প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ২১:৫৪ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ২২:০৩ পিএম
দায়িত্ব গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা না পেরুতেই গণমাধ্যমের সামনে হাজির পাকিস্তানের সাদা বলের অন্তবর্তীকালীন কোচ আকিব জাভেদ। সদ্য নিয়োগ পাওয়া সাবেক এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন পাকিস্তানের হয়ে তার লক্ষ্যমাত্রা। বলেছেন, কোচ ও নির্বাচক হিসেবে তার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ওয়ানডেতে সফলতা অর্জন। পাশাপাশি তরুণদেরও বাজিয়ে দেখতে চান আকিব।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আকিব জাভেদকে নিয়োগ দিয়েছে আগামী বছরে অনুষ্ঠাতব্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত। জিম্বাবুয়ে তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট। সিকান্দার রাজাদের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে পাকিস্তান। বুধবার গণমাধ্যমকে আকিব বলেছেন, ‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে আমাদের মূল ফোকাস থাকবে ওয়ানডে ক্রিকেট। আমরা এই ফরম্যাটে ভালোভাবে প্রস্তুত হতে চাই। জিম্বাবুয়ে সিরিজে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। তাদের একটি সুযোগ দিতে চাই। যাতে তারা সেটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারে। আপনি যদি নতুনদের সুযোগ না দেন কখনই পাইপলাইনের শক্তিমত্তা বাড়াতে পারবেন না।’
অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সফর মোটেও সহজ হবে না। যখন আমরা বলি বা দল থেকে বলা হয়, আমরা অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিততে যাচ্ছি, তখন সমর্থকেরা বলাবলি করে, এটা অসম্ভব। নতুন অধিনায়কের (মোহাম্মদ রিজওয়ান) অধীনে এই সফর মোটেও সহজ হবে না। তবে হ্যাঁ, টি-টোয়েন্টি সিরিজে চেষ্টা করে দেখতে পারি এবং এই ফরম্যাটে জয় পাওয়া অসম্ভব নয়।’

সাদা বলের কোচ ছাড়াও আরও একটি দায়িত্বে বহাল আকিব। পাকিস্তানের নির্বাচক প্যানেলেও বলবৎ তিনি। আকিব জানিয়েছেন, দল নির্বাচনে প্রথমে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে অধিনায়ক ও কোচের মধ্যে আলোচনা-বুঝা পড়া হয়। তারপরই নির্বাচকরা দল ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই কোচ ও অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা পর্ব সেরে নেই। তারপরই দল ঘোষণা পর্ব আসে।’ যোগ করেন, ‘মূলতান বলেন কিংবা এখন, দল তৈরিতে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। আসাদ শফিক অস্ট্রেলিয়া ট্যুরে ছিলেন। কিন্তু দল সিলেকশনের প্রতিটি ধাপে তিনি অংশ নিয়েছেন। আসাদের পরিবর্তে এখন আমি। একই ধারায় থাকবো আমি। তবে এটা ঠিক একাদশ গঠনে কমিটির পছন্দই চূড়ান্ত। সিলেকশন কমিটিতে শুধু আমি একা নই। এটা পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত।’
নিজের কোচিং ক্যারিয়ার এবং ভূমিকা নিয়ে আকিব বলেছেন, ‘ আমি ২০ বছর ধরে কোচিং ক্যারিয়ারের সঙ্গে রয়েছি। এখানে কোচদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারি এবং ভালো ফল অর্জনে সাহায্য করতে পারি। আপনি কি ধরনের ক্রিকেট আশা করেন, সেই বার্তা তাদের দিতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় এবং অধিনায়কই ফলাফল দেয়।’

কোচিং ক্যারিয়ারে বিশেষ করে কোচদের নানা খোঁচা শুনতে হয়। ম্যাচের ফল বদলে যাওয়া, তীরে গিয়ে তরী ডুবানো কিংবা অন্দরমহলে কোনো রকম সমস্যা হলে তার দায়ভার পড়ে কোচের ওপর। আকিব অবশ্য এসব নিয়ে সচেতন। এক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বসূরি মিসবাহ উল হকের মতো ভূমিকা পালন করতে চান। পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক প্রধান নির্বাচকের পাশাপাশি প্রধান কোচের ভূমিকায় ছিলেন। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, তার মতোই প্রায়ই একই ধরনের ভূমিকা আকিব। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার এ নিয়ে বলেছেন, ‘কটূক্তি থাকবেই এবং এটি দ্বারা ভালো কিছু হতে পারে। কটূক্তি ও প্রশংসা সবকিছু নির্ভর করতে আপনার পারফরম্যান্সের ওপর। আমি কটূক্তি গ্রহণ করবো যদি সেটা হয় যৌক্তিক।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৪ নভেম্বর থেকে ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে পাকিস্তানের। আর ডিসেম্বরের এক তারিখ থেকে তাদের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।