প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ০০:৩৬ এএম
আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১১:০০ এএম
চলতি বছর মাত্র একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ দল। মার্চে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল টাইগাররা। দীর্ঘ আট মাস পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের পছন্দের ফরম্যাটে খেলতে নেমে সিরিজ খুইয়ে বসলেন লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।
দুবাইয়ের শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে আফগানদের কাছে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও ৫ উইকেটে হার মেনেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।এর আগে প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৯২ রানে হার মানলেও পরের ম্যাচে ৬৮ রানে জিতে সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে অলিখিত ফাইনালে বাংলাদেশের ২৪৪ রানের সংগ্রহ ১০ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় আফগানরা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে টানা দুই ওয়ানডে সিরিজে হারাল তারা। গত বছর বাংলাদেশের মাটিতেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল হাশমতউল্লাহ শহীদির দল।
এদিন টাইগার নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় এ ম্যাচে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। নিজের শততম ওয়ানডের মাইলফলক ছোঁয়ার ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওপেনিংয়ে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটি থেকে চলে আসে ৫৩ রান। দারুণ খেলতে থাকা সৌম্য কাটা পড়েছেন ২৩ বলে ২৪ রান করে। পরের ওভারে তানজিদের উইকেটও হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ, ২৯ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন তিনি।
শান্তর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া ৩-এ নামা জাকির হাসান আলো ছড়াতে পারেননি। ৭ বলে ৪ রান করে তানজিদ আউট হওয়ার পরের ওভারেই রানআউট হন তিনি। তাওহিদ হৃদয় কিছুক্ষণ টিকেছেন বটে, তবে রান করতে পারেননি বেশি। ১৪ বলে ৭ রান করে বিদায় নেন। ৭২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল।
সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধারের অভিযানে নামেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ঠান্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন দুজন। রিয়াদ কিছুটা চালিয়ে খেলেছেন, আরেক প্রান্তে মিরাজ এগিয়েছেন ধীরেসুস্থে। দুজনের কার্যকর ব্যাটিংয়ের ফলে ধীরে ধীরে চাপ কমতে থাকে। উইকেটে দারুণভাবে জমে যান রিয়াদ-মিরাজ। দুজনের জুটিতে চড়ে বাংলাদেশও এগোতে থাকে ভালোভাবে। বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংয়ে রান বের করতে থাকেন রিয়াদ। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটিও। মিরাজ ধীরেসুস্থে এগোলেও উইকেট ছুড়ে দিয়ে আসেননি। কিছুটা সময় নিলেও ফিফটি ছুঁয়েছেন তিনিও।
ফিফটির পর কিছুটা চালিয়ে খেলেছেন মিরাজ। রিয়াদও সাবলীল ব্যাটিংয়ে হাঁকিয়েছেন একের পর এক বাউন্ডারি। দুজনের অনবদ্য জুটি থেকে এসেছে ১৪৫ রান। ১১৯ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে দলের ২১৭ রানের মাথায় থামেন মিরাজ। রিয়াদ ততক্ষণে অবশ্য ছুটছেন সেঞ্চুরির দিকে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে আগ্রাসি ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন রিয়াদ। সঙ্গে একটু একটু করে এগিয়েছেন সেঞ্চুরির দিকে। একদম শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে ছিলেন রিয়াদ। সেঞ্চুরির অনেক কাছে চলে গেলেও ছোঁয়া হয়নি ৩ অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারটা। একদম শেষ বলে রানআউট হওয়ার আগে ৯৮ বলে ৯৮ রানের ইনিংস খেলেছেন সাইলেন্ট কিলার।
মাঝে ৬ বলে ৫ রান করেন নাসুম আহমেদ। এ ছাড়া ২ বলে ২ রান করে টিকে ছিলেন শরিফুল ইসলাম। নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তোলে ২৪৪ রান। আফগানিস্তানের হয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এ ছাড়া ১টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান।
রান তাড়ায় শুরুর দিকে ৩ উইকেট তুলে নিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে আফগানিস্তানের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তাকে একের পর এক সুযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকে বাংলাদেশের ফিল্ডার। একাধিক জীবন পেয়ে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। চতুর্থ উইকেটে ওমারজাইয়ের সঙ্গে তিনি গড়েন ১০০ রানের জুটি। দলীয় ১৮৪ রানের মাথায় তিনি বিদায় নেন। সাজঘরে ফেরার আগে ১২০ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন এ উইকেটকিপার-ব্যাটার।
গুরবাজ ফেরার পর মোহাম্মাদ নবিকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন ওমারজাই। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তারা দুজন ৪৮ বলে যোগ করেন ৫৮ রান। ওমারজাই ৭৭ বলে ৭০ ও নবি ২৭ বলে ৩৪ রান করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমান। অভিষেকে গতির পসরা সাজিয়ে নজর কাড়েন নাহিদ। উইকেট না পেলেও ১০ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচ করেন নাসুম আহমেদ। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরা হন ওমরজাই। আর সিরিজসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ নবি।