রুবেল রেহান
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৯ পিএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:১০ পিএম
অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের অধিনায়ক মেহরাব হাসান সামিন। ছবি : সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো যুব হকি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার জুনিয়র হকি এশিয়া কাপে থাইল্যান্ডকে ৭-২ গোলে হারায় মওদুদুর রহমান শুভর শিষ্যরা। ওমানের মাসকটে তাতেই রচিত হয়েছে ইতিহাস। সেখান থেকে মোবাইল ফোনে প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন অনূর্ধ্ব-২১ হকি দলের অধিনায়ক মেহরাব হাসান সামিন। -সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন রুবেল রেহান।
প্রবা : প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বাংলাদেশ। কেমন লাগছে?
মেহরাব হাসান : আসলেই আমরা অনেক খুশি। এত বড় একটা অর্জন আমরা করতে পেরেছি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম, এটা আমাদের জন্য অনেক খুশির একটা ব্যাপার। আমার টিমমেটদের অনেক ধন্যবাদ জানাই। তারা অনেক পরিশ্রম করেছে। আর কোচ, ফিজিও, ম্যানেজারকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। তার থেকেও বড় কথা আমাদের এই লক্ষ্য ছিল অনেক দিন আগে থেকে। সবাই বলে ক্রিকেট-ফুটবল রেখে কেন হকিতে এসেছি, এখানে তো কোনো বড় প্রতিযোগিতা নেই, কোনো কিছু নেই। কিন্তু বাংলাদেশকে এখন সবাই চিনবে, জানবে।
প্রবা : থাইল্যান্ডকে হারালেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। এমন ম্যাচের আগে চাপ কেমন ছিল, কিংবা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কতটুকু?
মেহরাব হাসান : অবশ্যই হারানোর আত্মবিশ্বাস ছিল। ওদের বিপক্ষে আগেও খেলেছি, ওদের শক্তিমত্তা আর দুর্বলতা জানা ছিল। আর আমরা মালয়েশিয়া ও ওমানের বিপক্ষে ভালো খেলেছি, সেটা আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। সবার মধ্যে একটা জেদ ছিল থাইল্যান্ডকে হারাতে হবে, আমাদের বিশ্বকাপ খেলতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা পেরেছি।

প্রবা : বিশ্বকাপ তো নিশ্চিত হলো, এরপর লক্ষ্যটা কী?
মেহরাব হাসান : আমরা যদি বিশ্বকাপের আগে বেশি বেশি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলতে পারি, তাহলে নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারব, দেশের বাইরে প্রস্তুতি ম্যাচ খেললে আমাদের জন্য অনেক কাজে দেবে।
প্রবা : ফেডারেশনের কাছে কী চাওয়ার আছে?
মেহরাব হাসান : ফেডারেশনের কাছে আমাদের চাওয়া থাকবেÑ আমাদের যেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। আমাদের ইকুইপমেন্ট যদি ভালো না হয়, তাহলে ইনজুরড হওয়ার শঙ্কা থাকে। দেখা যায় আমাদের মধ্যে অনেকের স্টিক কেনার সামর্থ্য নেই, তাই আমাদের সবাইকে যদি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, আমরা যদি ভালো কিছু পাই, তাহলে মন-মানসিকতাও ভালো থাকবে, তাতে খেলাটাও ভালো হবে।

প্রবা : ওমান যাওয়ার আগে দেশবাসীকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, কথা রাখতে পেরেছেন, টুর্নামেন্টে পুরো জার্নিটা কেমন ছিল?
মেহরাব হাসান : জার্নিটা কখনই আমাদের জন্য সহজ ছিল না। দেখেন, দেশবাসীকে আমরা কথা দিয়ে এসেছি, তাই আমাদের মধ্যেই ওই ইচ্ছাটা ছিল, ভালো খেলার তাগিদ ছিল, যে কারণে আমরা লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি।
প্রবা : সাবেকদের থেকে কেমন প্রশংসা পাচ্ছেন?
মেহরাব হাসান : হ্যাঁ, সিনিয়র ভাইয়েরা প্রত্যেক ম্যাচের পরই ফোন দিতেন। আমাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতেন। অনেকেই খোঁজখবর নিয়েছেন, এখন প্রশংসা করছেন।
প্রবা : আপনার হকিতে আসার পেছনের গল্পটা কী?
মেহরাব হাসান : আসলে ছোটবেলা থেকে হকি খেলিনি। আমার বড় ভাই যে কোচের কাছে ফুটবল অনুশীলন করতেন, উনিই আমাকে প্রথম হকিতে নিয়ে আসেন। এরপর যখন আমি বিকেএসপিতে আসি, তখন কাওসার স্যার আমাকে একদিন একটা কথা বলেছিলেন যেÑ তুমি এমন কিছু করো যাতে তোমার বাবা-মা গর্ব করতে পারেন, তোমার বুকে যেন জাতীয় দলের পতাকাটা থাকে। তো সত্যিই যে একদিন আমি দেশের পতাকা বহন করব, সেটা ভাবি নাই।

প্রবা : আপনার এই অর্জন বাবা-মা জানেন, উনাদের সঙ্গে কথা হয়েছে?
মেহরাব হাসান : বাবা-মার সঙ্গে এখনও কথা হয়নি। বড় ভাইয়ার সঙ্গে কথা হয়েছে। উনিই বাসায় ফোন দিয়ে আমাদের এই খবর জানিয়ে দিয়েছেন। শুনেছি তারা খুব খুশি হয়েছেন। বেশি খুশি হবে যখন আমি তাদের সামনাসামনি হবো। আমি অপেক্ষা করতেছি কখন তাদের সামনে দেখব, তাদের খুশিটা দেখার জন্যই আমি অপেক্ষায় আছি।