আনিসুর রহমান, ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ২২:১৬ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ২২:২৭ পিএম
ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের ক্ষুধে নারী ফুটবলারদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করছেন অধ্যাপক মালা রাণী সরকার।
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামবাসীর আনন্দের উচ্ছ্বাস যেন থামছেই না। দ্বিতীয়বারের মতো নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ দলের ১১ সদস্যের ৬ জনই যে কলসিন্দুরের। এই ছয় নারী ফুটবলারের পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যে বইছে আনন্দের আবহ।
সানজিদা আক্তার, মারিয়া মান্দা, শামছুন্নাহার সিনিয়র, শামছুন্নাহার জুনিয়র, তহুরা খাতুন, শিউলি আজিমÑ কলসিন্দুরের এই ছয় তরুণপ্রাণ সামাজের নানা প্রতিবন্ধকতা ও কুসংস্কার পায়ে মাড়িয়ে দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের রূপকথার গল্প লিখে চলছেন।
২০১১ সালে কলসিন্দুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে কলসিন্দুরে শুরু হয় নারী ফুটবলের উত্থানের যাত্রা। ২০১২ সালে প্রথমবার বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ টুনামেন্টে রানার্সআপ হয়ে সাফল্যের পথযাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কলসিন্দুর নারী ফুটবল দলকে। ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় কলসিন্দুর প্রাথামক বিদ্যালয়। পরের বছর ২০১৪ সালে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে কলসিন্দুরের ১০ জন নারী ফুটবলার। এরপর থেকেইে জাতীয় দলে দাপট দেখিয়ে আসছে কলসিন্দুরের মেয়েরা।
গত বুধবার স্বাগতিক নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলার দামাল মেয়েরা। সাফজয়ী সানজিদা দেখছেন হ্যাট্রিক শিরোপার স্বপ্ন। টানা সাফল্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে খুবই ভালো লাগছে, এবার হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।
এদিকে মেয়েদের জয়ে আনন্দের বন্যা বইছে সমগ্র ধোবাউড়ায়। খুশি মেয়েদের অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। সানজিদার বাবা লেয়াকত আলী বলেন, আমার মেয়ে ফুটবল খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে, আমি অনেক খুশি।
তহুরার বাবা ফিরোজ মিয়া বলেন, শুরুতে ফুটবল খেলতে অনেকে নিষেধ করতাম, এখন দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে, বাবা হিসেবে আমার কাছে খুবই আনন্দের।
কলসিন্দুর সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক জবেদ তালুকদার বলেন, এই মেযেরা আমাদের প্রতিষ্ঠানেরÑ এটা গর্বের। স্বপ্ন দেখি ভবিষ্যতে এরা বিশ্ব জয় করবে।
কোচ জুয়েল মিয়া বলেন, আমাদের মেয়েরা জাতীয় দলে খেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে, এটা অনেক আনন্দের, গর্বের।
রবিউল আলম নামে স্থানীয় এক তরুণ বলেন, আমরা মোবাইলে খেলা দেখেছি। বাংলাদেশ জেতায় আমরা আনন্দ-উল্লাস করছি। বিশেষ করে আমাদের ধোবাউড়া উপজেলার ৬ জনকে খেলায় দেখে আরও বেশি আনন্দিত হয়েছি।