অ্যান্টিগা টেস্ট
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ২২:৩১ পিএম
ঐক্য, শৃঙ্খলা আর দায়িত্ববোধ বোঝাতে ক্রিকেটে ‘টিম গেম’ বাক্যটি প্রায়ই শোনা যায়। নিঃসন্দেহে ক্রিকেট ‘টিম গেম’, ১১ জনের প্রচেষ্টায় মেলে ফল। ব্যাটিং-বোলিং, জয়ের মূলে ফিল্ডারদেরও রয়েছে গুরুদায়িত্ব। একপক্ষ মুষড়ে পড়লে, ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ জোগান দ্বিতীয় পক্ষ। অ্যান্টিগা টেস্টে দোরগোড়া পেরিয়ে অন্দরমহলে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে শরিফুল ইসলামদের অসহায়ত্বে বিশেষ দায়িত্বে ব্যাটাররা। টিমম্যান হয়ে ওঠার এই মিশনে মুমিনুল হকরা কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা ঠিক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৪৫০ রানের জবাবে বেশ সাবধানি এবং চাপে বাংলাদেশ।
রবিবার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টেডিয়ামে ৪১০ রানে পিছিয়ে
থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেন মুমিনুল হক ও শাহাদাত হোসেন। নতুন দিনের শুরুতে সতর্কতার
সঙ্গে ব্যাটিং করেছেন দুজন। বাজে বল এড়িয়ে ধীরে সুস্থে হেঁটেছেন। দিনের প্রথম ৮ ওভারে
কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। এই ৫৬ বলে যোগ করেন ২৪ রান। অবশ্য সময় না গড়াতেই উইকেট বিলিয়ে
ফেরেন শাহাদাত। কেমার রোচের করা অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরের বল খোঁচা মেরে বসেন। ব্যাটের
কোনায় লেগে প্রথম স্লিপে কেভম হজের হাতে ধরাও পড়েন। তাতেই ভাঙে ৪৫ রানের জুটি। সাজঘরমুখো
হওয়ার আগে ৭১ বলে ১৮ রান করেন এই তরুণ ব্যাটার।
শাহাদাতের বিদায়ে মুমিনুলের সঙ্গী হন উইকেটরক্ষক ব্যাটার
লিটন দাস। ঘরের মাঠে সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন লিটন। তবে মাঝপথেই
বাদ পড়েন অসুস্থতার কারণে। টপ অর্ডারদের ব্যর্থতার দিনে মুমিনুলকে যোগ্য সঙ্গ দিতে
সব ধরনের চেষ্টা করে যান। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে দুই অঙ্কের রান স্পষ্ট করেন। প্রোটিয়াদের
বিপক্ষে ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা এই ব্যাটারের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে রান খরা কাটানোর। মধ্যাহৃ বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় তিন উইকেটে ১০৫ রান। ৩৮* রানে ব্যাটিং
করছিলেন মুমিনুল, তার সঙ্গে লিটনের রান ২১*।
কন্ডিশন রিপোর্টে বলা হয়েছে, উইকেটে বোলারদের জন্য
এখনও সহায়তা আছে। ভালো জায়গায় টানা বল করে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বেশ ভুগিয়েছেনও
ক্যারিবিয়ান পেসাররা। তবে চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা নিয়ে ব্যাট করলে এখানে টিকে থাকা
সম্ভব, বড় রানও করা সম্ভব।
শনিবার শেষ বিকালে ২০ ওভার ব্যাটিংয়ের
সুযোগ পায় বাংলাদেশ। এদিন দশম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জেইডেন সিলসের বলে
বোল্ড হয়ে যান ১৫ রান করা জাকির হাসান। অফ স্টাম্পের ওপর দিয়ে যেতে থাকা বলে ব্যাট
চালিয়ে এডজ হয়ে মিডল ও লেগ স্টাম্প হারান এই বাঁহাতি ব্যাটার। আরেক ওপেনার মাহমুদুল
হাসান জয় জীবন পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, আলজারি জোসেফের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে
ফিরেছেন ৫ রান করে। দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার আগে ১৯ রানের জুটি গড়ে অপরাজিত থেকে দিন
শেষ করেন মুমিনুল ও শাহাদাত।
এর আগে ৫ উইকেটে ২৫০ রান নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ
দ্বিতীয় দিনে মাত্র ১১ রান যোগ করতেই হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট। এরপরের গল্পে স্বাগতিকদের
জয়জয়কার। বাংলাদেশকে হতাশ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের স্কোরবোর্ড ক্রমাগত শক্তিশালী
করেছে। ক্যারিবিয়ানরা যখন খাদের কিনারায় তখন জাস্টিন গ্রিভস হয়ে ওঠেন ত্রাণকর্তা। কেমার
রোচকে নিয়ে ১৪০ রানের জুটি গড়েন অভিষিক্ত এই ব্যাটার। তাদের অষ্টম উইকেটের এই জুটি
বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো দলের রেকর্ড। ৪৭ রানে রোচের বিদায়ে তাদের জুটি ভাঙে। শেষ
পর্যন্ত ৯ উইকেটে ৪৫০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উইন্ডিজ ব্যাটার গ্রিভস
টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন ১১৫ রানে।
একজন বোলার হয়েও রোচের ২৫২ মিনিট মাটি কামড়ে পড়ে থাকা
একটু বিশেষই বটে। তাকে নিয়ে বেশ কথা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। গ্রিভস যেমন প্রশংসা করতে
ভোলেননি, ‘রোচের মতো সিনিয়র একজন ক্রিকেটারকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়া দারুণ ছিল। তিনি ক্রমাগত
বলেছেন, ইতিবাচক তাড়না ধরে রাখতে এবং নিজেকে কিছুটা সময় দিতে। ওদেরকে যতটা সম্ভব ক্লান্ত
করে তুলতে এবং বোলারদের চতুর্থ-পঞ্চম স্পেলে আসতে বাধ্য করতে।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস : ৪৫০/৯ ডিক্লে.
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৪৫ ওভারে ১০৫/৩ (মুমিনুল ৩৮*, লিটন ২১*)