প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১২:১৩ পিএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:১৩ পিএম
ওয়ানডে ও টেস্টে সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না ভারতের। তবে টি-টোয়েন্টিতে রীতিমতো উড়ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সর্বশেষ বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এক ইনিংসে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিল তারা। ঘরের মাঠে শুরু করা সে ঝড় দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও টেনে এনেছে সূর্যকুমার যাদবের দল।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে দুবার ২০০ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছিল ভারত। এবার শেষ ম্যাচে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন ও তিলক ভার্মা। এ দুজনের জোড়া সেঞ্চুরিতে উড়ে গেছেন প্রোটিয়ারা! ১৩৫ রানের রেকর্ড গড়া জয়ে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজটাও নিজেদের ঘরে তুলেছেন সফরকারীরা।
শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) জোহানেসবার্গে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রান সংগ্রহ করে ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২০ রান করেন তিলক। এ ছাড়া স্যামসনের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১০৯ রান। জবাবে ১৮.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রানের বেশি করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ৩ ওভারে ১০ রান তুলতেই সাজঘরে ফেরেন দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডারের চার ব্যাটার। রেজা হেনড্রিক্স (০), অধিনায়ক এইডেন মার্করাম (৮) ও হেনরিক ক্লাসেনকে (০) সাজঘরে পাঠান আর্শদ্বীপ সিং। রায়ান রিকেলটনকে (১) ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া।
এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে ত্রিস্টান স্টাবস ও ডেভিড মিলার মিলে ৮৬ রান যোগ করেন। স্টাবসের ২৯ বলে ৪৩ আর মিলারের ২৭ বলে ৩৬ রানের সুবাদে ৩ অঙ্ক ছুঁয়েছে দলীয় রান। শেষ দিকে মার্কো জানসেনের ১২ বলে অপরাজিত ২৯ রানের ক্যামিও ইনিংসেও নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানের হার এড়াতে পারেননি প্রোটিয়ারা।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ভারতের দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। ১৮ বলে ৩৬ রান করে অভিষেক ফিরে গেলে ভাঙে ৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর তিলক ভার্মাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ২১০ রানের জুটি গড়েন স্যামসন; যা টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটে ভারতের সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ।
এ জুটি গড়ার পথে ৫১ বলে ৩ অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন স্যামসন। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে অপরাজিত ১০৯ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। যেখানে ৬ চার ও ৯ ছক্কার মার ছিল। আর তিলকের ৪৭ বলে ১২০ রানের টর্নেডো ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ১০ ছক্কার মার।
ম্যাচে একাধিক রেকর্ডও গড়েছে ভারত। চলতি পঞ্জিকাবর্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন স্যামসন; যা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক পঞ্জিকাবর্ষে তিনটি সেঞ্চুরির রেকর্ড। ৮ নভেম্বর ডারবানে ১০৭ করেছিলেন স্যামসন। আর ১২ অক্টোবর হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১ রান করেন এ ওপেনার।
২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টিতে নবমবারের মতো ২০০ ছোঁয়া স্কোর করল ভারত, যা এক পঞ্জিকাবর্ষে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে চারটি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি হয়েছে, যা সর্বোচ্চ। এটি ছাড়া কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুটির বেশি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির নজির নেই।
জোহানেসবার্গে গত রাতে ১ উইকেট হারিয়ে ২৮৩ রান করেছে ভারত, যা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে দলীয় সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৫৮/৫। স্যামসন ১০৯* ও তিলক ১২০*। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের এক ইনিংসে দুই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরির কীর্তি এটাই প্রথম।
এ ছাড়া ভারত এ বছর ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২২টিতেই জিতেছে। শতকরা জয় ৯২.৩০%, যা আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর এক পঞ্জিকাবর্ষে কমপক্ষে ১০ ম্যাচ খেলার নিরিখে সর্বোচ্চ। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন ভারতের তিলক ভার্মা। অন্য চারজন ফ্রান্সের গুস্তাভ ম্যাককেয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশো, ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট ও ভারতের সঞ্জু স্যামসন।
ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী এ সিরিজে ১২ উইকেট নিয়েছেন, যা চার বা এর চেয়ে কম ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে যেকোনো বোলারের সর্বোচ্চ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত : ২০ ওভারে ২৮৩/১ (তিলক ১২০*, স্যামসন ১০৯*, অভিষেক ৩৮; সিপামলা ১/৫৮)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৮.২ ওভারে ১৪৮/১০ (স্টাবস ৪৩, মিলার ৩৬, ইয়ানসেন ২৯*; অর্শদীপ ৩/২০, অক্ষর ২/৬, বরুণ ২/৪২)।
ফল : ভারত ১৩৫ রানে জয়ী।
সিরিজ : চার ম্যাচের সিরিজ ভারত ৩–১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তিলক ভার্মা।
ম্যান অব দ্য সিরিজ : তিলক ভার্মা।