্যটা কমে গেল?
যুথী : মোটেও এমনটা নয়। আমার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব খেলাটায়। আমার লক্ষ্য সাঁতারে অনেক দূর যাওয়া। বাবা আমাকে সাঁতারে দেখে খুশি হয়েছিলেন। তিনি চাইতেন আমি একদিন সাঁতারে অনেক সাফল্য নিয়ে আসব। আমিও চাই একদিন আমি অলিম্পিকে খেলব।
প্রবা : বাবা নেই, তার স্বপ্ন পূরণে এখন কীভাবে একা নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছেন?
যুথী : সত্যি বলতে আমি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। ২০১৬ সালে আমি সাঁতারে আসি। তারপর বাবা মারা গেলেন। এরপর নৌবাহিনী আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। তারা আমাকে অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছে, বিশ্বমানের কোচের কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, যে কারণে আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি।

প্রবা : সাঁতারে আসার শুরুর দিকের গল্পটা কী?
যুথী : ২০১৬ সালে যখন ‘সেরা সাঁতারুর খোঁজে বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইন হয়। সেখানে আমি অংশ নেই। প্রথমে তিন মাসের ক্যাম্প, এরপর তিন বছরের ক্যাম্প হয়। সেখানে আমাকে তিন বছরের ক্যাম্পে ডাকে। প্রথমে আমাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি নৌবাহিনীকে বেছে নেই। যদিও বাবা চেয়েছিলেন আর্মিতে যাই। কিন্তু সে সময় আমি একটু জোর করেই নৌবাহিনীতে আসি। কিন্তু খেলা নিয়ে বাবা কখনও আপত্তি তোলেন নাই।