প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৪ পিএম
শারমিন
আক্তার সুপ্তার আনন্দের পরিমাণ ‘দ্বিগুণ’, হতে পারত তিনগুণও! ১৬ মাস পর আন্তর্জাতিক
ক্রিকেটে ফেরা এই ব্যাটসম্যান প্রত্যাবর্তনটা রাঙিয়েছিলেন দারুণভাবে। আয়ারল্যান্ডের
বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তার সংগ্রহ ২৪৩ রান। শুরু ও শেষ ম্যাচে হয়েছেন ম্যাচসেরা। অথচ
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ফিরতেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন সুপ্তা। জয়ের বন্দরের খুব কাছেই
দেখলেন বাংলাদেশের তরী ডুবতে। ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইওয়াশের নায়ক ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত
থেকেও দলের জন্য অবদান রাখতে পারেননি। অথচ আইসিসি থেকে উড়ে আসা মাসসেরায় মনোনীত হওয়ার
সুসংবাদের দিনে আনসাং হিরো বনে যেতে পারতেন সুপ্তা।
বৃহস্পতিবার
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৭০
রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল আয়াল্যান্ডের মেয়েরা। লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের বন্দরের কাছাকাছিই
ছিল দেশের মেয়েরা। শেষ ১২ বলে স্বাগতিকদের প্রায়োজন ছিল ১৮ রান। হাতে ৬ উইকেট। ক্রিজে
সেট ছিলেন সুপ্তা। অথচ আশা জাগানো এ ম্যাচও দুরূহ হয়ে পড়ে স্বর্ণা আক্তার-রিতু মনিদের
অবহেলায়। মূলত ওরলা প্রেন্ডারগাস্টের বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি দুজন। আইরিশ
পেসার নিজের তৃতীয় এবং ইনিংসের ১৯তম ওভার মেডেন আদায় করেছেন, ঝুলিতে ভরেছেন দুই উইকেট।
শেষ পর্যন্ত ১২ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সফরকারীরা।
আইরিশদের
বিপক্ষে প্রথম ও শেষ ওয়ানডেতে বলা চলে একাই দলের রানের চাকা সচল রেখেছেন সুপ্তা। প্রথম
ম্যাচে ৯৬ এবং শেষটিতে ৭২ রান করেছিলেন ২৮ বর্ষী ডানহাতি এই ব্যাটার। তিন ও চার নম্বর
পজিশনে নেমেও সিংহভাগ সময় দলকে জিতিয়ে বা জয়ের কাছাকাছি নিয়ে থেমেছেন। কিন্তু গতকাল
সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ননস্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়িয়ে কেবল আফসোস করেছেন। শেষ দুই
ওভারে মাত্র একবার স্ট্রাইকে আসার সুযোগ পেয়েছেন সুপ্তা। প্রেন্ডারগেস্ট ১৯তম ওভার
কোনো রান না নিয়ে শেষ করলে ২০তম ওভারে কেলির প্রথম বলে একটি সিঙ্গেল নেন। ওখানে বাংলাদেশের
কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে যায়।
অথচ
১৭০ রানের লক্ষ্যে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। আইরিশ ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়ায় ওপেনিং
জুটিতে দেশের মেয়েরা তোলে ১০৩ রান। ওপেনিং জুটিতে যা বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ইতিহাসে
সর্বোচ্চ রানের জুটি। প্রথম পাওয়ার প্লেতেই দুই ওপেনার তোলেন ৫৬ রান। ওপেনার দিলারা
ছয়বার ক্যাচ তুলে বেঁচে যান। শেষ পর্যন্ত আফসোস নিয়ে ৪৯ রানে থামতে হয় তাকে। বেশ কয়েকবার
জীবন পেয়েছেন আরেক ওপেনার সোবহানা মোস্তারি। এই ব্যাটার ব্যক্তিগত ৪৬ রানে ফেরার পরই
মূলত ওপেনিং জুটি ভাঙে।
ম্যাচের
শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন মোস্তারি। ৩৫ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় তিনি খেলেছেন ৪৬ রানের
ইনিংস। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৫ বলে ৪ রান করে আউট হয়েছেন। স্কোরবোর্ডে
আরও ১ রান যোগ হতে আউট হয়েছেন দিলারা। ৪১ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান
দিলারা। মাত্র ৭ রানে টপ অর্ডার তিন ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
চাপে পড়লেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে ১৭তম ওভারের শেষ বলে তাজ ১৪ বলে ১৯ রান করে
আউট হওয়ার পর উল্টা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ তিন ওভারে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন
ছিল ৩৩ রান। শেষ দুই ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ১৮ রানের। তবে শেষ পর্যন্ত ১২ রানের হার দিয়েই
শেষ হয় ম্যাচ। সুপ্তা ১৩ বলে ২৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। আইরিশ বোলারদের মধ্যে প্রেন্ডারগাস্ট
ও কেলি প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট নেন।
এর
আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামে আয়ারল্যান্ড। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই অ্যামি হান্টারকে শিকারে
পরিণত করে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দিয়েছিলেন জাহানারা আলম। অন্য প্রান্তে গ্যাবি লুইস
দলের হাল ধরেন। দ্বিতীয় উইকেটে প্রেন্ডারগাস্টকে নিয়ে ৩০ রানের জুটি গড়েন আইরিশ কাপ্তান।
ওরলাকে ফেরান জান্নাতুল ফেরদৌস। তারপর তৃতীয় উইকেটে লিয়াহ পলকে নিয়ে রেকর্ড জুটি গড়েন
গ্যাবি লুইস। তাদের জুটি থেকে আসে ৬৪ বলে ১০৭ রান। যা টি-টোয়েন্টিতে আইরিশ মেয়েদের
তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ফারিহা তৃষ্ণার শিকার হয়ে লুইস ফিরলে ভাঙে বড় এই
জুটি। সাজঘরে ফেরার আগে ৭ চার ও ২ ছক্কার মারে ৪২ বলে ৬০ রান করেন গ্যাবি। আইরিশ কাপ্তানের
বিদায়ের পর সফরকারীদের রানের গতিতে ভাটা পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে আয়ারল্যান্ড সংগ্রহ
করে ১৬৯ রান। দলের হয়ে ৪৫ বলে সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন লিয়াহ পল। তার ইনিংসটি
সাজানো ছিল ১০ চার ও ২ ছক্কার মারে। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা, ফারিহা, জাহানারা ও জান্নাতুল
একটি করে উইকেট তোলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড : ১৬৯/৫ (গ্যাবি লুইস ৬০, লিয়াহ ৭৯*; নাহিদা ১/২০, ফারিহা ১/৩২)
বাংলাদেশ : ১৫৫/৭ (দিলারা ৪৯, মোস্তারি ৪৬; প্রেন্ডারগাস্ট ৩/২৪, কেলি ৩/২২)
ফল : আয়ারল্যান্ড ১২ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা : লেয়াহ পল