বিপিএল ফুটবল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ২০:০৮ পিএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ২০:১১ পিএম
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ফুটবলের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে আজ শুক্রবার থেকে। দুপুরে লিগে নবাগত ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে মাঠে নামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। অনুমিত ফলাফলই হয়েছে এই ম্যাচে। বড় জয় দিয়ে লিগ শুরু করেছে কোচ আলফাজ আহমেদের দল। একই সময়ে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ পুলিশ এফসির বিপক্ষে চমক দেখিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তুলে নিয়েছে দুর্দান্ত জয়। আর শেষ বিকেলে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে দিনের সবচেয়ে বড় ও অনুমিত জয়টি তুলে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস।
ওয়ান্ডারার্স ০-৬ মোহামেডান
বাদ্রার্স ইউনিয়ন ২-১ পুলিশ এফসি
বসুন্ধরা কিংস ৬-০ চট্টগ্রাম আবাহনী
নিজেদের ঘরের মাঠ বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় এদিন চট্টগ্রাম আবাহনীকে আতিথেয়ত দেয় কিংস। নিজেদের দুর্গে কতটা শক্তিশালী কিংস সেটি আরও একবার প্রমাণ করল লাল-সাদারা। বন্দর নগরীর ক্লাবটিকে তারা বিধ্বস্ত করেছে ৭-০ ব্যবধানে। খেলার প্রথমার্ধে ৪ গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের জাল কাঁপে আর তিনবার। ম্যাচে জোড়া গোল পেয়েছেন ফ্রান্সের রাইট উইঙ্গার জারেদ খাসা ও দেশি স্ট্রাইকার রাকিব হোসেন। প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরে ২০ গোল করা রাকিব ছন্দটা টেনে এনেছেন নতুন মৌসুমেও। একটি করে গোল পেয়েছেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, মজিবুর রহমান জনি ও মিগুয়েল ফেরেইরা দামাসেনো।

নতুন কোচের অধীনে এবার লিগ শুরু করেছে কিংস। লিগের প্রথম ম্যাচে তিনি একাদশে জায়গা করে দিয়েছেন দুজন দেশি ফরোয়ার্ডকে। খাসার সঙ্গে খেলেছেন রাকিব ও ফাহিম। দুজনই দিয়েছেন কোচের আস্থার প্রতিদান। খেলার প্রথম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত কিংস। তবে ফাহিমের ক্রসে গোলের সামনে পা ছোয়াতে পারেননি মিগুয়েল। দুই মিনিট পরই অবশ্য ব্রাজিলিয়ান তারকার থ্রু পাস ধরে চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক নাঈমকে বোকা বানিয়ে আলতো টোকায় খাসা বল পাঠান জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় কিংস।
সপ্তম মিনিটে গোল পেতে পারতেন রাকিব। তবে জনাথন ফার্নান্দেসের পাস থেকে নেওয়া ডান পায়ের শট আটকে যায় বারে লেগে। পরবর্তীতে গোললাইননের সামনে থেকে বল ক্লিয়ার করেন শওকত রাসেল।
দ্বিতীয় গোল পেতে কিংসকে অপেক্ষা করতে হয় খেলার ২৩তম মিনিট পর্যন্ত। এ সময় মিগুয়েলের লং পাস যায় ডিফেন্স লাইনের মাথার ওপর দিয়ে ফাহিমের কাছে। সেখানে বল পেয়ে গোলরক্ষকের কাটিয়ে তিনি বল ঠেলে দেন জালে। ২৬ মিনিটে তপু বর্মনের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট যায় বক্সের ডানকোনার কাছ দিয়ে। ২৯ মিনিটে জনাথনের পা থকে ফাহিমের পা ঘুরে বক্সে বল পেয়ে যান মিগুয়েল। বা পায়ের আড়াআড়ি নিচু শটে লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩-০ গোলে।

৩৫ মিনিটে গোলমুখের সামনে থেকে ফাহিমের শট যায় বক্সের উপর দিয়ে। ৩৯ মিনিটে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় কিংস। আক্রমণের সুর বেধে দেন মিগুয়েল। ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সের সামনে গিয়ে ক্রস দেন রাকিব। গোলমুখ থেকে সহজেই নাঈমকে পরাস্ত করেন খাসা। ম্যাচে জোড়া পূর্ণ করেন এই মৌসুমে ফ্রান্স থেকে কিংস শিবিরে যোগ দেওয়া এই ফরোয়ার্ড। ওই গোলের পরই তাকে তুলে শেখ মোরছালিনকে বদলি হিসেবে নামান কিংসের কোচ ভালেরিউ তিতা।
চার গোলে পিছে থাকা চট্টগ্রাম আবাহনী ফিরতে পারেনি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও। গোল পরিশোধের চেয়ে গোল কম হজমের দিকেই বেশি হয় বন্দর নগরীর ক্লাবটি। যদিও এই অর্ধেও তিন গোল হজম করেছে অতিথিরা। শেষ পর্যন্ত ৭-০ ব্যবধানে হেরে লিগ শুরু করে এবারের মৌসুমে শেষ মুহূর্তে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম আবাহনী।

শুক্রবার গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে ওয়ান্ডারার্সকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে মোহামেডান। দুই অর্ধেই হয়েছে সমান তিনটি করে গোল। খেলার পঞ্চম মিনিটে ইমানুয়েল সানডে ভাঙেন ডেডলক। প্রথমার্ধে বাকি দুইবার জাল কাঁপান মিনহাজুল আবেদীন বাল্লু ও সোলেমান দিয়াবাতে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকেও আরও একটি গোল করেন মালির এই স্ট্রাইকার। দ্বিতীয়ার্ধে দলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন আর্নেস্ট বোয়েটিং। যোগ করা সময়ের তিন মিনিটের মাথায় ওয়ান্ডারার্সের জালে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সৌরভ দেওয়ান।
মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ব্রাদার্স বনাম পুলিশের ম্যাচটি। নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পরে শুরু হয় খেলা। সর্বশেষ আসরে সেরা চারে থাকা পুলিশকে অবশ্য শুরুতেই বড় ধাক্কা দিয়েছে ব্রাদার্স। আগের মৌসুমে টেবিলের তলানীর দিকে থাকা দলটি নতুন মৌসুমে যেন জৌলুস ফিরে পেয়েছে। সেটি বোঝা গেছে দলবদলের সময়েই। দারুণ কিছু খেলোয়াড় দলে ভিড়িয়েছে গোপীবাগের ক্লাবটি। খেলাতেও তার ছাপ রাখলো তারা। পুলিশকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে ব্রাদার্স। খেলার ২৩ মিনিটে গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড মেডি চিসের গোলে লিড নেয় ব্রাদার্স। বিরতির এক মিনিট আগে পুলিশের হয়ে সমতায় ফেরানো গোল করেন মানিক মোল্লা। আর ৬২ মিনিটে গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার জাকারিয়া ডারবোই ব্রাদার্সকে এনে দেন ম্যাচের জয়সূচক গোলটি।