× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খেলার তাড়না হারিয়ে বসেছেন শান্তরা?

হেলাল নিরব

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ২১:২৪ পিএম

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ২১:২৫ পিএম

 চট্টগ্রাম টেস্টে ফেরার স্বপ্ন দেখা শান্তদের ঘুমই ভাঙেনি, ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেখানে এসেছে ইনিংস ও বড় ব্যবধানে হার। যেন হারকেই নিয়তি মেনে নিয়েছেন টাইগাররা— ছবি: আ. ই. আলীম

চট্টগ্রাম টেস্টে ফেরার স্বপ্ন দেখা শান্তদের ঘুমই ভাঙেনি, ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেখানে এসেছে ইনিংস ও বড় ব্যবধানে হার। যেন হারকেই নিয়তি মেনে নিয়েছেন টাইগাররা— ছবি: আ. ই. আলীম

প্রবাদ আছে, ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিব কোথা?’ বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান হালহকিকত অনেকটা এমন। ব্যাটিংয়ে সমস্যা, বোলিংয়েও সমস্যা, ফিল্ডিংটাও ঠিকঠাক হচ্ছে না। সমস্যার সূত্রপাত গোড়াতেই, যার আক্ষরিক নাম— মানসিকতা। চারদিকে এত যখন সমস্যা তখন কিছু জিততে পারা কঠিনই বটে! টাইগাররাও পারেননি। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে না ক্রিকেটের আভিজাত ফর্ম টেস্ট— সবকটিতেই মুর্মূর্ষু। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যেমন গত পরশু বাস্তবতার কথাটাই মলিন মুখে শুনিয়েছেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে এ রকম ফলাফলই হবে।’

ফল কীরকম হচ্ছে, তা ক্রিকেটের পাড় ভক্ত না হলেও জেনে গেছেন। টাইগার ব্রিগেডদের নিয়ে নেট দুনিয়ায় যা সব ট্রল, তাতে ক্রিকেটারদের অসহায় আত্মসমর্পণ চোখ এড়ানোর কথা না। ভারতের বিপক্ষে চেন্নাই টেস্ট গেল, কানপুরে লজ্জা আসল বড়সড়। এরপর মিরপুরে অসহায়ত্ব এবং চট্টগ্রামে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়া। এই চারটি টেস্ট তথা দুটি সিরিজের আগে অবশ্য আশার পারদ জমেছিল। শান্ত তখন প্রায়ই বলতেন, ‘দল হিসেবে খেলতে পারলে, যেকোনো দলকেই হারাতে পারব।’ তারা পেরেছিলেনও।

পাকিস্তানের মাটিতে তাদেরকেই হারিয়েছেন। টেস্ট হারিয়েছেন, সিরিজ জিতেছেন। বিশাল ব্যাপার। বাংলাদেশের দুই যুগ পেরোনো টেস্ট ক্রিকেটও তখন ভেবে বসেছিল, ‘এবার বুঝি কিছু পাব।’ সেই পাওয়া আর টিকল কই! শান মাসুদদের বিপক্ষে দাপট দেখিয়ে আসা শান্তরা ভারতে লেজেগোবরে। সাবেক রানারআপ রোহিত শর্মাদের কাছে হার আসবে, অনেকটা অনুমেয় ছিল। কিন্তু শান্তরা যে অমন করেও হারতে পারে, তা বোধহয় জানা ছিল না। হয়তো জানা ছিল, শান্তরা স্রেফ আরেকবার মনে করিয়ে দিয়েছেন সেবার। ওই হারের স্মৃতি যেন না ভোলে, সেই কাজটাও দারুণভাবে করে রেখেছেন শান্তরা। ঘরের মাঠে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের মেয়াদ পাঁচ দিনে নিতে পারেননি। রানপ্রসবা চট্টগ্রাম টেস্ট দুই হাত উপুড় করে দিয়েছে। কিছুই থাকেনি তালুতে বন্দি। দুই টেস্টের সিরিজে ধবলধোলাইয়ের থেকেও বেশি আলোচনায় শান্তদের হারের ধরন। সমর্থকদের মতো অধিনায়ক, খেলোয়াড় কোচরাও যেন অবাক হয়েছেন, ‘এভাবেও হারা যায়!’

টেস্টে টপ অর্ডার থেকে যদি জুটি না হয়, তাহলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য খুবই কঠিন। ওপরে যারা ব্যাটিং করে, তারা কী চিন্তা করে বা কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়, আমি জানি না। তবে এভাবে চলতে থাকলে এ রকম ফলাফলই হবে।

— নাজমুল হোসেন শান্ত, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক

ঢাকায় ৭ উইকেটে হেরে চট্টগ্রামে ফেরার স্বপ্ন দেখা শান্তদের ঘুমই ভাঙেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাগরিকায় আসে ইনিংস ও ২৭৩ রানের বিশাল হার। কারণ কী, কেন হেরেছেন বা পরিত্রাণের উপায় কী? অধিনায়ক হিসেবে শেষের ক্ষণ গোনা শান্ত উত্তরে শুনিয়েছিলেন রিয়েলিটি, ‘(তিন দিনেই হার) অবশ্যই খুবই হতাশাজনক। এগুলো থেকে বোঝা যায় আমাদের কত উন্নতির জায়গা আছে। পাকিস্তানে ভালো ক্রিকেট খেলেই জিতেছি। মাঠে, মাঠের বাইরে অনেক জায়গা আছে, যেখানে আমাদের উন্নতি করতে হবে।’ সেই ঘাটতির জায়গাটাও বেশ প্রশস্ত। শান্ত শুধু ওপরের ঘায়ের কথাটাই বলেছেন, ‘টেস্টে টপ অর্ডার থেকে যদি জুটি না হয়, তাহলে পরের ব্যাটসম্যানদের জন্য খুবই কঠিন। ওপরে যারা ব্যাটিং করে, তারা কী চিন্তা করে বা কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়, আমি জানি না। তবে এভাবে চলতে থাকলে এ রকম ফলাফলই হবে।’

শুধুই কি টপ অর্ডার? প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই হবে না। শান্তর বহুবার বলা ‘টিম গেম’ শব্দটির মতো দলেই মূল সমস্যা। পরিকল্পনার ঘাটতি, টিম সিলেকশনে সমস্যা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রস্তুতির অভাব এবং গড়পড়তা হেঁয়ালিটাও থাকবে। এসবের মাঝে অন্যতম যে দুটি সেটিই শান্ত সেদিন বলেছিলেন, দক্ষতা এবং মানসিকতার ঘাটতি।

ওসব তো ক্রিকেটারদেরই দেখতে হবে। স্কিলের ঘাটতি মিটলে মানসিকতায়ও উন্নতি আসবে। টিম গেমে বদলে যেতে পারে দলের ফলও। তিন দিনে অসহায় হার অন্তত দেখা যাবে না, নিশ্চয়!

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা