প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৫০ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৫১ পিএম
২৬৮ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস। ব্যাটারদের কাজ শেষে এবার বোলারদের পালা— সংগৃহীত ছবি
তিনদিনে অন্তত চারবার রঙ বদলেছে কিংস্টন টেস্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জ্যামাইকায় প্রথম দিনের প্রায় পুরোটা গেছে বৃষ্টির পেটে। দ্বিতীয় দিনে টাইগারদের ব্যাটিং ধস। একইদিনে স্বাগতিক ক্যারিবিয়ানদের দৃঢ় প্রত্যয়ী ব্যাটিং। তৃতীয় দিনে আবার নাটকীয় পরিবর্তন। আজ মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে টাইগারদের দ্বিতীয় ইনিংস অবধি টেস্টের হাল বাংলাদেশের পক্ষেই৷ টাইগার ব্যাটারদের দুর্দান্ত দিনে বোলাররা বাকি পথ সামলে নিলে চতুর্থ দিনেই নিশ্চিত হতে পারে ফল।
জ্যামাইকা টেস্টে সব মিলিয়ে বলা চলে মোটাদাগে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মিরাজ ব্রিগেড মাত্র ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। বোলিং ইনিংসে তখন ত্রাতা হন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার গতির তোপে কুপোকাত হয়ে ১৪৬ রানে থেমে গেছে ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। নাহিদ পেয়েছেন ফাইফারের দেখা। তৃতীয় দিনশেষে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান তোলা বাংলাদেশের লিড আজ ২৮৬ রান অবধি টেনেছে ফিফটি হাঁকানো জাকের। ২৬৮ রানে দলকে নিতে বড় অবদান ৯১ রান করা জাকেরের।
কিংস্টনের সাবিনা পার্কে ১৪ উইকেট পড়ার দিনে দাপট দেখান বাংলাদেশের বোলাররা। ১ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় সেশনে মাত্র ১৪৬ রানে অলআউট ক্যারিবীয়রা। ৬১ রানে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট নেন নাহিদ। তাতে ১৮ রানের লিড পায় সফরকারীরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে ৩৯ রানে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু আনেন নাহিদ। দুর্দান্ত বোলিং ধরে রেখে প্রথম সেশনে আরও ৩ উইকেট নেন তিনি। ৮ উইকেটে ১৩৫ রানে লাঞ্চে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাকি ২ উইকেট তারা হারায় আরও ১১ রান করে। উইন্ডিজের পক্ষে কিসি কার্টি করেন সর্বোচ্চ ৪০ রান। শেষ আট ব্যাটারের সবাই ১ অঙ্কের ঘরেই থেমেছেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেই মাহমুদুল হাসান জয় ডাক মারেন। তারপর সাদমান ইসলামের সঙ্গে শাহাদাত হোসেন দিপু ৪৭ জুটি গড়েন। তবে ২৬ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে যান দিপু। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়েন সাদমান। প্রথম ইনিংসের হাফসেঞ্চুরিয়ান সাদমান সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন। ৪২ রান আসে মিরাজের ব্যাট থেকে। শেষ সেশনে লিটন দাসের সঙ্গে জাকের আলীর ৪১ রানের জুটিতে শক্ত অবস্থান নেয় বাংলাদেশ। শেষবেলায় লিটন ফিরলেও জাকের আলী ও তাইজুল ইসলাম অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন পার করেন। গতকাল বাকি পথ টেনেছেন জাকের।
পরিসংখ্যান বলছে, জেতার মতো রান করে ফেলেছে বাংলাদেশ! জ্যামাইকার এ পিচে সর্বোচ্চ ২১২ রান তাড়া করে সফল হওয়ার রেকর্ড আছে। মানে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এ ম্যাচ জিততে হলে নতুন রেকর্ড গড়তে হবে। চতুর্থ ইনিংসে ২৮৬ রান করা কষ্টসাধ্যই বটে।
দিনের সেরা বোলার নাহিদও মনে করেন টেস্ট বাংলাদেশের হাতে, তবে দায়িত্ব তাদের মানে টাইগার বোলারদের কাঁধেই। নাহিদ বলেছেন, ‘এখন আমরা একটা ভালো জায়গায় আছি। এখান থেকে আমরা যদি টোটাল একটা ২৫০ এর উপরে যেতে পারি। চার নম্বর দিনে ব্যাটিং করা ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন হবে। উইকেটটা একটু অন্যরকম বাউন্স থাকবে, স্পিনারদের জন্য টার্ন থাকবে। সো ভালো কিছু আমরা একটা আশা করছি।’
টেস্ট ফরম্যাট দিয়েই এ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন নাহিদ। ৬ ম্যাচের ছোট্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট নেওয়া এই পেসার জানালেন, তিনি তেমন কোনো চেষ্টাই করেননি। কিংস্টনের উইকেটে ব্যাটারদের বিপদে ফেলতে নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে ২২ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার বলেন, ‘স্রেফ লাইন টু লাইন বোলিং করাই ভালো।’
নাহিদের সুরে সুর মিলিয়েছেন টাইগারদের বোলিং কোচ আন্দ্রে আডামসও৷ রানার প্রসঙ্গে বোলিং কোচ বলেছেন, ‘আমরা জানতাম কোনো না কোনো পর্যায়ে এমনটা হবে। যখন ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করবেন, আসলে উইকেট পাবেনই। আমাদের ওকে দেখেশুনে রাখতে হবে। এ কারণেই ও প্রথম ম্যাচে খেলেনি। ভাগ্য ভালো যে ওর আশপাশে তাসকিন ও হাসানের মতো পেসার আছে, যারা মাঠে ওর মনোযোগ ঠিক রাখে।’
টেস্টে মিরাজ ব্রিগেড যা পুঁজি পেয়েছে তাতে জয়ের পাল্লা টাইগারদের দিকেই ঝুঁকে৷ মিরাজ-জাকেের ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব আপাতত শেষ। এবার নাহিদ-তাসকিনদের আরেকবার দায়িত্ব সামলানোর সময়।