বাফুফের পেশাদার লিগ কমিটি
রুবেল রেহান
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:২৫ পিএম
বিভিন্ন পেশার মানুষদের সমন্বয়ে মঙ্গলবার পেশাদার লিগ কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাফুফের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসানকে। কো-চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরী। তবে কমিটিতে রয়েছে বেশ কিছু চমক। ছাত্র সমন্বয়ক থেকে শুরু করে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিও আছেন এবারের কমিটিতে। প্রথমবারের মতো পেশাদার লিগ কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন ক্রীড়ালেখক ও ব্লগার।
ইমরুল হাসান আগে থেকে এই স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আরও আছেন বাফুফের নির্বাহী সদস্য ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ, চুয়াডাঙ্গা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আগামী ৩০ নভেম্বর বাফুফের উপনির্বাচনে নির্বাহী সদস্য প্রার্থী এখলাস উদ্দিন। এছাড়া ফুটবল সংশ্লিষ্ট ও ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে এবারের কমিটিতে জায়গা পাওয়া একজন হলেন ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের সভাপতি ও ফর্টিস গ্রুপের পরিচালক শাহীন হাসান।
সাধারণত আগের পেশাদার লিগ কমিটিতে প্রাধান্য থাকত ক্লাব প্রতিনিধিদের। এবার অবশ্য সেখানে আছেন একজনই। যদিও ইমরুল হাসান বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি। লিগ কমিটিতে ভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষের থাকাকে অনেকে যেমন বলছেন চমক, তেমনি কেউ বলছেন নতুন দিনের শুরু। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তার ছোয়া লেগেছে ফেডারেশনেও। তারই ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন এই পেশাদার লিগ কমিটি। এটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ফর্টিসের শাহীন হাসান। বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেছেন, ‘আমি এটাকে ভালোভাবে দেখি। কারণ বিগত দিনে তো আমরা ফুটবলের লোকই ছিলাম… ভালো হয়েছে বলব, কিন্তু আমরা নতুনত্ব আনি নাই। গতকাল রাতে যখন চিঠি পেলাম দেখলাম প্রত্যেক শ্রেনির লোক রাখা হয়েছে। ওনাদের বুদ্ধি, পরামর্শ থাকতে পারে, যেহেতু সাংবাদিক আছে, ছাত্র প্রতিনিধি আছে, ইউনেস্কোর লোক আছে… আমি মনে করি কমিটি অনেক ভালো হয়েছে, এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই। আশা করি ভালো কিছু হবে।’
এই কমিটিতে সরাসরি ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা কিংবা সংগঠকের বাইরে রয়েছেন চার জন। তারা হলেন- জেষ্ঠ্য ক্রীড়ালেখক ও ক্রীড়া বিশ্লেষক ইকরামউজ্জমান চৌধুরী, ফুটবল বিশ্লেষক ও ব্লগার মোহাম্মদ সেলিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মুনিম মুবাশশির ও ইউনেসকোর হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক এনগেজমেন্ট নুসরাত আমিন। সরাসরি ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও ক্রীড়ার সঙ্গে নুসরাতের সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই।
জাতিসংঘে কাজ করার আগে তিনি দেশের একটি স্বনামধন্য টিভি চ্যানেলে ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। সেসব অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তিনি কাজ করবেন দেশের ফুটবলে। নতুন কমিটিতে তার থাকা নিয়ে ফুটবল পাড়ায় ইতিবাচক আলোচনাই শোনা যাচ্ছে। নতুন কমিটি সম্পর্কে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বুধবার নুসরাত আমীন বলেছেন, ‘এবারের কমিটিটা একটু ভিন্নভাবে করার কারণ, যাতে ফুটবলের ক্ষেত্রে, পেশাদার ফুটবলের ক্ষেত্রে, বিশেষকরে নারী ফুটবলের ক্ষেত্রে উন্নতির জায়গাগুলো আমরা ধরতে পারি। নতুনকরে শেখার সুযোগ কী আছে, উন্নতির কোন কোন জায়গা আছে এবং সামর্থ্যের বিষয়ে একটা বড় ফোকাস আছে। তো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করাটা ওই দিক থেকেই; যদি কোনো জায়গাতে ধারনা দিলে বা কোনো বিষয়ে মতামত দিলে যদি তাতে সাহায্য হয়… দেশীয় ফুটবল এবং দেশীয় লিগগুলো তো খুব গুরুত্বপূর্ণ, প্রফেশনাল লিগ যত বেশি হবে তত বেশি খেলার সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়বে। সবকিছু মিলিয়ে দেশের ফুটবলকে সামনে আগানোর ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি, আন্তর্জাতিক লেভেলে নিয়ে যেতে সেইক্ষেত্রে কোন জায়গাগুলোতে একসঙ্গে আমরা কাজ করতে পারি ওই জায়গাতে আমি ফোকাস করব।’
সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার শুরু হলেও বর্তমানে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবেই নুসরাত আমীন কাজ করছেন জাতিসংঘে। দেশের ফুটবলে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি। তবে কাজ করার আগে এ নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চান না। কমিটি কিংবা ফেডারেশনে নিজের পদক্ষেপ কী হবে সেটি আপাতত নিজের কাছেই রাখতে চান। কমিটি প্রধানের দিক নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন বলে জানিয়েছেন। তবে যোগাযোগের জায়গাতে কাজের সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন তিনি, এটা তো কেবল ক্লাব লেভেলে বা ছোট আকারের কোনো বিষয় নয়, কাজটা দেশের ফুটবল নিয়ে। এখানে অনেক পক্ষের মতামত এক সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করার ব্যাপার আছে। আমি বলব সম্মীলিত একটা প্রচেষ্টার দরকার আছে।’
আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম। যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফুটবল গ্রুপগুলোয় সেলিম সাদ হিসেবে বেশি পরিচিত। জানা যায়, ফেসবুকে সমালোচনা করতে করতেই বাফুফের নজরে এসেছেন তিনি। তবে যৌক্তিক সমালোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন সেলিম। এতদিন কমিটির বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করলেও দায়িত্বটা এবার নিজের কাধে। চ্যালেঞ্জ কতটা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বলব- জেলা লিগগুলো নিয়মিত হয় না, পাইওনিয়ার হয় না, নারী লিগও ততটা নিয়মিত না। এতে করে খেলোয়াড় কিন্তু উঠে আসে না। প্রফেশনাল লিগ কমিটির মূল যে কাজ সেটা কিন্তু এখানেই। তাছাড়া ঘরোয় ফুটবলে যে দর্শক হয় না, সুযোগ পেলে এই জায়গায় আমি কাজ করতে চাই।’