বিপিএলের মাসকট উন্মোচন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ০১:১২ এএম
আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১১:২৫ এএম
বিপিএলের মাসকট উন্মোচনে তারার মেলা। ছবি : আ. ই. আলীম
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে মিলে বিপিএলকে ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজন করা হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’। তরুণ ও যুব সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী এই আয়োজনের মিডিয়া লঞ্চিং প্রোগ্রামে উন্মোচিত হয়েছে বিপিএলের মাসকট ‘ডানা-৩৬’ । সেই অনুষ্ঠানেই প্রদর্শন করা হয় জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদদের সম্মানে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ‘জুলাই-অনির্বাণ’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ হিরুজ্জামান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, বাফুফের নতুন সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ বিসিবির অন্য পরিচালকরা। এমন আয়োজনে পরিণত হয়েছিল ক্রীড়াঙ্গনের সাবেক-বর্তমানদের মিলনমেলায়। এ ছাড়াও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও, যা যোগ করেছিল বাড়তি মাত্রা।
অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, ‘ডানা ৩৬’-এর গড়ন, রঙ ও অঙ্গভঙ্গি স্বাধীনতা, শান্তি, মুক্তি, তারুণ্য, প্রাণবন্ততা, উৎসব এবং সীমাহীন সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। ‘ডানা’ এখানে স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। এর দুই পাশে থাকা ১৮টি করে ৩৬টি রঙিন পালক ‘৩৬ জুলাই’ ২০২৪ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অবিস্মরণীয় স্মৃতিকে তুলে ধরতে। যা দেশের স্বাধীনতার চেতনা আর ক্রীড়ামোদীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতীক হিসেবেও চিত্রিত করা হয়েছে।
বিপিএল যে এবার একটু অন্য রকম হবে, তা আগেই জানিয়েছিল বিসিবি। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে মূল ভাবনায় রেখে টুর্নামেন্টটিকে আরও বেশি জনসম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সেটি এসেছে খোদ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কাছে থেকে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ও বিপিএলের সহযোগিতায় ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’ মূলত সেই কার্যক্রমকেই এগিয়ে নেবে। ‘ডানা ৩৬’-এ ভর করে বিপিএলের আবহ ছড়িয়ে পড়বে সারা দেশেÑ এটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, বিসিবি ছাড়াও এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবে সরকারের ৭টি মন্ত্রণালয়, ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’ স্লোগানে অনুষ্ঠেয় তারুণ্যের উৎসবের আওতায় থানা এবং জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক উৎসব হবে। ক্রিকেট ছাড়াও এতে থাকবে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ডিসপ্লে ও পুরস্কার বিতরণী। পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে বর্জ্যশূন্য ক্রিকেট ম্যাচ ছাড়াও এবারের বিপিএল অংশীদারত্ব, ক্রয় বাজেট এবং উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক দায়বদ্ধতাকেও অগ্রাধিকার দেবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বর শুরু বিপিএল দিয়ে যাত্রা করে তারুণ্যের উৎসবের শেষটা হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলের ফাইনাল দিয়ে। শুধু মাসকটই নয়, একাদশ বিপিএলের অনেক কিছুতেই স্মরণ করা হবে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে। শহীদ মুগ্ধর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে গ্যালারিতে দর্শকদের জন্য থাকবে বিনামূল্যে পানির ব্যবস্থা। খেলা দেখতে এসে দর্শকেরা অনুদান দিতে পারবেন জুলাই ফাউন্ডেশনে। গ্যালারির একটি অংশে থাকবে ‘জিরো ওয়েস্ট জোন’। টুর্নামেন্টের তিন আয়োজক শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ২৩, ২৫ ও ২৭ ডিসেম্বর হবে কনসার্ট। থাকবে দর্শকদের সম্পৃক্ত করা আরও অনেক আয়োজন ও বিনোদন। দর্শকদের সুবিধার কথা চিন্তা করে থাকবে ই–টিকিটের ব্যবস্থাও।
এদিকে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশেই ফেরেননি সাকিব আল হাসান। টাইগার অলরাউন্ডারের আসন্ন ওয়েস্ট-ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফেরার গুঞ্জন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হচ্ছে না বলেই খবর বেরিয়েছে। ফলে সাকিবের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল কি না, সেটি নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অবশ্য বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার বিষয়ে বিসিবি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয়, বরং সাকিবকে নিজেই সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
সাকিব না থাকলে বিপিএলের গ্ল্যামার কমবে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘তার ব্যাপারে আমি খুব একটা উত্তর দিতে পারি না। এ ব্যাপারে আপনি যদি বারবার প্রশ্ন করেন, তাতে আমি বিব্রত না। আমি চাই সাকিব আল হাসান খেলুক। তার ব্যাপারটা আসলে পুরোপুরি মানে যে কারণে সে দেশে আসতে পারছে না, এটার সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ড কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না। এটার উত্তর দেওয়াও আমার জন্য সহজ না। এটা দেখতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আদালত আছেন, তাদের এই ব্যাপারটা মীমাংসা করতে হবে।’
গত ২৬ সেপ্টেম্বর কানপুর টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। সেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরুর সময়ও ঘনিয়ে আসছে। ফারুক জানালেন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পরিকল্পনায় সাকিবের থাকার কথাও, ‘আমাদের (চ্যাম্পিয়নস ট্রফি) তালিকায় সে (সাকিব) আছে। আমরা আশা করি সে যেভাবে চাচ্ছে, এটার সমাধান যদি হয় তাহলে আমি এখনও বিশ্বাস করি সাকিব জাতীয় দলে খেলার ক্ষমতা রাখে। তবে সে যে দেশের বাইরে থেকে এভাবে টুর্নামেন্টগুলো খেলবে, মানে একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলা আর দেশের জন্য খেলা তো এক কথা নয়।’
সাকিব যে একেবারে ক্রিকেট থেকে বিচ্ছিন্ন, তা নয়। বর্তমানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলছেন আবুধাবি টি-টেনে বাংলা টাইগার্সের হয়ে। কিন্তু জাতীয় দলের ক্রিকেট সেটাপে যেহেতু সাকিব অনেকদিন নেই, সেটা তার জন্য একটু কঠিন হবে বলে মনে করছেন ফারুক। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘একটা প্রস্তুতির দরকার হয়, দলের সঙ্গে প্রস্তুতিও নিতে হয়। তবে এটা যেহেতু করতে পারছে না, আমার মতে খুব একটা মানসিক অবস্থায় নেই দেশের জন্য খেলতে। সে ক্ষেত্রে আমরা এই জিনিসটা তার ওপর ছেড়ে দিয়েছি যে সে কী চিন্তা করছে।’