প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ২০:০৩ পিএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ২১:২০ পিএম
পাপনের গোলে বছরের শেষটা রাঙালো বাংলাদেশ। ছবি : আ. ই. আলীম
খেলার নির্ধারিত সময়ের পরও দুই দলের স্কোরলাইন সমান। ম্যাচটা ড্রয়ের দিকেই যাবে কি না, এমন ভাবনা যখন সমর্থকদের মধ্যে, তখনই সামনে এগিয়ে আসলেন পাপন সিং। বদলি হিসেবে নামা এই তরুণের দারুণ গোলে জেগে উঠল ঝিমিয়ে পরা কিংস অ্যারেনার গ্যালারি। দুঃস্বপ্নের মতো বছর কাটানোর পর শেষটা দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে রাঙালো হাভিয়ের কাবরেরার দল।
শনিবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে ২-১ ব্যবধানে মালদ্বীপকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এর আগে গেল বুধবার একই মাঠে ১-০ গোলে হেরেছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এদিনও শুরুতেই মালদ্বীপের আলি ফাসিরের গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। বিরতির আগে দলকে সমতায় ফেরান মজিবর রহমান জনি। আর যোগ করা সময়ে বাংলাদেশের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন পাপন সিং। এ নিয়ে ২০২৪ সালে খেলা আট ম্যাচে দুটিতে জয় তুলে নিল লাল সবুজের জার্সিধারীরা। এর আগে বছরের একমাত্র পাওয়া জয়টি ছিল ভুটানের বিপক্ষে, গত সেপ্টেম্বরে।
একাদশে এদিন এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা সায়েদ কাজেম কিরমানির জায়গায় সুযোগ পান মজিবর রহমান জনি। প্রথম ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দারুন খেলেন এই মিডফিল্ডার।
খেলার ষষ্ঠ মিনিটে মালদ্বীপের বক্সে কিছুটা আতঙ্ক ছড়ায় বাংলাদেশ। ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন জনি। তবে তার দেওয়া অসময়ের পাস থেকে সুবিধা আদায় করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে তপু বর্মনের ভুল পাস থেকে ঠিকই ফায়দা তুলে নেয় মালদ্বীপ। তপুর ভুলের মাশুল দিয়ে খেলার ২৪ মিনিটে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগিতকরা। আগের ম্যাচের মতো এবার মালদ্বীপকে এগিয়ে দেন আলি ফাসির। প্রথম ম্যাচের ১৮ মিনিটে তিনিই লিড এনে দিয়েছিলেন দলকে। বক্সের বা প্রান্ত থেকে দেওয়া তপুর পাস বাংলাদেশের অর্ধে পেয়ে যায় মালদ্বীপ। ফিরতি পাস পেয়ে তপু আর সাদ উদ্দিনকে কাটিয়ে আলি ফাসির পরাস্ত করেন মিতুলকে। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক দৃষ্টিকটু ব্যাক পাস দিয়ে গেছেন তপু। শেষ পর্যন্ত নড়বড়ে তপুতেই সর্বনাশ ডেকে আনে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ গোলের সুযোগ পায় খেলার ৪০ মিনিটে। রাকিবের আড়াআড়ি ক্রস থেকে গোলমুখে শট নেন ফাহিম। মালদ্বীপের গোলরক্ষক হুসাইস শারিফ ফিস্ট করলে বক্সেই বল পান মোরছালিন, এবার এই স্ট্রাইকারের শট যায় বক্সের অনেকটা উপর দিয়ে। পরের মিনিটে বাংলাদেশের আরেকটি আক্রমণ প্রতিহত হয় মালদ্বীপের রক্ষণের সামনে।

৪৩ মিনিটে মোরছালিন সঙ্গে ফাহিমের দেওয়া নেওয়ার পর বল পেয়ে যান জনি। পায়ে বল নিয়ে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের চারজন ডিফেন্ডারকে বোকা বাকিয়ে জোড়ালো শট নেন গোলে। মালদ্বীপের গোলরক্ষক ডান দিকে ঝাপিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলেও বলের নাগাল পাননি তিনি। বিরতির দুই মিনিট আগে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় গোলের দেখা পেলেন জনি। গত বছর জুনে নম পেনে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা ম্যাচে গোল করেছিলেন জনি। আর ২০২৪ সালে এ নিয়ে তৃতীয় গোলের দেখা পেল বাংলাদেশ।
বিরতির পর ফিরে আক্রমণের ধার বজায় রাখে বাংলাদেশ। দুই মিনিটের মাথায় সুযোগও আসে। যদিও রাকিবের শট গোলপোস্টের উপর দিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন মালদ্বীপের গোলরক্ষক হুসাইন শারিফ।
৫৩ মিনিটে বাংলাদেশকে বাঁচান মিতুল। আহমেদ রিজুয়ানের ক্রস থেকে সরসরি গোলে হেড নেন আলি ফাসির। তবে প্রস্তুত ছিলেন মিতুল, দারুণ প্রচেষ্টায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। পরে দ্রুত বল ক্লিয়ার করেন সাদউদ্দিন।

৬৭ মিনিটে শর্ট থ্রো নেওয়ার পর মালদ্বীপের হুসাইন সিফাউ ইউসুফ সরাসরি শট নেন গোলে। তবে ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন মিতুল।
৭১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন আনেন কোচ কাবরেরা। ফাহিমের জায়গায় নামেন শাহরিয়ার ইমন। জনিকে বদলি করে নামানো হয় চন্দন রয়কে। ৭৭ মিনিটে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় পিয়াস আহমেদ নোভার। মোরছালিনকে তুলে এই তরুণকে নামান কোচ।
৮৪ মিনিটে ম্যাচের গোল্ডেন সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে শাহরিয়ার ইমনের দুরপাল্লার শট যায় মালদ্বীপের গোলরক্ষক বরাবর। তবে বল নিযন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। বলের লাইনে বক্সে দিকে দৌড়ে যান নোভা। গোলরক্ষকের ভুলে গোলমুখের সামনে ফাকায় বল পেয়েও জালে বল জড়াতে পারেননি অভিষিক্ত নোভা। তার দুর্বল শট যায় বক্সের বা পাস ঘেষে। চার মিনিট পর ইমনের ফ্রিকিক থেকে হেডে তপুও পারেননি কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দিতে।
যোগ করা সময়েরে তিনি মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে সুর বেধে দেন রহমত মিয়া। এরপর ইমনের আড়াআড়ি ক্রসে পপ্লিসিং শটে গোলমুখ থেকে জাল কাঁপান পাপন সিং। জাতীয় দলের হয়ে এটি পাপনের প্রথম গোল। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওযার পর বাকি সময়টা কোনো বিপদ ছাড়াই কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশ।