প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৪ ২২:৫৬ পিএম
প্রথম দুই ম্যাচে না পেয়ে আক্ষেপ করেছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। বলেছিলেন- ভাগ্যেই নাকি গোল নেই তার। তবে পরের দুই ম্যাচেই গোল পেয়েছেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড। ফাইনালে তো জয়সূচক গোলটিই আসে ঋতুর পা থেকে। তাতে ফাইনাল ও টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন ঋতু। ছবি : বাফুফে
হিমালয় জয়ের নেতৃত্ব দিলেন বাংলাদেশের পাহাড়ি কন্যারা। টান টান ম্যাচে ভাগ্য গড়ে দিলেন দুই চাকমা তনয়া- মনিকা ও ঋতুপর্ণা। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার লড়াইয়ে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে প্রথমে লিড এনে দেন মনিকা। কিন্তু এই লিড যথেষ্ট হয়নি। হার না মানা মানসিকতা দেখিয়ে ৩ মিনিটের মধ্যেই সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে ম্যাচের ভাগ্য। এমন রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে ৮১ মিনিটের সময় দৃষ্টিনন্দন এক গোলে শিরোপা উৎসবের উপলক্ষ এনে দিলেন ঋতুপর্ণা। বাকি সময়টা নিজেদের রক্ষণদুর্গ আগলে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার মুকুট নিজেদের কাছেই রাখল লাল-সবুজের দল।
বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশ নারী ফুটবল সাংস্কৃতিক বিপ্লবও। বহুত্বের এক বিনে সুতোর মালা। পাহাড়-সমতল সর্বোপরি শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ– আদিবাসীদের এক মিলনমেলা। নিজেদের জীবনীশক্তির সবটুকু ঢেলে দিয়ে লাল-সবুজের বিজয় কেতন ওড়ানোর এক কাফেলায় শরিক আমাদের নারী ফুটবলাররা। সহজ কথায়, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ম্যাচের ডেডলক ভাঙেন মনিকা। ৫২ মিনিটে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের কাছ থেকে তহুরা খাতুনের পা ঘুরে বল যায় মনিকার কাছে। জটলার মধ্য থেকে ঠান্ডা মাথায় আলতো টোকায় প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে দেন মনিকা। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।
বাংলাদেশ শিবিরের এই সুখস্মৃতি স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। নেপালকে সমতায় ফেরান আমিশা কারকি। টানা দ্বিতীয়বার সাফ শিরোপা স্বপ্নযাত্রায়, কে ত্রাতা হবেন লাল-সবুজের- বড় হয়ে উঠল এ প্রশ্নটিই। এরই মধ্য ম্যাচের বয়স পেরিয়ে গেল ৮০ মিনিট। ম্যাচের এমন সময়ে গোল করা দল শিরোপার পথে এগিয়ে যাবেÑ এটাই বাস্তবতা। এমন একটা স্নায়ুক্ষয়ী সময়ে আসরজুড়েই দুর্দান্ত খেলা ঋতুপর্ণা হয়ে ওঠেন আনন্দের উপমা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৯ মিনিট বাকি থাকতে একটা সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে বল পান তিনি। প্রতিপক্ষের কয়েকজন ডিফেন্ডার ঘিরে ধরেন তাকে। কিন্তু কোনোকিছুতেই আটকানো যায়নি চৌকস ঋতুপর্ণাকে। বাঁ-প্রান্ত থেকে নিলেন উঁচু শট। নেপালি গোলরক্ষকের নাগাল এড়িয়ে বল জড়িয়ে গেল জালে। ট্রফি নাগালের মধ্যে চলে এলো বাংলাদেশের।
আসরের প্রতিটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলার পুরস্কার হিসেবে প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কার জিতেছেন ঋতুপর্ণা। ম্যাচ শেষে আবেগঘন ভাষায় বলেন, আমি ভালো অনুভব করছি। এই প্রথমবার আমি টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছি। এটা আমার স্বপ্ন ছিল। আমরা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। সবার সমর্থনের কারণেই আমরা এতদূর এসেছি। আমার পরিবার থেকেও অনেক সমর্থন পেয়েছি।