দ্য টেলিগ্রাফের দাবি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৫৫ পিএম
বিপিএলে শেষ দুবছরে ৩০টিরও বেশি দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু সাজা হয়নি একটিতেও— পুরোনো ছবি
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট মানেই টাকার ঝনঝনানি। বিশ্বজুড়ে ছোট ফরম্যাটের রমরমা সময়ে আর্থিক অসঙ্গতিও থাকছে, দুর্নীতিও হচ্ছে দেদারছে। সেই তালিকায় বিশ্বের অন্যসব ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও (বিপিএল) আছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ তাদের বিশেষ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিপিএলে শেষ দুবছরে ৩০টিরও বেশি দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু সাজা হয়নি একটিতেও।
টুর্নামেন্ট বাড়ার সঙ্গে দূর্নীতির ঝুঁকিও বেড়েছে। গত এক দশকে ক্রিকেটে ফিক্সিং ও দুর্নীতি রোধ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে আইসিসিকে। সংস্থাটির সাবেক দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের প্রধান স্টিভ রিচার্ডসন ক্রিকেটের অন্ধকার জগতের বিভিন্ন তথ্য জানিয়েছেন।
টেলিগ্রাফের ‘How cricket ate itself’ অর্থাৎ, ‘কীভাবে নিজেকেই খেয়েছে ক্রিকেট’ শিরোনামের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে চলা বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট ও লিজেন্ডস লিগে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। প্রতিবেদনে বিপিএল বিষয়ে বলা হয়, অন্য অনেক লিগের মতো বিপিএলও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য আইসিসিকে তালিকাভূক্ত করেনি। বিপিএল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয় না উল্লেখ করে প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘সর্বশেষ দুই বছরের বিপিএলে ৩০টির বেশি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু একজনও নিষিদ্ধ হয়নি। প্রায়ই দুর্নীর্তির অভিযুক্তরা প্রমাণ হওয়ার আগপর্যন্ত বছরের পর বছর খেলায়ও থেকে যান।’
সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন অনেক ক্রিকেটারই এসব ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে চাইলেও তারা নিরাপত্তারহীনতার কারণে করেন না। পাওনা না পাওয়া সহ দল হারানোর ভয় পান তারা। শুধু সরাসরি কাউকে ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব দেয়া হলেই সেই খবর জানান কতৃপক্ষকে। অনেক সময় সন্দেহ থাকলেও কেউ মুখ খুলেন না।
বিপিএলে দুর্নীতির ঘটনা লুকানো কিছু নয়। টুর্নামেন্টটির দ্বিতীয় আসরে একাধিক ম্যাচে ফিক্সিংয়ের প্রমাণ পেয়েছিল আইসিসি। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে চট্টগ্রামে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস-চিটাগং কিংসের ম্যাচ নিয়ে ছিল সন্দেহ। সন্দেহের তালিকায় ছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের আরও দুটি ম্যাচ। এর মধ্যে খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস ও বরিশাল বার্নাসের মধ্যকার ম্যাচে ফিক্সিংয়ের প্রমাণও পেয়েছিল আকসু।