প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:৩৫ পিএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:৩৭ পিএম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজটাও নিজেদের করে নিয়েছে আফগানরা৷ এই ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডে অভিষেকের স্বাদ পেয়েছেন টাইগার পেসার নাহিদ রানা। তার গতিময় বোলিং সবার নজর কেড়েছে। ম্যাচ হারলেও ডানহাতি এই গতিতারকার বোলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও।
১৫০ কিলোমিটার গতির বল করা রানাকে নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স বলেন, ‘আসলে আমি জিনিসটা যেভাবে দেখি তা হচ্ছে, গতি এমন একটা জিনিস যা আপনি বাজার থেকে কিনতে পারবেন না। আপনি কাউকে দ্রুত বোলিং করতে শেখাতে পারবেন না। ফলে তার মাঝে এই প্রতিভাটা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করব যত বেশি সম্ভব এই এক্সাইটিং ট্যালেন্টের যত্ন নিতে। সেও দারুণ এক্সাইটিং ক্রিকেটার। অ্যাটিটিউড, বলের গতি সবকিছু মিলিয়েই। দারুণ লেগেছে তার খেলা দেখতে, চেষ্টা করে যাব তাকে গড়ে তুলতে।’
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে বেশ বাজে অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে অবশ্য টাইগাররা পথ খুঁজে পায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর মেহেদি হাসান মিরাজের রেকর্ড জুটির সুবাদে। ১৪৫ রানের সেই জুটি ছিল শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেকোনো উইকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। সিমন্স অবশ্য কথা বলেছেন সেই জুটির পক্ষেই, ‘আসলে তাদের (রিয়াদ-মিরাজের) জুটিটা ভালো হয়েছে। শুরুর দিকটায় ভালোই করছিল। ক্রিজে সেট হয়ে গেল। জুটি গড়তে গেলে অনেক সময় এরকমটা হয়ে থাকে। সে যখন স্লো খেলছিল মাহমুদউল্লাহ তখন চালিয়ে খেলেছে। ফলে তাদের জুটিটা ভালো হয়েছিল।’
রিয়াদের ৯৮ বলে ৯৮ রানের ইনিংসেরও প্রশংসা করতে ভুললেন না সিমন্স, ‘দুর্দান্ত ইনিংস। প্রথম দুই ইনিংসে সে রান পায়নি। তবে আজকে এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে খেলে গেছে। সে যখন সেট হয়ে গেল এরপর বেশ সহজেই রান তুলেছে। ফলে আমার কাছে মনে হয় দারুণ ইনিংস ছিল।’
বোলারদের চেষ্টার পরেও ম্যাচটা জিতে নিয়েছে আফগানিস্তান। সিমন্সের ভাষ্যে, ‘আসলে যখন (আজমতউল্লাহ) ওমরজাই আসল, তারা জুটি গড়তে শুরু করল। ভালো দুইজন ব্যাটার, ফলে তখন যদি উইকেট নিতে না পারেন তাহলে তো জুটি বড় হবেই। যা পরে ম্যাচটা আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’
অবশ্য এই ম্যাচের উইকেটের প্রশংসা করতেও কার্পণ্য করেননি বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই কোচ, ‘আমি অবশ্যই বলব, শারজাহতে আমার অনেক দিনের মধ্যে দেখা সেরা উইকেট ছিল এটি। প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। তবে আজকে ভালো ছিল। ফলে তারা উইকেটের ফায়দাটা কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যাটিং চালিয়ে গিয়েছে।’
ফিল সিমন্সের বাংলাদেশের আগমন অনেকটাই আকস্মিক। চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর আসন্ন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত টাইগার প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। তার কোচিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ভালো কাটেনি। এবার এই কোচের নজর নিজ দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে, ‘আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে দুই টেস্টের সিরিজ ভালো যায়নি, এখানেও ভালো সিরিজ যায়নি। সেন্ট কিটসে ওয়ানডে সিরিজে এখানকার মত কন্ডিশনই থাকবে। সেন্ট ভিনসেন্টে কেমন কন্ডিশন আমি আসলে তা বলতে পারছি না। টেস্ট খেলা অ্যান্টিগা আর জ্যামাইকাতে। ছেলেরা সিরিজের জন্য মুখিয়ে আছে।’
টাইগার কোচ অবশ্য ক্যারিবীয় সফরে চোটে আক্রান্ত একটা স্কোয়াডকেই পাচ্ছেন। ইনজুরিতে পড়ে টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ উইকেটকিপার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তারা না থাকলেও লড়াই করার কথা বললেন সিমন্স, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের বেশ কিছু চোটসমস্যা রয়েছে। তবে আমাদের এখান থেকেই লড়াই করতে হবে এবং সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।’