ফিফা প্রীতি ম্যাচ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১১:১১ এএম
ফিফা র্যাংকিংয়ে উন্নতির জন্য গেল সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে অপেক্ষাকৃত কম শক্তিধর দলকে বেছে নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু ভুটানের বিপক্ষে খেলা দুটি প্রীতি ম্যাচের একটিতে হেরে বসে হাভিয়ের কাবরেরার দল। এএফসি বাছাইয়ে ভালো অবস্থানে থাকতে নভেম্বর উইন্ডোর আগে বাংলাদেশ আবার জোর দেয় র্যাংকিং বাড়ানোয়। এবার ঘরের মাঠে আতিথেয়তা দেয় মালদ্বীপকে। দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে এবারও হেরে বসে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। হতাশার হারের পর এবার অন্তত জয় দিয়ে বছরটা শেষ করতে চাইছেন তপু বর্মণ, রাকিব হোসেনরা।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় আজ গড়াবে দুই দলের মধ্যকার দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি। সন্ধ্যা ৬টায় খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস। প্রথম ম্যাচের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার জয়ই চাইছে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগের দিন শুক্রবার দলের প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচের ফলাফলটা আমাদের জন্য হতাশাজনক এবং সেইসঙ্গে বেদনাদায়ক ছিল। ছেলেদের কাছ থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আশা করেছিলাম, প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি; আমরা জিততে চেয়েছিলাম; কিন্তু পারিনি। মানসিকভাবে খেলোয়াড়দের জন্য সেটা মেনে নেওয়া সহজ ছিল না। গতকাল (বৃহস্পতিবার) আমরা যে কারণে রিকভারি সেশনে গুরুত্ব দিয়েছি। শারীরিক ও মানসিকভাবে ছেলেরা এখন ভালো আছে। তারা জিমে, সুইমিংপুলে এবং আমাদের ফিজিওর সঙ্গে সেশন করেছে। এই ম্যাচের আগে আবারও ওদের কাছে প্রত্যাশা অনেক; আমি আগামীকালকের (আজ) দিকে তাকিয়ে আছি এবং জয় খুঁজছি।’
কিংস অ্যারেনায় প্রথম ম্যাচে ১৮ মিনিটে গোল হজম করে বাংলাদেশ। মালদ্বীপের আলি ফাসিরের সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ করে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার ইমন ও জনিরা। কিন্তু ফিনিশিং দুর্বলতায় গোল পায়নি বাংলাদেশ। এই ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের কাছে কোচের চাওয়াটাও পরিষ্কার, ‘আগের ম্যাচের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কী বলব, সত্যি বলতে ফিনিশিং জোনে গিয়ে বারবার ফিরে এসেছি, ক্রসে সুবিধা করতে পেরেছি, ম্যাচের বেশিরভাগ সময় ওদের বক্সেও ছিলাম, এটা বলা মুশকিল যে সব দিনই এটা করা যাবে। তবে আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে, পুশ করতে হবে, সত্যি বলতে এটা করে যেতে পারলে আশা করি গোল পাব।’
ওই দিন বাংলাদেশকে ভুগিয়েছে মালদ্বীপের গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচটি সেভ করেছেন তিনি। তারপর বল বারে লেগে ফিরে না এলে ফলাফলটা অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু দিনটা বাংলাদেশের ছিল না। ভালো খেলা নয়, অনেকেই চান ফলাফল। যে কারণে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন ফুটবলাররা। ফলাফল পক্ষে না এলে এমন রোষানলে পড়তে হবে সেটি জানা দলের মিডফিল্ডার সোহেল রানার, ‘আমরা প্রথম ম্যাচটা আসলে ভালো খেলেছি, তারপরও দিনশেষে আমরা হেরে গেছি। তো আমাদের ভালো খেলাটা কেউ মূল্যায়ন করবে না, এটাই স্বাভাবিক। আমরা চাইব যে কালকের (আজ) ম্যাচটা জেতার জন্য। এই সামর্থ্য আমাদের আছে, আমি মনে করি, ম্যাচটা আমরা জিততে পারব।’
প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে এবার বেরিয়ে আসতে চায় বাংলাদেশ। গোলের জন্য কেবল ফরোয়ার্ডদের ওপর ভরসা নয়, সুযোগ এলে যে কাউকে নিতে হবে দায়িত্ব। এমনটাই বলছিলেন সোহেল রানা, ‘আসলে প্রথম ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিত ছিল। কারণ গোলের অনেক সুযোগ পেয়েছি কিন্তু আমরা আসলে ওইটা কাজে লাগাতে পারিনি। তো প্রথম ম্যাচ থেকে আমরা এখন ফোকাস করতেছি পরের ম্যাচে। আশা করি, পরের ম্যাচে আমরা আরও ভালোভাবে ফিরে আসব। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের আত্মবিশ্বাস আছে, যে আমরা খুব শক্তভাবে ফিরে আসব। আসলে দেখেন ম্যাচ খেলার পর আমাদের হোটেলে রিকভারি সেশন ছিল। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই রিকভারি করতে পেরেছি। আমাদের ফরোয়ার্ডদের ওপর আশা করে থাকা যাবে না। যে কারও কাছে সুযোগ আসছে কাজে লাগাতে হবে।’
মুখোমুখি মোট ম্যাচ- ১৯
বাংলাদেশের জয়- ৮
মালদ্বীপের জয়- ৭
ড্র- ৪
ফিফা র্যাংকিং
বাংলাদেশ- ১৮৫
মালদ্বীপ- ১৬৩