প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৪০ পিএম
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে সতীর্থদের কাঁধে চড়ে বার কয়েক স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেছেন ইমরুল কায়েস। ছবি: আ.ই. আলীম
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের বিদায়ি ইনিংসে ১ রানের বেশি করতে পারেননি। সোমবার হেরেছে দল। তবুও বিদায়ি দিনে ইমরুল কায়েসকে ঘিরে আয়োজনের কমতি ছিল না। খুলনা বিভাগের এই ব্যাটারকে মাঠে নামার সময় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। ম্যাচ শেষেও এলাহি কাণ্ড। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে সতীর্থদের কাঁধে চড়ে বার কয়েক স্টেডিয়াম প্রদক্ষিণ করেছেন। মাঠের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন ইমরুল। সাংবাদিকদের জানালেন ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের তৃপ্তি-অতৃপ্তির কথা।
বাংলাদেশের হয়ে ৩৯ টেস্ট খেলা
ইমরুলের দাবি, এখন আর চার দিনের ম্যাচ খেলার মতো ফিটনেস তার নেই। তবে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির
জন্য পূর্ণ শক্তি আছে। সে কারণেই দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট আগে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন। ইমরুল বলেছেন, ‘আমার ফিটনেস এখন যে পর্যায়ে আছে, তাতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির
জন্য নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারব এবং আরও কয়েক বছর খেলতে পারব। চার দিনের ম্যাচ খেলার
জন্য যে পরিমাণ শক্তি ও দৃঢ় মনোবল থাকতে হয়, তা এখন আর নেই। আমার মনে হয়েছে, আমি যদি
নিজেকে তরুণদের সঙ্গে তুলনা করি এবং ওদের মতো ছন্দে (গতিশীল) খেলতে না পারি, তাহলে
নিজেকে ছোট মনে হয় এবং লজ্জা লাগে। কিন্তু সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে এক দিনেই খেলা
শেষ হয়ে যায়। এখানে ফুল এনার্জি দেওয়া সম্ভব।’
ক্যারিয়ারের এই সময়টাতে এসে
খোলা চোখে ইমরুলের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করা একটু কঠিনই। তারপরও ক্যারিয়ারজুড়ে
ইমরুল চেষ্টা করেছেন সেরাটা দিতে। তিনি বলেছেন, ‘২০০৬ সালে যখন আমার প্রথম শ্রেণির
ক্রিকেটে অভিষেক হয়, আমি চিন্তা করিনি যে বাংলাদেশ দলের হয়ে এত টেস্ট খেলতে পারব। আর
সব শেষে এখন যেভাবে বিদায় নিলাম, আমি খুব খুশি যে বাংলাদেশের হয়ে ৩৯টি টেস্ট ম্যাচ
খেলতে পেরেছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। কারণ এক টেস্ট হোক, পঞ্চাশ কিংবা একশ,
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করাই বড়। প্রায় ১০-১২ বছর দলের সঙ্গে থেকেছি, খেলেছি বিভিন্ন
জায়গায়, বিভিন্ন দেশে। এটা আমার জন্য অনেক গর্বের ছিল। আমি চেষ্টা করেছি ব্যাটিং করে
হোক বা কিপিং করে, দলের প্রয়োজনে অবদান রাখতে। আমার হয়তো আরও ভালো টেস্ট ক্যারিয়ার
হতে পারত। তবে যেটা হয়নি, সেটা নিয়ে এখন আর আফসোস মনে করি না; যা হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ্।
ক্রিকেট ছাড়ার পর নিশ্চয়ই
বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে ইমরুলের। জাতীয় দলের তারকা ব্যাটার বলেছেন, ‘এখন সবকিছু উন্মুক্ত।
আমি বেশিরভাগ সময়ই অস্ট্রেলিয়ায় থাকি। সেখানেই আমার থাকতে হবে। কারণ আমার পরিবার সেখানে
থাকে। ওখানেও অস্ট্রেলিয়ার একটা দলের হয়ে প্রিমিয়ার ডিভিশন খেলছি আমি। ওখানে একটা কোচিং
একাডেমি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এরই মধ্যে কথাবার্তা চলছে, কাজ করছি। আশা করছি, আগামী
বছরের দিকে এটা আমরা শুরু করব। আমি চাই ক্রিকেট ছাড়ার পর ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকতে এবং
ক্রিকেটের আরও উন্নত জ্ঞান পেতে। সবাই জানেন, অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেটের সবকিছু আধুনিক।
সেখান থেকেই আধুনিক সব বিশ্লেষণ হয়। আমি চেষ্টা করব, সেখানে বড় বড় পর্যায়ে কাজ করতে।
সেখানে কোচদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা নেওয়ার আছে। ভবিষ্যতে যদি কখনও বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ
করার সুযোগ হয়, আমি নিজেকে অনেক সৌভাগ্যবান মনে করব।
জাতীয় দলে থিতু হতে না পারা
নিয়ে প্রায়ই আফসোস বাক্য শোনান ইমরুল। এর জন্য নির্বাচকদের দায় কতটা দেখেন তিনি। ইমরুল
বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না। যেটা হয়েছে, আমি মনে করি সেটা
আমার কপালে ছিল। আমি বলব না, আমি শতভাগ ঠিক ছিলাম। আমি হয়তো আরও ভালো খেলতে পারতাম।
ভালো খেললে হয়তো ধারাবাহিক সুযোগ পেতাম। তবে হ্যাঁ, সুযোগগুলো যদি আরেকটু শিথিল থাকত,
তাহলে হয়তো আমার ক্যারিয়ারটা ভিন্ন হতো। আমিও জানতাম না, খেলার পর আমি পরের ম্যাচে
বা পরের সিরিজে থাকব কিনা। এজন্য একটু কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আর হতাশা নেই। আমি চেয়েছিলাম
বাংলাদেশ দলকে আরও সার্ভিস দিতে। আমার পিক টাইমে আমি ভালো খেলছিলাম, চেয়েছিলাম দেশকে
আরও কিছু দিতে। যেটা বললাম, হয়তো কপালে ছিল না। ভাগ্যে আমি বিশ্বাস করি।’