প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ২১:৪৬ পিএম
মাহমুদুল হাসানদের মতো তরুণদের দিকে তাকিয়ে কোচ-টিম ম্যানেজম্যান্ট
২০২৪ সালের শেষ সময়টা ভুলে যেতে চাইবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা! পাকিস্তান সফর ব্যতীত দীর্ঘ ফরম্যাটের টেস্ট, টি-টোয়েন্টি কিংবা ‘পছন্দের ফরম্যাট’ ওয়ানডেÑ প্রত্যেক সংস্করণেই সমর্থকদের আশাহত করেছেন টাইগাররা। সিরিজ তো দূরের, ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি সিংহভাগ ম্যাচে। তার ওপর কঠিন এক কন্ডিশনে বর্তমান সফর। তবুও টাইগারদের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স, সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ গেয়েছেন আশার গান।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে শুক্রবার অ্যান্টেগায় ক্রেইগ ব্রাথওয়েটের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় শুরু হওয়া ম্যাচে সফরকারীদের বেশ ভাবাচ্ছে কম্বিনেশন। কোচ ফিল সিমন্সও এ নিয়ে সতর্ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২২টি টেস্ট ও ১৪৩ ওয়ানডে খেলা এই কিংবদন্তি নিজ ভূমেই প্রতিপক্ষ। মাঠ-কন্ডিশন সবই তার নখদর্পণে। কিংবদন্তি এই কোচ মনে করেন, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হার এবং নতুন সফর নিয়ে সিমন্স বলেছিলেন, ‘দুবাইয়ের মতো সেন্ট কিটসেও আমরা একই রকম কন্ডিশনে ওয়ানডে খেলব। সেন্ট ভিনসেন্টে টি-টোয়েন্টি কেমন হবে জানি না। ওখানে অনেক দিন যাইনি। তবে অ্যান্টিগা ও জ্যামাইকায় টেস্ট ম্যাচ ভালো উইকেটে হবে, কঠিন এক ক্রিকেট হবে।’
ক্যারিবীয় দ্বীপে সবশেষ ২০২২ সালে সফর করে বাংলাদেশ। সেবার একপ্রকার নাকানি চুবানি খায় সফরকারীরা। দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথমটিতে এসেছিল ৭ উইকেটের হার, সেন্ট লুসিয়ায় টাইগাররা দেখে ১০ উইকেটের হার। এবার সেই ক্ষত সারানোর পালা। তবে কাজটা যে কঠিন হবে, সেটা মানছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নাজমুল হোসেনের ইনজুরিতে জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়া এই তরুণ অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরটা কঠিন হবে। তবে সেখানে ভালো করতে চাই।’
মিরাজ ভালো কাজের প্রত্যাশা করলেও নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে ব্যর্থ হয়েছেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে হেরে সিরিজ খোয়ায় বাংলাদেশ। সবশেষ সিরিজে টাইগারদের সক্ষমতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে হাশমতউল্লাহ শাহিদিরা। আর ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট সিরিজে গো-হারা হারে নাজমুলরা। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো এলিট টুর্নামেন্টে অংশ নেয় এমন দলগুলোর মধ্যে আটে বাংলাদেশ। শতকরা পয়েন্ট ২৭.৫০ তাদের। শতকরা ১৮.৫২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই চক্রে বাংলাদেশ সবশেষ জয় পেয়েছিল পাকিস্তান সিরিজে। এরপর হতাশার গল্প। তারপরও জাতীয় দলের সাবেক স্পিনার ও বিসিবির নির্বাচক আব্দুর রাজ্জাকের প্রত্যাশাÑ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে পাকিস্তান সফরের সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনবেন টাইগাররা।
ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি তো বটে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য সফলতা নেই বাংলাদেশের। ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাটে ২০ বারের দেখায় মাত্র চারবার জয় পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তারপরও তারুণ্যে গড়া সফরকারীদের নিয়ে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে রাজ্জাকের। বাবরদের বিপক্ষে সেই স্বপ্নের সিরিজ পুনরাবৃত্তি হোক এমনটাই চাওয়া তার। দেশের সাবেক এই স্পিনার বলেন, ‘আশা করব প্রত্যেকটা বিভাগ জ্বলে উঠবে। যেমন পাকিস্তানে স্বপ্নের মতো টেস্ট সিরিজ খেলেছি। আমি আশা করব, ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ওভাবেই খেলে দেশে ফিরব, বিশেষ করে টেস্ট সিরিজ।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট দিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্র শেষ করবে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে চোটের কারণে থাকতে পারছেন না নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। লিটন দাসকে নিয়েও আছে শঙ্কা। ওসব মানিয়ে নিয়েই ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছেন সাবেক ক্যারিবিয়ান তারকা সিমন্স। আশার কথা শুনিয়েছেন সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকেই এই কোচ জানালেন দলের উজ্জীবিত হওয়ার কথা। বিসিবির প্রকাশিত এক ভিডিওতে সালাউদ্দিন বলেন , ‘এবার যে স্কোয়াড আছে, মোটামুটি একটা অনভিজ্ঞ দল। তবে সবচেয়ে যেটা ভালো লাগছে যে, ছেলেরা খুব উজ্জীবিত ভালো খেলার জন্য। সবাই সাদা জার্সিটা পরতে চায়। সবার ওয়ার্ক এথিকস দেখে আমার ভালো লাগল। ১৪ বছর পর আমি আবার এলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজে, যেখান থেকে আমি শুরু করেছিলাম কোচিং। তাদের ওয়ার্ক এথিকস দেখে ভালো লাগছে। এই জায়গায় আমার মনে হয় আগের চেয়ে এগিয়ে আছে।’
আট ম্যাচের সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শক্তির জায়গাÑ উইকেট, কন্ডিশন ও খেরোখাতায় লিপিবদ্ধ হওয়া জয়ের অতীত জয়ের পরিসংখ্যান। বাংলাদেশের কেবলই পুঁজিÑ আত্মবিশ্বাস। তবে চাইলেই হাতড়াতে পারেন ২০০৯ সালের ওভালের সুখস্মৃতি।